দেশে ডিমেনশিয়া কেয়ারের নতুন দুয়ার
প্রতীকী ছবি
নুরুন নবী মিল্লাত
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪ | ১৭:৩৫ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪ | ১৭:৪৭
দেশের জনগোষ্ঠীর একটি অংশ ডিমেনশিয়া নামে মস্তিষ্কের ক্ষয়জনিত অসুখে আক্রান্ত। বাংলাদেশে ২০২০ সালে ডিমেনশিয়ার আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ লাখ। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ১৩ লাখ ৭ হাজার এবং ২০৪১ সালে ২৪ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে কত ভয়াবহ বিপদ আসন্ন।
দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ ডিমেনশিয়া নিয়ে সচেতন নয়। ডিমেনশিয়া বয়োবৃদ্ধির স্বাভাবিক কোনো অংশ নয়। এর লক্ষণ ও সঠিক পরিচর্যা সম্পর্কে আমরা যথেষ্টভাবে জ্ঞাত নই। আমাদের অজ্ঞতার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি সামাজিক কুসংস্কার, ভ্রান্ত ধারণা, সামাজিক স্টিগমা, অযত্ন-অবহেলা ও অতিকষ্টে জীবন যাপন করছেন। অথচ এ ব্যাপারে আমাদের সচেতনতা বাড়ালে তাদের সঠিক যত্ন ও চিকিৎসা সম্ভব।
এটা সত্য, বর্তমানে ডিমেনশিয়া পুরোপুরি ভালো করার কোনো কার্যকর ওষুধ নেই। এ কারণে আক্রান্তদের প্রতি আমাদের আরও বেশি যত্নবান ও তার প্রতিরোধের দিকে নজর দিতে হবে। বিশ্বে প্রতি ৩ সেকেন্ডে একজন মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে বর্তমানে ৫ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ডিমেনশিয়ায় ভুগছে। তার মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে রয়েছে ৬২ শতাংশ। ২০৫০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ১৪ কোটিতে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।
দেশে আমাদের গড় আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। এটি গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা না করলে একুশ শতকে ডিমেনশিয়া সবচেয়ে বড় একটি সংকট হয়ে দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশে এ বিষয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কেয়ারগিভার না থাকার কারণে আক্রান্ত পরিবারগুলো বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তাদের যত্নের যথাযথ ব্যবস্থা থাকলে দেশের মানুষ আরও বেশি কার্যকর ও সুখী জীবন যাপন করতে পারত। তবে খুশির খবর হলো, আলঝেইমার সোসাইটি অব বাংলাদেশ দেশে প্রথমবারের মতো ডিমেনশিয়া কেয়ারগিভার তৈরির ঘোষণা দিয়েছে।
এ উপলক্ষ্যে গত ৯ জুন প্রতিষ্ঠানটি ডিমেনশিয়া কেয়ার (লেভেল-৩) প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেছে। এর মধ্য দিয়ে দেশে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদের যত্নে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলঝেইমার সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রধান প্রশিক্ষক ডা. মো. নুরুল হুদা, সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল মো. আজিজুল হক। এতে বক্তব্য রাখেন ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের জেরিয়াট্রিক সাইকোলজি অধ্যাপক ও গ্লোবাল ব্রেইন হেলথ ইনস্টিটিউটের ফ্যাকাল্টি ইরোসিমা লিরয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের চেয়ারম্যান ও আলঝেইমার সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. মো. আইয়ুব আলী, প্রজনন স্বাস্থ্যের অন্যতম পথিকৃৎ ডা. হালিদা হানুমসহ অন্যান্য গুণী ব্যক্তিত্ব।
নুরুন নবী মিল্লাত, ম্যানেজার, আলঝেইমার সোসাইটি অব বাংলাদেশ
[email protected]
- বিষয় :
- ডিমেনশিয়া
