ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

যেভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে জাপানি '৩-৩-৩' হাঁটার পদ্ধতি

যেভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে জাপানি '৩-৩-৩' হাঁটার পদ্ধতি
×
×

প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:২৫ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:০৩

কখনও ভেবে দেখেছেন, জাপানের মানুষ কেন খুব একটা পেটের মেদজনিত সমস্যায় ভোগেন না? আবার বার্ধক্যেও কীভাবে চমৎকার শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখেন? সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি, জাপানিদের হাঁটার একটি বিশেষ কৌশল—যা 'ইন্টারভাল ওয়াকিং ট্রেনিং' বা '৩-৩-৩ ওয়াকিং ফর্মুলা' নামে পরিচিত—এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিনের ১৮ মিনিটের এই সহজ রুটিনটির জন্য কোনো জিম, ব্যয়বহুল সরঞ্জাম বা দীর্ঘ দূরত্বে দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই। ধীরগতি ও দ্রুতগতির হাঁটার সংমিশ্রণে গঠিত এই ব্যায়ামটি শরীরের ওপর খুব বেশি চাপ না ফেলেই বিপাকক্রিয়াকে উন্নত করে, পেটের জেদি চর্বি কমায় এবং হৃৎপিণ্ডেন্ত্রের স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করে। জেনে নিন, কীভাবে খুব সহজেই জাপানি '৩-৩-৩' হাঁটার পদ্ধতিটি দৈনন্দিন ফিটনেস রুটিনে যুক্ত করতে পারেন। 

‘নিউজ এইট্টিনে’র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণত একই গতিতে হাঁটলে শরীর দ্রুত সেই অভ্যাসের সাথে মানিয়ে নেয়, যার ফলে ক্যালোরি পোড়ানোর হার কমে যায়। '৩-৩-৩' ফর্মুলাটি এই অভ্যাসের ছক ভেঙে দেয়; এতে ৩ মিনিট আরামদায়ক ধীরগতিতে হাঁটার পরপরই ৩ মিনিট খুব দ্রুত গতিতে (স্বাভাবিক গতির তিন গুণ দ্রুত) হাঁটতে হয়। 
এই ৬ মিনিটের চক্রটিকে (৩ মিনিট ধীরগতি ও ৩ মিনিট দ্রুতগতি) পরপর তিনবার করে মোট ১৮ মিনিটের রুটিন সম্পন্ন করুন। অল্প সময়ের এই অত্যন্ত কার্যকর ব্যায়ামটি ব্যস্ত জীবনযাত্রার মধ্যেও সহজেই করা সম্ভব। আরও ভালো ফল পেতে চাইলে পুরো রুটিনটি দ্বিতীয়বার করতে পারেন। 

হাঁটার গতি কখনো ধীর আবার কখনো দ্রুত করার ফলে পেশিগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা ব্যায়ামের সময় এবং ব্যায়াম শেষ হওয়ার অনেক পরেও বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এই  পদ্ধতির ফলে শরীরে দীর্ঘক্ষণ ক্যালোরি পোড়ানোর প্রক্রিয়া চলতে থাকে, যা পেটের গভীরের চর্বি কমাতে সাধারণ গতিতে হাঁটার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

দৌড়ানোর মতো তীব্রতার ব্যায়ামের বিপরীতে, এই ‘ইন্টারভাল ওয়াকিং’ বা পর্যায়ক্রমিক হাঁটার পদ্ধতি হাঁটু, গোড়ালি ও অন্যান্য অস্থিসন্ধির ওপর খুব একটা চাপ ফেলে না, তাই এটি সব বয়সী মানুষের জন্যই উপযোগী। হাঁটার তীব্রতায় এই পরিবর্তন হৃৎপেশিকে শক্তিশালী করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি বা শারীরিক ধকল ছাড়াই পায়ের পেশির সহনশীলতা বাড়ায়। 

সঠিক পুষ্টি ছাড়া কেবল ব্যায়ামের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী ওজন কমানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রক্রিয়াজাত খাবার, ময়দা, অতিরিক্ত চিনি, তেল এবং মিষ্টি পানীয় খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। খাবারের পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে ফেললে শরীরে প্রয়োজনীয় ‘ক্যালোরি ঘাটতি’তৈরি হয়, যা প্রাকৃতিকভাবে চর্বি কমানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরে এমন কিছু হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়, যা পেটের চর্বি জমার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো মানের ঘুম নিশ্চিত করুন, সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। মানসিক চাপের হরমোনগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন (ধ্যান) করুন।

১৮ মিনিটের ‘৩-৩-৩’ হাঁটার রুটিনের সাথে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা—এই সবকিছু মিলিয়ে ওজন কমানোর ভালো কৌশল তৈরি হয়। দৈনন্দিন জীবনে এই সহজ অভ্যাসগুলো গড়ে তুললে দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে, শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। 

আরও পড়ুন

×