ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শিক্ষকতায় বাড়তি চাপ

শিক্ষকতায় বাড়তি চাপ
×

মাহজাবিন আলমগীর

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৭:১১ | আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের পাঠদানের বাইরে অন্তত ৩৭ ধরনের নানা অপেশাদার কাজে নিযুক্ত হতে হচ্ছে। এসব বাড়তি কাজের চাপে শিক্ষকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, এই অপেশাদার কাজগুলো শিক্ষকতা পেশায় যতটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, তা কোনোভাবেই শিক্ষার গুণগতমানের বিকাশে সহায়ক হতে পারে না। (৫ ফেব্রুয়ারি, সমকাল)

সাধারণত শিক্ষকদের যে বেতন, এতে মাসের অর্ধেকও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে, এমনকি বাধ্য হয়েই অনেক সময় টিউশনি বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। এর বাইরে সরকারি শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রকার সরকারি জরিপে অংশ নিতে হয়। দেখা যাচ্ছে, এসব অপেশাদার কাজে শিক্ষকরা মাসে গড়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ব্যয় করেন। এসব অতিরিক্ত কাজের চাপ সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা ক্লাসে পড়াতে গিয়ে পাঠ্যক্রমে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন না। ৯০ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, এই পরিবেশে শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
এখন শিক্ষকতা হয়ে উঠেছে অন্যান্য পেশার মতো জীবিকার্জনের একটি উপায় মাত্র। শিক্ষকরা ক্লাসে যান আর পড়ান ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত অর্থে খুব কমই ছাত্রকে শেখাতে পারেন। কারণ, ছাত্রকে প্রকৃতভাবে শেখাতে গেলে যে নিবেদিত প্রাণ হওয়া প্রয়োজন তারা তা হতে পারেন না। শিক্ষকদের পাঠদান তাই ছাত্রছাত্রীদের মনে কোনো গভীর ছাপ অনেক ক্ষেত্রেই ফেলতে পারে না। কেননা, অন্যান্য পেশার সঙ্গে শিক্ষকতা পেশার তফাতটা বোধ করি এখানেই, যেখানে শিক্ষকদের আত্মপ্রসারের জন্য খানিকটা অবকাশের প্রয়োজন পড়ে। 

শিক্ষকরা কোনোভাবেই নিজের ভেতরের দিকে তাকানোর সুযোগ পান না। ফলে শিক্ষার গুণগত মান অর্থাৎ জ্ঞান, মেধায় নিজেদের আয় বাড়িয়ে তুলতে পারছেন না। 
বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর জীবনে শিক্ষক তাদের রোল মডেল হিসেবে কাজ করেন। আর প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্রছাত্রীরা অত্যন্ত কোমলমতী স্বভাবের হয়ে থাকে। জীবনের প্রারম্ভে তারা শিক্ষকদের থেকে যেটি শিখবে সেটিই সারাজীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে। সুতরাং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল আর দায়িত্বশীল মনোভাব নিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানো উচিত, যেন শিক্ষার প্রারম্ভিক পর্যায়ে কোনো বড় দুর্বলতা থেকে না যায়। শিক্ষকতা পেশার বাইরে অপেশাদার কাজে তাদের নিয়োগ করা একেবারেই সমীচীন হয়। 

মাহজাবিন আলমগীর: শিক্ষক, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
 

আরও পড়ুন

×