অতিথি পাখির সুরক্ষা
মো. আনোয়ার হোসেন
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
অতিথি বা পরিযায়ী পাখি হলো সেইসব পাখি, যারা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্যের সন্ধানে বা প্রতিকূল আবহাওয়া এড়াতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায় বা অনেক দূর ভ্রমণ করে।
সাধারণত শীতকালে যখন শীতপ্রধান দেশগুলোতে তীব্র ঠান্ডা পড়ে এবং খাদ্যের অভাব দেখা দেয়, তখন এই পাখিরা উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল, যেমন বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে চলে আসে। শীতের শেষে অনুকূল পরিবেশ ফিরে এলে তারা আবার নিজ দেশে ফিরে যায়।
অতিথি পাখিরা মূলত নিম্নলিখিত অঞ্চল এবং দেশ থেকে বাংলাদেশে আসে: রাশিয়া (বিশেষ করে সাইবেরিয়া অঞ্চল), উত্তর মেরু অঞ্চল– ইউরোপ, মঙ্গোলিয়া, হিমালয় পর্বত ও তিব্বত (হিমালয়ের পাদদেশসহ) এবং চীন, নেপাল, ভারত (আসাম ও অরুণাচল প্রদেশ)।
পৃথিবীতে পাখির প্রজাতির সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ভিন্নমত থাকলেও সাধারণভাবে ১১ সহস্রাধিক প্রজাতির পাখি রয়েছে বলে মনে করা হয়। বেশির ভাগ সংস্থা যেমন বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্নিথলজিস্টস ইউনিয়ন ১১ হাজার বা তার বেশি প্রজাতির সংখ্যা উল্লেখ করে। কিছু পুরোনো হিসাবে সংখ্যাটি ৯ হাজার ৭০০ থেকে ১০ হাজারের মধ্যে বলা হতো।
পাখি পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের সংখ্যা কমে গেলে প্রকৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পাখিরা ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসলের সুরক্ষা দেয়। পাখি নিধনের ফলে পোকার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যা কৃষিকাজের জন্য ক্ষতিকর। অতিথি পাখিরা আমাদের পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ায়। তাদের অনুপস্থিতিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়। পাখিদের সুরক্ষায় কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন–
পাখি শিকার, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধে বিদ্যমান আইনগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং আইন ভঙ্গকারীদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; অতিথি পাখির প্রধান বিচরণস্থল হাওর-বাঁওড় ও অন্যান্য জলাশয় দখল-দূষণ থেকে রক্ষা; তাদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি; শিকারি, পাখি বিক্রেতা এবং অবৈধভাবে পাখি আটকে রাখার বিরুদ্ধে প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার; স্কুল, গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে অতিথি পাখির গুরুত্ব ও তাদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার চালানো; এয়ারগানসহ পাখি শিকারের অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং পরিবেশ ও পাখি সুরক্ষায় কঠোর নীতি গ্রহণ; পাখির আবাসের জন্য গাছ কাটা বন্ধ, নতুন গাছ লাগানো; বিষটোপ ও ফাঁদ পেতে শিকার বন্ধ করা।
ড. মো. আনোয়ার হোসেন: প্রাবন্ধিক
- বিষয় :
- অতিথি পাখি
