হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হলে কী করবেন
প্রতীকী ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:২৫ | আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৫২
গরমের তীব্রতা বাড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিট স্ট্রোক হলে, শরীর তার ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তখন ঘামও শরীরকে ঠান্ডা করতে ব্যর্থ হয়। সেক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। জেনে নিন হিটস্ট্রোক কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার।
হিটস্ট্রোক কী?
শরীর যখন তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম হয়, তখন হিটস্ট্রোক হয়। এমন হলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সহজে হ্রাস কমে না। হিটস্ট্রোক হলে শরীরে ঘাম হয় না, যা অত্যন্ত ক্ষতিকারক। হিটস্ট্রোক হলে, শরীরের তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি বাড়তে পারে। যদি সময় মতো চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
হিটস্ট্রোকের কারণ
খুব গরম জায়গায় বেশিক্ষণ থাকলে, হিটস্ট্রোক হতে পারে। কেউ যদি ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে হঠাৎ গরম জায়গায় যান, তাহলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। গরম আবহাওয়ায় অতিরিক্ত ব্যায়াম করাও হিটস্ট্রোকের একটি বড় কারণ। গরমে প্রচুর ঘামের পর পর্যাপ্ত পানি পান না করলে, এই সমস্যা হতে পারে। যদি গরমের মধ্যে এমন পোশাক পরেন যা ঘাম শরীরের বাইরে এবং হাওয়া শরীরের ভিতরে না যায়, তাহলে তা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ কী কী?
হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলো শনাক্ত করা গেলে সময়মতো চিকিৎসা করা সম্ভব। এজন্য লক্ষণ জানান জরুরি। মাথাব্যথা, প্রচণ্ড জ্বর, জ্ঞান হারিয়ে যাওয়া, মানসিক অবস্থার অবনতি, গা বমিভাব, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ত্বক নরম হয়ে যাওয়া, ত্বকের শুষ্কতা এবং ডিমেনশিয়া, এর সাধারণ লক্ষণ।
হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা
যদি কারও হিটস্ট্রোক হয়, তাহলে প্রথমেই কিছু প্রাথমিক পদ্ধতি অবলম্বন নিন। তারপর দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে রোদে রাখবেন না, শরীরে হাওয়া ঢোকার ব্যবস্থা করুন। শরীর ঠান্ডা করার জন্য তাকে কুলার বা ফ্যানের সামনে বসান, ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করান। একটি কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে শরীর মুছে নিন। মাথায় ঠান্ডা পানি দিয়ে বরফের প্যাক বা কাপড় ভিজিয়ে রাখুন। মাথায়, ঘাড়ে, বগলে ও কোমরে ঠান্ডা পানি একটি তোয়ালে ভিজিয়ে রাখুন।
হিটস্ট্রোক এড়ানোর উপায় কী?
হিটস্ট্রোক এড়াতে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা উচিত। যেমন-
১. পর্যাপ্ত পানি পানি করুন।
২. রোদে কম বেরোন। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে তাপপ্রবাহ সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় বের হওয়া এড়িয়ে চলুন।
৩.হালকা, সুতির এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। কালো এবং আঁটসাঁট পোশাক পরলে আরও গরম লাগতে পারে।
৪. সরাসরি সূর্যের আলো এড়াতে বাইরে বেরনোর সময় টুপি বা ছাতা ব্যবহার করুন। শরীরের উন্মুক্ত অংশে সানস্ক্রিন লাগান।
৫, গরমে ভাজা, মসলাদার বা ভারী খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন। হালকা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
৬. শারীরিক পরিশ্রম কম করুন। বাইরে কাজ করার প্রয়োজন হলে মাঝে বিশ্রাম নিন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
৭. ঘর ঠান্ডা রাখুন। পাখা, কুলার বা এসি ব্যবহার করুন। দিনের বেলা জানালা এবং পর্দা বন্ধ রাখুন যাতে গরম বাতাস প্রবেশ করতে না পারে।
- বিষয় :
- পানিশূন্যতা
