ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

পদাবলি

পদাবলি
×
×

অলংকরণ :: ধ্রুব এষ

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

মর্নিং ওয়াক   
শামস আল মমীন
 
সকাল সকাল যেদিকটায় হাঁটতে যাই, একসময়
তা ছিল চিকলী নদীর ডেরা। এখন
তার দু’ধারে বাড়িঘর, ছোটদের স্কুল,
টং দোকান এবং সপ্তাহে দুদিন
গরু-ছাগলের হাট। মৃতপ্রায় জায়গাটা আজ
অস্থির বালকের মতো চঞ্চল। এর আশপাশ ঘিরে,
 
কাঠচেরাইয়ের ব্যবসা–
কাঠের গুঁড়িতে বসে গপ্প করে মাঝবয়সী মহিলা ক’জন।
ওরা বসে বসে সূর্যোদয় দেখে কিন্তু তার
সৌন্দর্য নিয়ে কোনোদিন কিছু বলে না। ভাত কাপড়ের
জোগান দিতেই ওদের দিন ফুরিয়ে যায়।
জোসনার মায়ে কয়, “অর বাপটা এমন কাম-চোরা না হইলে
জীবনটা হামার এত কঠিন হইল না হয়।”
 
ওদের বয়স হয়েছে, তাই ব্যাটাগুলা এখন
আগের মতো প্রেমিক ভাবটা দেখায় না আর।
কোনো কোনো দিন নদীপার দিয়ে হেঁটে হেঁটে বহুদূর চলে যায় ওরা।  
হাঁটতে হাঁটতে প্রেম-ভালোবাসার গল্পও করে। কেউ কেউ
হাসাহাসি করে। নদীর ছোট ছোট
ঢেউ দেখে কারও জোয়ান কালের গোপন কথাসব মনে পড়ে।
মর্নিং ওয়াক শেষে, সকলে–
গোল হয়ে বসি। গালগপ্পে নিমেষে ভেঙে খান খান, রাষ্ট্রের
কাঠামো-অবকাঠামো। একজন আমাকে জিজ্ঞেস করে,
আমেরিকা কেন বোমা ফেলছে, তেহরানে?
এর পক্ষে-বিপক্ষে তক্কাতক্কি শুরু হয়ে যায়, তারপর–
                               চলতে থাকে, চলতেই থাকে…

 

এক জীবনের চেয়ে ভারী
কামরুল হাসান

এত যে ভেঙেছি, নুয়েছি আর মিশেছি ধুলোয়
তুমি খুব উঁচু হয়ে ছিলে?
তোমার প্রাসাদ কেশর ফোলানো দীপ্র সিংহের মতো
বরফের তাপ তুলেছিল?

দক্ষিণ মেরুর হাওয়ায় ঝুর ঝুর করে ভেঙে গেছে!

এখানে কেউ খুব দীর্ঘ সময় থাকে না,
স্বল্পস্থিতির ভেতর কেন এত দুঃখ দাও
                          এত দীর্ঘ ভার–
যা এক জীবনে সহে না!

 

ফিফথ গ্রেড
দ্বিত্ব শুভ্রা 
 
তারে ঝুলানো কাপড়েরা বলে দিচ্ছে
ওখানে কারা থাকে।

দুই ফুটি গোসলখানায় ধরা জলের বালতি,
প্রতি মাসের শুরুতে খসিয়ে নেয় 
প্লাস্টার।

গুল্টি পাকানো চুলগুলো
উড়ে পড়ে নিচতলাতে। 
ওরা 
সূক্ষ্মভাবে কেটে নিতে পারে
সেই সব দীর্ঘ মাসের মতো লম্বা।

বিছানায় কয়েকটা আধপেটা বালিশ,
উপুড় হয়ে মুখ ঢেকে আছে
পঞ্চম শ্রেণির বইটা।

বছর পুরোনো ডায়েরির মাঝখানে
অপেক্ষা করে থাকে বলপয়েন্ট কলম,
সংখ্যায় লেখা আর্তনাদের গল্প।
লম্বা দাগে 
কখন ছুটি পাবে?

জং 
জমিয়ে বসা শার্পনারে।
ভোঁতা মুখ করে আছে
কমলা রঙের পেন্সিল।
জানে,
এখানে আর কিছু লেখার নেই।

 

কুত্রাপি 
দ্রাবিড় সৈকত 
 
জলভরা টলটলে আকাশ নামে দেহের দাওয়ায়
মেহেরগড়ের হাওয়া মহেঞ্জোদারোর চিঠি উয়ারী-বটেশ্বরের কাছে খুলে যায়
কহেন তো কারোর ভিটে বাড়িঘর কে করে বহন?
কারিগর কি করে দহন ভুলে মনমরা ময়ূরাক্ষিরে দেয় নিসর্গ নিরল!
বিরল পাকুড়ের নিচে আমাদের বসিবারকাল চলে যায় চাঁদোয়ার চকচকে দিন
আধোয়া হাতের মতো হরবোলা ভুলে গেছে প্রত্ন হরফ
ঘর তোলা শেষ হলে প্রকৃতির প্ররোচনা পাপের পথের মতো লাগে
ধরো, খনা বাপের মতের সাথে নেই, মিহিরের মুক্ত বসন
মিহি ঢের যুক্ত হলে সংবেদনায় আমরা ভিজিতে পারি সকালের সিক্ত হাওয়ায়।
 

আরও পড়ুন

×