রাশিফল ২০২৬
বাংলাদেশ কেমন যাবে
অলংকরণ :: ফাইয়াজ হোসেন
জ্যোতিষ সাগর ড. আব্দুল হাদী
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২০ | আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৭:০৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বাস থাকুক কিংবা না-ই থাকুক, রাশিফলে আগ্রহ কম-বেশি সবারই আছে। ২০২৬ সালটি কেমন যাবে–এই প্রশ্ন সবার মনে। চাকরি, ব্যবসা, অর্থনীতি, প্রেম, রাজনীতি, সমাজ, বিশ্ব ও ব্যক্তিজীবনের নানান দিকের খোঁজ জানাচ্ছেন জ্যোতিষ সাগর ড. আব্দুল হাদী
----------------------------------------------------------------------------
বাংলাদেশের ভ্রূণের জন্ম ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ অর্থাৎ ২৫ মার্চ রাত ১২:০১ মিনিটে, আর ভূমিষ্ঠকাল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪:৩১ মিনিটে, যখন তৎকালীন পাকিস্তানি সৈন্যদের পূর্ব পাকিস্তান অংশের অধিনায়ক নিয়াজি সই করেন আত্মসমর্পণপত্রে। পাশ্চাত্য জ্যোতিষ মতে, বাংলাদেশ ধনু রাশি। তখন রবি ছিল ২৩ ডিগ্রি–৪৮´ ধনুতে আর সময়টি অর্থাৎ লগ্ন ছিল ১০ ডিগ্রি–৩১´ মিথুনে। জন্মকালে ধনুরাশিতে রবি, বৃহস্পতি, বুধ, চন্দ্র ও নেপচুন ছিল। বাংলাদেশের জন্মলগ্নের গ্রহের অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে, তা কোনো শক্তিই রোধ করতে পারবে না। তবে ২০২৬ যুক্তিপূর্ণ বছর সবদিক থেকেই। বছরের শুরু থেকেই নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের আওতায় থাকব আমরা। রাহু, কেতু ও মঙ্গলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে ২৬ জানুয়ারি থেকে; যা ১৪ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস এবং নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য।
এ বছর প্রকৃতি আমাদের প্রচুর ফসল দেবে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ফসল উৎপাদন হবে দ্বিগুণেরও বেশি। ফসল সংরক্ষণের জন্য সরকারকে এখন থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; যাতে কৃষকদের আর্থিক সুবিধা বাড়ে। মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও বিদেশে রপ্তানির জন্য সরকার সচেষ্ট থাকবে। সমুদ্রের কারণে আমাদের প্রচুর মাছ উৎপাদন ও রপ্তানিতে সহায়তা করবে। কারণ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা অনেক বিস্তৃত হয়েছে। আর্থিক সুবিধা বাড়বে জেলেদের জন্য।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে অর্থ বিনিয়োগ করবে। ফলে বাংলাদেশে আগের তুলনায় ব্যবসার সুযোগ বেড়ে যাবে। এ বছর পোশাকশিল্পে নতুন নতুন উদ্যোগ আমরা দেখব। অনেক দেশ যেমন–চীন, জাপান ও ইউরোপীয় কিছু দেশ বাংলাদেশের পোশাক আমদানিতে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করবে ১৮ জুলাইয়ের পর থেকে। আধুনিকায়ন হবে পোশাকশিল্প আগের তুলনায় অনেক বেশি। নতুন নতুন উদ্যোক্তা বাড়বে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন চমক আসবে। পাটজাতশিল্পের তেমন কোনো অগ্রগতি না হলেও কুটিরশিল্পনির্ভর পাটজাত পণ্যের ব্যাপক প্রসার হবে। অনেক কুটিরশিল্পে গড়ে উঠবে পাট, সুতা, বাঁশ, বেত ইত্যাদির ব্যবহারে। মৃৎশিল্পের গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুযোগ বাড়বে। বাংলাদেশে এ বছর নতুন নতুন জাহাজ তৈরি হবে বিদেশে রপ্তানির জন্য। কাঁচামাল বিদেশে রপ্তানির সুযোগ আসবে। যেমন প্লাস্টিক, লোহা, তামা ইত্যাদি। এ বছর বাংলাদেশে রিসাইক্লিংয়ের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফলে সব ধরনের বর্জ্যই দূর করার সুযোগ আসবে; এতে জনস্বাস্থ্যের জন্য সুযোগ বাড়বে। নতুন নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপিত হবে সরকারের সহযোগিতায়। ফলে গ্রামের লোকজন স্বাস্থ্যসেবা পাবে কম খরচে। শহরগুলোয় বিদেশি সহযোগিতায় উন্নতমানের হাসপাতাল গড়ে উঠবে। যার ফলে বিদেশে গিয়ে দেশের অর্থ খরচ করে চিকিৎসাসেবা নিতে হবে না। এ বছর ওষুধশিল্পে ব্যাপক অগ্রগতি হবে। নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনও ঘটবে এই শিল্পে। ফলে কম খরচে ভালো মানের ওষুধ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চিনি উৎপাদনে বাংলাদেশ আগের তুলনায় অধিক মাত্রায় উৎপাদন ও মজুত করতে পারবে। এমন কি বিদেশেও চিনি রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
সরকারিভাবে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিভিন্ন দালাল চক্রকে সরকারিভাবে কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। ফলে জনশক্তি রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। শিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিক সৃষ্টিতে সরকারি সহযোগিতা থাকবে। ফলে বাংলাদেশের শ্রমিকদের চাহিদা বাড়বে সারাবিশ্বে।
বাংলাদেশে একই বছর বেকারত্ব দূর করার প্রয়োজনে সরকার ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে নতুন নতুন প্রজেক্ট বা প্রকল্পের সুযোগ সৃষ্টি করবে; যা বেকারত্ব দূর করতে বড় ভূমিকা পালন করবে। সমবায় ব্যবস্থার ব্যাপক অগ্রগতি হবে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতিতে। হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল পালনে সরকারি ভেটেরিনারি হাসপাতালের সুযোগ বাড়বে; যার কারণে গবাদি পশুর মৃত্যুর হার কমে আসবে। অস্ট্রেলিয়ার মতো বাংলাদেশেও গরুর দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। সরকারিভাবে আধুনিকায়ন করা হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
২০২৬ রাজনীতি ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হবে; যা সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলবে। তবে সরকারের পক্ষে এসব সমস্যার সমাধান করাও সম্ভব হবে। ২০২৬ নির্বাচনের বছর। দেশে নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সরকার এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন থাকবে বলে মনে করি। ফলে ঘরে ও বাইরের শত্রু খুব একটা ক্ষতি করতে পারবে না বাংলাদেশের। নির্বাচনের আগে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করবে; যাতে সীমান্ত পার হয়ে কোনো শত্রু দেশের ক্ষতি করতে না পারে। এতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তের বর্ডার গার্ড সচেষ্ট থাকবে। নির্বাচনের সুযোগ নিয়ে যাতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা দেশের মধ্যে ঢুকে অরাজকতা সৃষ্টি না করতে পারে সরকার সেদিকে যথেষ্ট দৃষ্টি রাখতে হবে। সেই সঙ্গে পাহাড়ে কোনো অশান্তি সৃষ্টি না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে। তা সম্ভব হলে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ
- রাশিফল ২০২৬
- রাশিফল
