ডিবি হেফাজতে ইশতিয়াকের মৃত্যু
নিহতের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন নয়: হাইকোর্ট
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ২৩:৩৮
ফরিদপুরের মধুখালীতে ডিবি হেফাজতে মারা যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদের পরিবারকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, আইনসচিব ও সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হক গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
‘ডিবির হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর আগে আটকের সময় কী ঘটেছিল, এমন ভিডিও ফেসবুকে’ শিরোনামে গত ২৬ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটি যুক্ত করে ওই ঘটনায় বিচারিক তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে রিট করে আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক)। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।
গত ২০ জুন বিকেলে মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্ধারদিয়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে নিজ বাড়ির সামনে থেকে ইশতিয়াককে আটক করেন জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। মামলার বিবরণে বলা হয়, সেদিন দিবাগত রাত দুইটার দিকে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইশতিয়াক পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে ধরে দুজন সাক্ষীর সামনে জিজ্ঞাসাবাদে নিজের কাছে গাঁজা থাকার কথা স্বীকার করেন ইশতিয়াক; নিজ হাতে প্যান্টের ডান পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো গাঁজা বের করে দেন।
পরে ডিবি হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে ইশতিয়াককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর সকালে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এদিকে ওই অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আহাদুজ্জামান ২১ জুন সকালে বাদী হয়ে ইশতিয়াককে আসামি করে মধুখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় ইশতিয়াকের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের দাবি করা হয়।
ইশতিয়াক ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ফরিদপুর চিনিকলের মৌসুমি শ্রমিক হিসেবেও কাজ করতেন। তাঁর মা খাদিজা আক্তার ঘটনার পর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘টাকার বিনিময়ে ছেলেকে ছাড়তে রাজি হয়েছিলেন পুলিশের সদস্যরা।’ তিনি এক লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে যান; কিন্তু জীবিত ছেলের বদলে পান ছেলের লাশ।