ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিদিন ব্ল্যাক কফি পানে মিলতে পারে ৬ উপকার

প্রতিদিন ব্ল্যাক কফি পানে মিলতে পারে ৬ উপকার
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১২:০৯

সকালে এক কাপ কফি অনেকেরই প্রতিদিনের অভ্যাস। কেউ কাজের চাপ সামলাতে, কেউ ঘুম কাটাতে আবার কেউ কফির স্বাদের জন্য নিয়মিত এই পানীয় পান করেন। তবে কফি শুধু সতেজ রাখে না, পরিমিত পরিমাণে পান করলে শরীরের জন্যও কিছু উপকার বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে চিনি ও ক্রিম ছাড়া ব্ল্যাক কফি তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. বর্তিকা বিশ্বানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, আমি নিজেও প্রতিদিন ব্ল্যাক কফি পান করি। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি নিয়মিত কফি পানের কয়েকটি সম্ভাব্য উপকারের কথা জানিয়েছেন।

মৃত্যুঝুঁকি কমাতে পারে

ডা. বিশ্বানি ১ লাখ ৭১ হাজার প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে করা একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, প্রতিদিন ১ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৫ কাপ কফি পানকারীদের সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি কফি না পানকারীদের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম ছিল। তবে এর অর্থ এই নয় যে কফি খেলেই আয়ু বাড়বে। বরং গবেষণায় কফি পানের সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি কম থাকার একটি সম্পর্ক দেখা গেছে।

হৃদ্‌রোগ ও অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে

কফি পানের সঙ্গে হৃদ্‌রোগ, লিভারের রোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের মতো কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞের মতে, ২০০টিরও বেশি মেটা-অ্যানালাইসিসের সমন্বিত তথ্যেও দিনে প্রায় ৩ থেকে ৪ কাপ কফি পানকে দীর্ঘস্থায়ী কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি কম থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত পাওয়া গেছে।

লিভারের জন্য উপকারী হতে পারে

লিভারের স্বাস্থ্যের জন্যও কফি উপকারী হতে পারে। কফিতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় কফি পানের সঙ্গে ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, সিরোসিস এবং লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ডা. বিশ্বানি। তবে ফ্যাটি লিভার বা অন্য কোনো লিভারের রোগ থাকলে শুধু কফির ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার ও জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন অতিরিক্ত এক কাপ কফি পান করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া যেতে পারে। কফিতে থাকা ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড ও পলিফেনলের মতো উপাদান শরীরের প্রদাহ কমানো এবং রক্তে শর্করার ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হয়। তবে ডায়াবেটিস থাকলে কফিতে চিনি, মিষ্টি সিরাপ বা অতিরিক্ত ক্রিম যোগ করা উচিত নয়।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কম

গবেষণায় কফি পানের সঙ্গে লিভার ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এছাড়া কোলোরেক্টাল ক্যান্সারে আক্রান্ত কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কফি পানকারীদের তুলনামূলক ভালো ফলাফলের কথাও পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে কফি কোনোভাবেই ক্যান্সারের প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে উপকারী হতে পারে

কফির সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যেরও সম্পর্ক রয়েছে। বড় পরিসরের বিভিন্ন গবেষণায় কফি পানকারীদের মধ্যে পারকিনসন্স রোগের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কফির ক্যাফেইন ও অন্যান্য সক্রিয় উপাদান মস্তিষ্কের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অতিরিক্ত কফি পান করলে উল্টো অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

দিনে কত কাপ কফি?

ডা. বিশ্বানির মতে, সাধারণভাবে দিনে ৩ থেকে ৪ কাপ কফি বা প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণের কথা বলা হয়। তবে সবার ক্ষেত্রে ক্যাফেইন সহ্য করার ক্ষমতা এক নয়। অনেকেই কফির সঙ্গে চিনি, গুঁড়া দুধ বা ক্রিম মিশিয়ে পান করেন। স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় কফির সম্ভাব্য উপকার পেতে চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি বেছে নেওয়া ভালো। তবে পরিমাণের পাশাপাশি কফিতে কী যোগ করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সবার জন্য ব্ল্যাক কফি নয়

কফি কোনো জাদুকরী পানীয় নয় এবং সবার জন্য এটি উপযোগীও নয়। যাদের অতিরিক্ত উদ্বেগ বা অস্থিরতা রয়েছে, হৃদস্পন্দনের নির্দিষ্ট সমস্যা আছে, ঘুমের সমস্যা হয় কিংবা কোনো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার জন্য নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন, তাদের কফি পানের পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে রাতে বা ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে কফি না খাওয়াই ভালো, কারণ ক্যাফেইন ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কফিকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু এটি স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম কিংবা পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নয়। তাই কফি পান করলে পরিমিত পরিমাণে, কম চিনি দিয়ে এবং নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে পান করাই সবচেয়ে ভালো।

সূত্র: এনডিটিভি

 

আরও পড়ুন

×