কাজ নিয়ে অতিরিক্ত চাপে আছেন? ভালো থাকবেন যেভাবে
প্রতীকী ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ | ১৫:২২
সকাল সকাল অফিসের কাজে ডুবে যাওয়া, সারা দিন তাতেই মগ্ন থাকা- এসব তো নিত্যদিনের ঘটনা । কখনও কখনও এর বাইরে ডেডলাইন মিট করতে রাতের পর রাত জেগেও কাজ করতে হয়। একটানা রাত জেগে কাজ করার অভ্যাস থাকলে তা শরীরের নানাভাবে ক্ষতি করতে পারে। ঘুমোনোর রুটিন তো নষ্ট হয়ই, এর বাইরে খিদে নষ্ট হওয়া, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো নানা উপসর্গ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন রাত জেগে কাজ করলে অনেক বড়ো শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
সমস্যার ধরন
যারা দিনের পর দিন রাত জেগে অফিসের কাজ করেন তাদের শরীরের পাশাপাশি পারিবারিক জীবনেও ঝড় ওঠার আশঙ্কা দেখা দেয়। তখন পারিবারিক জীবন বলে কিছু আর থাকে না, পুরোটাই অফিসের সময় হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, বাড়ির কাজ, দায়দায়িত্বও আপনি সেভাবে আর নিতে পারেন না সময়ের অভাবে। ফলে অফিস ও পরিবার, দু’দিক থেকেই একটা চাপ কাজ করতে শুরু করে। যার ফল গিয়ে পড়ে শরীর আর মনের উপর।
টাইম ম্যানেজমেন্ট
হাতে যদি কাজের চাপ থাকে, তখন তা ম্যানেজ করতে রাতে কাজের প্রয়োজন পড়েই। এমন হলে আপনাকে টাইম ম্যানেজমেন্ট জানতে হবে। আপনার যদি নাইট শিফটের কাজ না হয় তাহলে চেষ্টা করুন অফিসের পুরো সময়টা কাজে লাগিয়ে কাজ শেষ করতে। বাকী সময়টুকু পরিবারের জন্য বরাদ্দ রাখার চেষ্টা করুন।
কাজের রুটিন বানিয়ে নিন
দিনে আপনার হাতে কী কী কাজ আছে, আর কোন কাজগুলো আজই সেরে ফেলতে হবে তার একটা তালিকা বানিয়ে রাখুন আগের রাতে। যদি হাতে অনেক কাজ জমে থাকে তাহলে রাত না জেগে ভোরবেলা উঠার চেষ্টা করুন। সকালের দিকে আপনার এনার্জি লেভেল বেশি থাকে, আর চারপাশটাও নিরিবিলি থাকে। ফলে তখন মন দিয়ে কাজ করতে পারবেন।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ ঠিক করুন
কোন কাজটা আগে জমা দিতে হবে, কোনটা দু’দিন পরে দিলেও চলবে, সেটা ঠিক করে নিন। প্রতিটি কাজের জন্য সময় বেঁধে নিন মনে মনে। সেই অনুযাযী কাজ শেষ করার চেষ্টা করুন।
কাজ নিয়ে বসে থাকবেন না
কাজের ফাঁকে অনেকেরই একটু গেম খেলা, একটু সোশাল মিডিয়া দেখার অভ্যাস থাকে। হালকা ব্রেক নিতে একটু আধটু এ সব করতেই পারেন, কিন্তু এটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়ালে সময় নষ্ট হবে। সেই সঙ্গে কাজের বোঝা বাড়তেই থাকবে। আগে কাজ ফেলুন। তারপর ফুরফুর মেজাজে অবসর কাটান।
জটিল কাজগুলো আগে করে নিন
কাজের নানা রকমফের হয়। কোনওটা সহজেই হয়ে যায় আবার কোনওটা করতে সময় বেশি লাগে। আবার কোনওটা শেষ করতে অপরের সহায়তা দরকার হয়। অপেক্ষাকৃত সময়সাপেক্ষ কাজ বা যে কাজ করতে অন্যের ইনপুট প্রয়োজন, সেগুলো আগে শেষ করুন। তাতে মাথা থেকে বোঝা নেমে যাবে। পরের সহজ কাজগুলো দ্রুত করে ফেলতে পারবেন।
‘না’ বলতে শিখুন
অনেক সময়ই সহকর্মীরা নিজেদের কাজ অন্যের উপর চাপিয়ে দেন। সব ক্ষেত্রে না বলা সম্ভব নয়, কিন্তু প্রয়োজনে অবশ্যই ‘না’ বলতে শিখুন। হাতে খুব বেশি কাজের চাপ থাকলে আগে সেটাই শেষ করা দরকার। প্রয়োজনে পরে সহকর্মীকে সাহায্য করবেন।
- বিষয় :
- মানসিক চাপ
