রাজধানীর পাবলিক টয়লেটে ‘স্টার রেটিং’
শ্যামলী পার্কে পাঁচ তারকাবিশিষ্ট ‘শুচি টয়লেট’
হাসান জাকির
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৫ | ০০:৩৪ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৫ | ১৬:৩৫
পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ আড্ডায় নতুন কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার আগে আমরা খেয়াল করি ওই রেস্টুরেন্টের রেটিং। একই কাজ আমরা করি অনলাইনে কোথাও থেকে খাবার অর্ডার করার আগে। রাইড শেয়ার করার সময় দেখি চালকের রিভিউ; এমনকি দেশ-বিদেশে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সময় হোটেল বুক করতে গেলেও আগেই দেখে নিই হোটেলের রেটিং ও ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা। এসব রেটিং আমাদের জানিয়ে দেয়– কোন সেবা কেমন, কোথায় গেলে স্বস্তি মিলবে। অথচ পাবলিক টয়লেটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা যেখানে স্বস্তি, স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা শুধু ‘থাকলে ভালো’র মতো ব্যাপার না, অত্যাবশ্যক– সেটির রেটিং জানার ও রেটিং দেখে সেবার মান বোঝার কোনো সুযোগ আমাদের দেশে নেই।
এই বাস্তবতা পাল্টাতে সম্প্রতি ঢাকায় চালু হয়েছে এক অভিনব উদ্যোগ– পাবলিক টয়লেটের জন্য স্টার রেটিং ব্যবস্থা। ‘পথের দাবি’ ক্যাম্পেইনের আওতায় ওয়াটারএইড বাংলাদেশ নগরের ১৯টি আধুনিক পাবলিক টয়লেটকে মানসম্মত সূচকের ভিত্তিতে তিনতারকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পাঁচতারকায় শ্রেণিবদ্ধ করেছে। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়াটারএইড বাংলাদেশ নির্মিত এসব টয়লেট পরিচালনা করে বেসরকারি সংস্থা ভূমিজ ও দুস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র (ডিএসকে)। এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য একটাই– ব্যবহারকারীর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, ব্যবস্থাপনাকারীদের জবাবদিহিমূলক করা এবং এ ধরনের নাগরিক পরিসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদে গুণগত মান বজায় রাখার সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
এই রেটিং কোনো অনুমাননির্ভর সাজেশন নয়, এটি একটি সূচকভিত্তিক মূল্যায়ন। টয়লেটগুলোর রেটিং হয় কয়েকটি নির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে– পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির উপযোগিতা, আলো-বাতাসের পর্যাপ্ততা, নিরাপত্তা, স্যানিটারি সামগ্রীর প্রাপ্যতা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা। ‘টয়লেট বোর্ড কোয়ালিশন’ একটি আন্তর্জাতিক জোটের তৈরি স্টার রেটিং নির্দেশিকাকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের জন্য উপযোগী করে সূচকগুলো নির্ধারণ করা হয়।
প্রশিক্ষিত রেটিং টিম প্রতিটি টয়লেটে গিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছে– কেয়ারটেকার উপস্থিত আছেন কিনা, পরিষ্কারের সময়সূচি মেনে চলা হচ্ছে কিনা, টয়লেট কক্ষগুলো ব্যবহারোপযোগী আছে কিনা, কমোডের ফ্ল্যাশ ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা, হাত ধোয়ার বেসিনে পানি ও পর্যাপ্ত সাবান আছে কিনা, দরজার লক ঠিক আছে কিনা, টয়লেট কক্ষের ভেতর-বাইরের গোপনীয়তা রক্ষা হচ্ছে কিনা, গোসল করার ব্যবস্থা আছে কিনা, শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তনের স্থান আছে কিনা এবং প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সামগ্রী যথাসময়ে সঠিক জায়গায় মজুত আছে কিনা। এরপর প্রতিটি সূচকের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে স্কোর এবং সব মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে টয়লেটটির স্টার রেটিং।
একটি পাঁচতারকা পাবলিক টয়লেট মানেই সেখানে প্রবেশের আগে ব্যবহারকারী জানেন– পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দুর্গন্ধহীন কক্ষ, নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উপযোগী ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিধির জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা, পেশাদার সেবাদানকারী সবই সেখানে আছে।
১৯টি টয়লেট দিয়ে শুরু হওয়া এ রেটিং ব্যবস্থা ঢাকা শহরে বিভিন্ন সক্ষমতায় চালু থাকা ৬০০টিরও বেশি পাবলিক টয়লেটকে রেটিংয়ের আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হবে। এভাবে দেশের বড় বড় শহর ও পর্যায়ক্রমে সর্বত্র পাবলিক টয়লেটগুলোকে (বাজার, শপিংমলসহ) যদি রেটিংয়ের আওতায় আনা যায় তাহলে সেবার মানের লক্ষণীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
- বিষয় :
- রাজধানী
- পাবলিক টয়লেট
