কামরাঙ্গীরচরে কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে সৎ বাবার মৃত্যুদণ্ড
প্রতীকী ছবি
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৩২
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে সপ্তম শ্রেণির কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের দায়ে তার সৎ বাবা জামাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডিতের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে ওই অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে বলা হয়েছে।
ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আজ মঙ্গলবার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুল মজিদ।
আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জামাল হোসেন ১৩ বছরের কিশোরীকে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আদালত তাঁর কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হবে, যদি এই অপরাধের জন্য যথোপযুক্ত শাস্তি দেওয়া না হয়। এটি কেবল দুর্ভাগ্যজনক ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে নয়, ভুক্তভোগী যে সমাজের অন্তর্ভুক্ত, সেই সমাজের বিরুদ্ধেও সংঘটিত হয়েছে। আদালতের দায়িত্ব সমাজের আর্তনাদে সাড়া দেওয়া এবং একটি ঘৃণ্য অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করা। আসামি জামাল হোসেন ঘৃণ্য অপরাধ করেছেন, তাই তাঁকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হলো।
রায় ঘোষণার আগে আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ওই কিশোরী তার মা ও সৎ বাবার সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থেকে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিল। ঘটনার সময় মা ঘরে না থাকার সুযোগে ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট জামাল তাকে ধর্ষণ করে। এর আগেও কয়েক দফা ধর্ষণের শিকার হয় ওই কিশোরী। পরে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং সন্তান জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা ওই বছরের ২৮ আগস্ট কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আলী হোসেন ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জামালের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত বছরের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
- বিষয় :
- ধর্ষণ
- মৃত্যুদণ্ড