ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অধিকার

কালাপাহাড় কি আরেক বাগদা ফার্ম হবে

কালাপাহাড় কি আরেক বাগদা ফার্ম হবে
×

পাভেল পার্থ

পাভেল পার্থ

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১১:১২

আবারও মধুপুর শালবনে বন্দুক তাক করা হয়েছে গরিব মান্দি নারীর দিকে। যদিও টাঙ্গাইলের মধুপুর শালবনের পূর্ব ধরাটি গ্রামের কালাপাহাড়ে এখন আর শালবন নেই। সাত হাজার একর প্রাকৃতিক বন বিনাশ করে ১৯৮৬ সালে এখানে গড়ে তোলা হয় ‘চাঁদপুর রাবার এস্টেট’।

শুরুর পর থেকেই রাবার চাষ লাভজনক হয়নি। রাবারের জন্য নেওয়া হলেও এটি এখন কলা ও আনারসের বাণিজ্যিক বাগান। এই এলাকার এক আদি বাসিন্দা শিবলী মাংসাং ও রমেন কুবিদের পরিবার, যাদের প্রথাগত ভূমিতে কখনও বন বিভাগ, কখনও রাবার কোম্পানি বাহাদুরি জারি রেখেছে। ১১ সদস্যের পরিবারের একটি ঘরে হয় না বলে পাশে আরেকটি ঘর তুলছিল শিবলীর পরিবার। সম্প্রতি ৯ মার্চ রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ সশস্ত্র আনসারদের নিয়ে এসে ঘর তুলতে বাধা দেয়। নির্মমভাবে এক ফলন্ত লাউমাচা গুঁড়িয়ে দেয়। বেশ কিছু গাছ ধ্বংস করে। আনসার সদস্যরা নারীদের দিকে বন্দুক তাক করে তাদের উচ্ছেদের ভয় দেখায় এবং হামলা করে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে আনসার সদস্যদের মারমুখী আচরণ এবং বন্দুকবাজি এক বিচারহীন বাংলাদেশের নমুনা উস্কে দেয়। ঘটনা জানাজানি হলে গ্রামবাসী ও আদিবাসী সংগঠন এর প্রতিবাদ জানায়। মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। উচ্ছেদ অভিযানের সময় আনসার সদস্যরা ‘বাড়াবাড়ি করেছে’ বলে গণমাধ্যমে তিনি মন্তব্য করেন। 

চাঁদপুর রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক আনসার সদস্যদের বন্দুক তাক করা গণমাধ্যমে স্বীকার করে বলেন, বন বিভাগের দখল হওয়া জমি উদ্ধারের নিয়মিত কর্মসূচি হিসেবেই এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দুই বান্ডিল টিন, ছয় হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ইউএনও আরও জানান, কোনো আদিবাসী পরিবার উচ্ছেদ হবে না; রাবার বাগান সীমানা নির্ধারণ করবে এবং আনসার সদস্যদের বিচার করা হবে। 

নির্যাতিত শিবলী মাংসাং ও রমেন কুবি পরিবারকে কোনো লিখিত নোটিশ না দিয়ে রাবার বাগানের এই অন্যায় বন্দুকবাজির কারণ কী? রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গরিব আদিবাসী মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি করা? নাকি এক নির্বাচিত সরকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে এ ঘটনা তৈরি করা হয়েছে? মানুষ উচ্ছেদ করতে গিয়ে অবুঝ গাছের গায়ে আক্রমণ করা হলো কেন? এসব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুত্ববাদী যে রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, এসব ঘটনা সেই আকাঙ্ক্ষাকে নানাভাবে চুরমার করে দিতে চায়। আশা করব, রাষ্ট্র দ্রুত এ ঘটনার তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। ওই ঘটনাসহ মধুপুর শালবনের সব অমীমাংসিত বন্দুক বাহাদুরির বিচার করবে। তা না হলে কালাপাহাড় আবার আরেক বাগদা ফার্ম হয়ে উঠবে। 

কী ঘটেছিল সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মে?

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীপ্রতিপুর মৌজায় ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৭ সালে তৈরি হয় রংপুর মহিমাগঞ্জ চিনিকল। ১৯৫৬ সালে ‘পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন’ ইক্ষু খামারের জন্য ১৫টি সাঁওতাল ও পাহাড়িয়া আদিবাসী গ্রাম এবং ৫টি বাঙালি গ্রাম উচ্ছেদ করে। ৫ নম্বর সাপমারা ইউনিয়নের রামপুর, সাপমারা, মাদারপুর, নরেঙ্গাবাদ ও চকরহিমাপুর মৌজার ১৮৪২.৩০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। অধিগ্রহণ চুক্তিতে ছিল– আখ ভিন্ন অন্য কিছু চাষ হলে এসব জমি আবার ভূমি মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অধিগ্রহণের পর বেশ কিছু জমিতে আখ চাষ এবং চিনি উৎপাদিত হয়। কিন্তু চিনিকল কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দরুন ২০০৪ সালের ৩১ মার্চ কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। চিনিকল কর্তৃপক্ষ নানাভাবে অধিগ্রহণকৃত জমি বহিরাগত প্রভাবশালীদের কাছে ইজারা দিতে শুরু করে। শুরু হয় মাছ চাষ ও অন্যান্য বাণিজ্যক আবাদ। জমির উত্তরাধিকার ফিরে পেতে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সদস্যরা সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। 
২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রশাসন, চিনিকল, তৎকালীন জনপ্রতিনিধি এবং তাদের ভাড়াটে বাহিনী হামলা করে আন্দোলনকারীদের ওপর। ঘরবাড়ি ভাংচুর করে। সবজি বাগান গুঁড়িয়ে দেয়। শহীদ হন মঙ্গল মার্ডী, শ্যামল হেমব্রম ও রমেশ টুডু। গুরুতর আহত হন দ্বিজেন টুডু, ফুলমণি কিসকুসহ বহুজন। 

কালাপাহাড়ে রাবার কোম্পানির কাহিনি

রাবার বোর্ড আইনের মাধ্যমে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ রাবার বোর্ড’। বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সঙ্গে কাজ করলেও ২০১৯ থেকে স্বতন্ত্রভাবে এই বোর্ড কাজ শুরু করে। এই বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ উপনিবেশের মাধ্যমে দেশে রাবার চাষ শুরু হয়। ১৯৬১ সালে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি বনাঞ্চলে রাবার চাষ শুরু হয়। ১৯৬১-৬২ সালে বন বিভাগ থেকে করপোরেশনের কাছে রাবার চাষের কার্যক্রম হস্তান্তর হয়। দেশে বর্তমানে এক লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৩ একর বাগানে রাবার উৎপাদিত হয় ৮৪ হাজার ৪৭২ টন। চট্টগ্রামের রামু, রাউজান, ডাবুয়া, হলুদিয়া, কাঞ্চননগর, রাঙ্গামাটিয়া, তারাখো, দাতমারা; সিলেটের ভাটেরা, সাতগাঁও, শাহজীবাজার, রূপাইছড়া; টাঙ্গাইল ও শেরপুরের পীরগাছা, চাঁদপুর, সন্তোষপুর, কমলাপুর ও কর্ণঝোড়া– এই ১৭টি রাবার বাগানের প্রতিটিই প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র বিনাশ করে তৈরি হয়েছে। 

আশির দশকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ‘থানা বনায়ন ও নার্সারি উন্নয়ন প্রকল্পের (টিএএনডিপি)’ নামে মধুপুর শালবন ধ্বংস করে তথাকথিত ‘সামাজিক বনায়ন’ শুরু হয়। শুরু হয় একাশিয়া, ইউক্যালিপটাস ও ম্যাঞ্চিয়ামের মতো আগ্রাসী গাছের বাগান। মধুপুরের কালাপাহাড়ে ১৯৮৬ সালে এভাবেই শুরু হয় বাণিজ্যিক রাবার বাগান। যদিও এখন রাবার নয়; বাগদা ফার্মের মতো এখানেও রাবার ছাড়া কলা ও আনারসের আবাদই বেশি হচ্ছে। বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) এক গবেষণায় ২০১৫ সালের চিত্রে দেখা যায়, মাত্র আড়াই হাজার হেক্টরে শালবন। বনের অধিকাংশ জায়গাজুড়ে রাবার, আনারস ও আগ্রাসী গাছের বাগান। 

মধুপুর শালবনে বারবার বন্দুক কেন?

মধুপুর শালবনের প্রাচীন বৈচিত্র্য-বৈভব এখন নেই। একই সঙ্গে বনের আদিবাসী জনগণ হারিয়ে ফেলছে তাদের বনভূমি, প্রাণসম্পদ ও সংস্কৃতির প্রথাগত অধিকার। এই করুণ পরিণতির জন্য দায়ী রাষ্ট্র ও নয়াউদারীকরণ ব্যবস্থার বৈষম্যমূলক নীতি, দৃষ্টিভঙ্গি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। ঐতিহাসিক এই বনকে সামরিকীকরণ করা হয়েছে। বনের প্রাণসম্পদ এবং জনজীবনের জটিল সম্পর্ককে ছিন্ন করে ফায়ারিং রেঞ্জ, বিমানবাহিনীর বোম্বিং রেঞ্জ, সেনাক্যাম্প যেমন তৈরি হয়েছে, একই সঙ্গে বন সুরক্ষার নামে বন বিভাগের হাতে জারি রাখা হয়েছে বন্দুক। 

১৯৫০ সালে প্রজাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে এক বিশাল অংশ হয়ে যায় ‘রাষ্ট্রীয় বনভূমি’। মান্দি-কোচরা হারায় ভূমির প্রথাগত মালিকানা। ১৯৬২ সালে ‘জাতীয় উদ্যান’-এর নামে তারের বেড়ার ভেতর আটকে পড়ে এক প্রাচীন পত্রঝরা বন। ১৯৭৭-৭৮ সালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য বন বিভাগ দখলকৃত ‘সংরক্ষিত বন এলাকা’য় করা হয় বোম্বিং রেঞ্জ। রাজবাড়ির মতো প্রাচীন গ্রাম উচ্ছেদ হয়।

১৯৮৪ সালে মধুপুর বনে বসবাসরত মান্দি-কোচদের বন বিভাগ আবার উচ্ছেদ নোটিশ দেয়। ১৯৮৬ থেকে শুরু হয় আগ্রাসী গাছ ও রাবারের বাণিজ্যিক বাগান। ২০০১ সালে ভূমির জন্য খুন হন গীদিতা রেমা। পরপর খুন হন নিন্তনাথ হাদিমা, সেন্টু নকরেক, অধীর দফো। ২০০৪ সালের ৩ জানুয়ারি ইকো পার্কবিরোধী মিছিলে বনরক্ষী ও পুলিশের গুলিতে নিহত হন পীরেন স্নাল। ২০০৬ সালে ঝরা শালপাতা কুড়াতে গিয়ে বন বিভাগের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যান শিশিলিয়া স্নাল। 

২০০৭ সালে দখলকৃত বনভূমি ‘উদ্ধার’-এর নামে একের পর এক কলাবাগান কেটে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে মারা যান চলেশ রিছিল। ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পেগামারি গ্রামের বাসন্তী রেমা ও গেটিস যেত্রা পরিবারের ৫০ শতক জমির পাঁচ শতাধিক সবরি কলাগাছ কেটে ফেলে বন বিভাগ। 
২০১৬ সালে অরণখোলা মৌজার ৯১৪৫.০৭ একর ভূমিকে আবারও সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আদিবাসীদের উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালে কৃষিজমিতে কৃত্রিম লেক খনন করতে চায় বন বিভাগ। ২০২৪ সালের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আশা করা হয়েছিল, মধুপুর বনের সঙ্গে রাষ্ট্রের বৈষম্যবাদী কর্তৃত্ব কমে আসবে। কিন্তু তা হয়নি। শালবন পুনরুদ্ধার, প্রায় সাড়ে পাঁচশ মিথ্যা বন মামলার ভেতর মাত্র ৮৮টি বন মামলা বাতিল, বনের ভেতর চিড়িয়াখানার ময়ূর আর কচ্ছপ ছাড়া এবং বনাঞ্চলে ঐতিহাসিকভাবে বসবাসরত আদিবাসী গ্রামের জরিপের মতো কিছু কাজ হয়েছে। 
জুলাই অভ্যুত্থানের পর বন বিভাগ থেকে ‘মধুপুর বনাঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বনভূমি ব্যবহারের আবেদন ফরম (রিট মামলা নং-১৮৩৪/১০)’ শীর্ষক একটি অদ্ভুত আবেদন ফরম গছিয়ে দেওয়া হয়েছে আদিবাসীদের। একই সঙ্গে গায়রা গ্রামের গরগইরা বাইদে কৃষিজমিতে জোর করে খনন করতে গিয়ে বন বিভাগের সঙ্গে শুরু হয়েছে নতুন বিবাদ। 

রাবার বাণিজ্যের মাস্তানিকে প্রশ্ন করা জরুরি

আখ, তামাক, হাইব্রিড ভুট্টা, নীল, চা, সেগুন কিংবা রাবার; যে কোনো বাণিজ্যিক আবাদই প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঔপনিবেশিকতা তৈরি করে। বহুমুখী প্রতিবেশগত ও অর্থনৈতিক অবদান না থাকলেও দেশের বহু প্রাকৃতিক বন ও বাস্তুতন্ত্র রাবার বাগানের কারণে বিনষ্ট হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব-সংঘাত তৈরি করেছে। রাবার কোম্পানি রাবার উৎপাদনের চেয়ে দেশজুড়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে নানামুখী মাস্তানি জারি রেখেছে। 

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারি ইউনিয়নের চাক আদিবাসীদের জীবন ও জনপদ রাবার বাগানের নামে বিধ্বস্ত হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পার্বত্য চট্টগ্রামেও পাহাড়ি বাস্তুতন্ত্র বিনাশকারী বাণিজ্যিক বাগানকে নানাভাবে উস্কে দিয়েছিল। বান্দরবানের লামার সরই পাহাড়ে লামা রাবার কোম্পানি সেখানকার ম্রো, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর জুম ও জীবন-জীবিকা নানাভাবে বিপন্ন করেছে। পাহাড়ি ছড়ায় বিষ দিয়ে বন্যপ্রাণী হত্যা করেছে; আগুনে পুড়িয়েছে ঘর ও গাছপালা। রাবার আবাদ বিষয়ে জনমত সাপেক্ষে রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি। মধুপুরের চাঁদপুর রাবার বাগানের অবদান জনসমক্ষে হাজির করা দরকার। 

মধুপুরে যা ঘটেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়; রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের সংবিধান সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণও এ দেশের নাগরিক এবং তাদের জীবন, বসতি ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই মধুপুরের মতো ঘটনায় শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়; নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি জরুরি। এ ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে মধুপুর অঞ্চলের ভূমি সমস্যা সমাধানে সরকারকে সুস্পষ্ট নীতি নিতে হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত বসবাস ও জীবিকার অধিকারকে সম্মান না করলে সংঘাত বাড়তেই থাকবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়– দুর্বল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। নইলে রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি কেবল কাগজেই থেকে যাবে। মধুপুরের এ ঘটনা তাই শুধু একটি পরিবারের দুর্ভাগ্যের গল্প নয়; এটি আমাদের প্রশাসনিক জবাবদিহি, মানবাধিকার এবং ন্যায়ের প্রতি অঙ্গীকারেরও পরীক্ষা।

রাবারের মতো বাস্তুতন্ত্র বিনাশকারী বাণিজ্যিক আবাদ থেকে সরে এসে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ও শালবন পুনরুদ্ধার এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিশা হতে পারে। দেশি শস্য ফসলের মিশ্র বাগান এবং প্রাকৃতিক চাষাবাদ কালাপাহাড়ের প্রতিবেশ ও স্থানীয় জনজীবনের নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে পারে। রমেন কুবি কিংবা শিবলী মাংসাংদের সামনে তাহলে আর কেউ বন্দুকবাজি করতে পারবে না।
nপাভেল পার্থ: লেখক ও গবেষক
[email protected]
 

আরও পড়ুন

×