রোজায় ত্বক সতেজ রাখতে
প্রতীকী ছবি
কে এন দেয়া
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৪ | ১৪:২৮ | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৪ | ১৪:৫৯
এবার বসন্তে রমজান মাস হওয়ায় এরই মধ্যে অনেকে ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন। রোজা শুরু হলে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আসার কারণেও কারও কারও ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সারাদিন রোজা রাখার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। এ সময় ত্বকের আলাদা যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। তাই আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি, রোজার সময়ে আপনার ত্বক কী চায়।
এ বিষয়ে কথা হয় রাজিয়াস মেকওভার স্টুডিওর স্বত্বাধিকারী ও রূপ বিশেষজ্ঞ রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে। তিনি জানান, এই মাসে খাবারদাবারের নিয়মের পরিবর্তন হয়, তাই সঠিক যত্ন না নিলে সহজেই এর প্রভাব ত্বক ও চুলের ওপর পড়তে পারে। তাই এ সময় ত্বকের জন্য প্রয়োজন একটুখানি বাড়তি যত্ন। তবে খুব বেশি কিছু নয়, ঘরে থাকা বিভিন্ন উপাদান দিয়েই রোজা থেকেও সহজে ত্বকের যত্ন নিতে পারেন।
বিকল্প নেই হাইড্রেশনের
বসন্তের শুকনা বাতাসে ত্বকের বারোটা বেজে গেছে অনেকেরই। খুব করে ময়েশ্চারাইজার না মাখলে ত্বকে রুক্ষতার ছাপ দেখা দিচ্ছে, এমনকি ত্বক ফেটেও যায় কখনও। খসখসে, প্রাণহীন ত্বক দেখে আঁতকে ওঠেন অনেকেই।
যারা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য ওজু করেন, তাদের মুখে পানির ঝাপটা পড়ে, এতে ত্বক সতেজ থাকে। তাই চেষ্টা করুন মুখে ওজু ছাড়াও বেশি করে পানির ঝাপটা দিতে। এতে ত্বকের কোষগুলো মলিন হবে না, বললেন রাজিয়া।
তবে অবশ্যই প্রতিবার মুখ ধোয়ার পর ব্যবহার করুন ভালো একটি ময়েশ্চারাইজার। এ ক্ষেত্রে হায়ালুরনিক এসিড, সেরামাইড, গ্লিসারিন রয়েছে এমন ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে পারেন। মুখ ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার না মাখলে ত্বক আর্দ্রতা হারাতে পারে।
রূপ বিশেষজ্ঞ রাজিয়ার ছোট্ট কিন্তু খুব উপকারী একটি টিপস হলো, রাতের বেলায় মুখে হাইড্রেটিং মাস্ক ব্যবহার। সারাদিনের পরিশ্রমের পর হাইড্রেটিং মাস্ক ত্বকের পানিশূন্যতা দূর করবে। মাস্ক হিসেবে শুধু অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন; অথবা সমপরিমাণ টক দই, মধু ও হলুদের গুঁড়া ব্যবহার করতে পারেন।
ব্যালান্সড ডায়েট মেনে চলুন
রোজার সময় আমাদের খাদ্যাভ্যাসে বেশ বড় একটি পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে ইফতারের সময় ভাজাপোড়া না হলে তো অনেকের চলেই না!
রূপ বিশেষজ্ঞ রাজিয়া জানিয়েছেন, প্রথমত আমাদের পানির চাহিদা পূরণ করতে হবে। তা ফলের রস, ডাব বা সাধারণ পানি দিয়েও হতে পারে। পাশাপাশি ভাজাপোড়া খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা ভালো। শুধু রমজান নয়, সব সময় আমাদের এগুলো বর্জন করতে হবে। বিশেষ করে রমজানে ত্বকের সুরক্ষায় এগুলো অবশ্যকরণীয়। সেদ্ধ খাবার, ভিটামিন ‘এ’, ‘ই’ সমৃদ্ধ খাবার, যেমন– গাজর, টমেটো, ব্রকলি খেতে পারেন।
প্রচণ্ড গরমের ফলে শরীরে অনেক ধরনের সমস্যা হতে পারে। অতিরিক্ত ঘামের ফলে অনেক সময় ঘাম না বের হতে পেরে সেখানে থেকে যায়। এর ফলে ঘামাচি, সামার বয়েল বা ফোড়ার মতো বিভিন্ন চর্মরোগ হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাই শরীরে যেন কোনোভাবেই পানির ঘাটতি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
রমজান মাসে কী কী করবেন না
যেসব খাবার খেলে আপনার অ্যালার্জির সমস্যা হয়, সেগুলো এড়িয়ে চলুন।
ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে যায়, এমন ক্লিনজার, ফেসওয়াশ, স্ক্রাব অথবা ক্লে মাস্ক ব্যবহার করবেন না।
হুট করেই নতুন কোনো স্কিনকেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করবেন না।
পার্লারে অপরিচিত কোনো ট্রিটমেন্ট বা লেজার করাতে চাইলে তা রমজান মাসের আগেই করিয়ে নিন।
এসব টুকিটাকি নিয়ম মেনে চললেই রমজান মাসেও ত্বক আগের মতোই উজ্জ্বল থাকবে। আপনি জানেন কি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোজা রাখলে ত্বক আগের চেয়ে ভালো হয়ে ওঠে? ব্রণের সমস্যা, সোরিয়াসিস– এসব কমে যায় রোজা রাখলে। এসব ছোট ছোট নিয়ম মাথায় রাখুন, দেখবেন ত্বক নিয়ে আর কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না।