ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন

অপপ্রয়োগের শঙ্কা কিছু ধারা সংশোধন চান সম্পাদকরা

অপপ্রয়োগের শঙ্কা কিছু ধারা সংশোধন চান সম্পাদকরা
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৩ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর কিছু ধারা সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অপপ্রয়োগ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সম্পাদকসহ গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। তারা আইনটি চূড়ান্ত করার আগে আরও সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। 

তবে প্রস্তাবিত আইনটিকে কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত হতে দেওয়া হবে না এবং কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম যেন এর শিকার না হয়– সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত ও বিস্তৃত আলোচনার ভিত্তিতে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে। সোমবার সচিবালয়ে খসড়া আইনটি পর্যালোচনার লক্ষ্যে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনের সঙ্গে আয়োজিত এক পরামর্শ সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। খসড়া আইনের ওপর প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজন নিয়ে সরকার আয়োজিত এটি ছিল দ্বিতীয় বৈঠক। 

মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) মহাসচিব ও একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজও ব্রিফিংয়ে কথা বলেন।
 
‘মিডিয়াকে টার্গেট করে আইন করতে চাই না’
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাই না এবং কোনো সাংবাদিক এর শিকার হোক, অপপ্রয়োগ হোক, এটা আমরা চাই না।’ তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনীর জন্য একটি খসড়া বিল তৈরি করা হয়েছিল। এটি নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও সাইবারবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যেন আলোচনা করা হয়। এই আইন যাতে নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয় সে জন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত গ্রহণ করার জন্য ওয়েবসাইটে খসড়াটি প্রকাশ করা হয়। ওয়েবসাইটে অনেকেই মতামত দিয়েছেন। সেটা একত্র করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আরেকটু সময় নিয়ে গণমাধ্যম ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে মতামত নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। এ ছাড়া গণমাধ্যম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং এ আইনে ভুক্তভোগী না হয় সে জন্য কিছু সুরক্ষাবিষয়ক রক্ষাকবচ রাখা হয়। সংবাদপত্র, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ার কোনো সাংবাদিক যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য এখানে একটা প্রস্তাবও করা হয়েছে যে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। সেটা সরকারও উপযুক্ত মনে করেছে। 

আইন সংশোধনে সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি 
পরামর্শ সভায় আইনটি আরও সংশোধনের লক্ষ্যে গণমাধ্যম ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি করার সিদ্ধান্ত হয়। এ কমিটির কাছ থেকে পরামর্শ পাওয়ার আশা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এটি সমন্বয় করবে। তিনি বলেন, কমিটি ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে। তবে কমিটির সদস্য সংখ্যা ও কারা এতে থাকবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সংশোধনী ছাড়া এই আইন পাস হলে দেশ একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে।
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের যে মূল্যবোধ আমরা প্রত্যাশা করি, তার প্রতিফলন এই খসড়া আইনে নেই। সরকার নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার আইন করছে, তাই এটার বিরোধিতা করছি।’ 

আইন প্রণয়নের সঙ্গে প্রয়োগের বাস্তবতা সরকারকে অনুধাবন করতে হবে বলেও মত দেন মাহফুজ আনাম। একই সঙ্গে পর্যালোচনা কমিটির প্রস্তাব গ্রহণ করার মাধ্যমে প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় মৌলিক পরিবর্তন আনার বিষয়ে একমত হওয়ায় সরকার পক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মাহফুজ আনাম বলেন, ‘যদি এই আইন পাস হয়, তবে গণমাধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে এমন কিছু ধারা রয়েছে যার স্পষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই, যা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।’

একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কারও পছন্দ না হলে বা কেউ মনে করলেন তাঁর মানহানি হয়েছে, সেই অভিযোগে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন দরকার আছে। সেটা হচ্ছে যারা সাইবার জগতে বিভিন্ন ধরনের ক্রাইম করে তাদের জন্য। এখন যদি সেটা মিডিয়ার ওপরে পড়ে, এটা তো হতে পারে না।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সিইও মোস্তফা আকমল, ডা. শাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, ইআরএফের সাবেক সভাপতি শারমিন রিনভী, দৈনিক প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, ইউএনবির ডেপুটি এডিটর মাসউদুল-হক প্রমুখ।

 

আরও পড়ুন

×