রসুন-বাজারেও বর্গি হানা?
×
ছবি: ফাইল
--
প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:৩৮
অবিভক্ত বাংলার গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত ছেলেভুলানো ছড়ায় আমরা দেখতে পাই- ধান ও পান ফুরিয়ে গেলে খাজনা শোধের একমাত্র উপায় রসুন। মা বলছেন- আর ক'টা দিন সবুর করো রসুন বুনেছি। সেই খাজনা অবশ্য প্রচলিত জমিদারির নয়, বঙ্গে হামলা ও লুটপাট করতে আসা বর্গিদের জন্য। ষোড়শ শতকে হানাদার মারাঠাদের সন্তুষ্ট করতে রসুন কাজে এলেও এখন অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে খোদ রসুনের বাজারেই যেন বর্গি হানা দিয়েছে। প্রাচীন বাংলার মতো ধান ও পান নয়, বরং পেঁয়াজ ও লবণের পর রসুনে টান পড়েছে। অবশ্য এই রসুন বোনা নয়, আমদানি করা। আমাদের দেশে যদিও রসুন উৎপাদন হয়, একটি অংশ আমদানিও করতে হয়। বৃহস্পতিবার সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে রসুনের 'অস্থিরতা' তুলে ধরা হয়েছে। আমরা এই অস্থিরতাকে বর্গি হানার সঙ্গে তুলনা করছি, কারণ পেঁয়াজের মতোই এর দাম বাড়ার যৌক্তিক কারণ নেই।
আমরা স্বীকার করি, প্রথম সারির খাদ্যশস্য না হলেও রসুনের চাহিদা বাংলাদেশে কম নয়। তরকারিতে মসলা হিসেবে ব্যবহার হওয়া ছাড়াও এর ওষুধি ব্যবহার রয়েছে। সীমিত পরিসরে রয়েছে সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও। কিন্তু ভুলে যাওয়া চলবে না যে, রসুন উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের দেশে রসুনের বার্ষিক চাহিদা কমবেশি ছয় লাখ টন। আর দেশজ উৎপাদন তার বেশি। কিন্তু সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে যে পরিমাণ রসুন পচে যায়, সেটাই মূলত আমদানি করতে হয়। উৎপাদন ও চাহিদার পরিমাণ নিয়ে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে তারতম্যও যদি আমরা বিবেচনা করি, চাহিদার সঙ্গে দেশীয় উৎপাদনের ঘাটতি কোনোভাবেই ১৫-২০ শতাংশের বেশি নয়। উৎপাদন ও চাহিদার এই ঘাটতি নিয়ে রসুনের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেবে কেন? আর রান্নায় রসুনের ব্যবহারও পেঁয়াজের মতো ব্যাপক নয়। এও মনে রাখতে হবে, ইতিমধ্যে দেশীয় রসুন মাঠ থেকে উঠতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় যখন আমদানি করা রসুনের ওপর নির্ভরতা কমার কথা, তখন দেশের প্রধান আমদানি বাজারে এমন অস্থিরতা স্বাভাবিক হতে পারে না।
আমরা অস্বীকার করছি না যে, দেশের রসুন আমদানি প্রায় সম্পূর্ণভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে করোনাভাইরাস দেখা দেওয়ায় দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি স্থগিত রয়েছে। কিন্তু এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ এখনও দুই সপ্তাহ পার হয়নি। এর মধ্যেই রসুনের বাজারে অস্থিরতা কারসাজি ছাড়া আর কী হতে পারে? সাম্প্রতিক পেঁয়াজ সংকটের সময়ও আমরা একই চিত্র দেখেছি। রসুনের ক্ষেত্রে এর পুনরাবৃত্তি প্রত্যাশিত নয়। পেঁয়াজের বাজারের ক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপ বিলম্বে নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। আমরা দেখতে চাই রসুনের ক্ষেত্রে সময়ে এক ফোঁড় দেওয়া হয়েছে। রসুনের বাজারে হানা দিতে চাওয়া নব্য বর্গি কারা, এখনই শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকেও সময় থাকতে সক্রিয় হতে হবে। লবণের কৃত্রিম সংকটের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা দেখা গিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে দ্রুততম সময়ে তা নিয়ন্ত্রণেও এসেছিল। রসুনের ক্ষেত্রে আমরা সংশ্নিষ্টদের সতর্ক থাকতে এবং লবণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে বলি।
দীর্ঘমেয়াদে আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে উৎস দেশের সংখ্যা বাড়াতে বলি। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে বিপুলভাবে ভারত নির্ভরশীলতা এবং রসুনের ক্ষেত্রে চীন নির্ভরশীলতা যে সামান্যতেই নাজুক হয়ে পড়তে পারে, পরপর দুটি সংকটে প্রমাণিত হলো। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে যেমন ভারতের বাইরে, তেমনই রসুনের ক্ষেত্রে চীনের বাইরে আরও দেশ রয়েছে, যেখান থেকে আমদানি করা যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় দেশজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিলে।
আমরা স্বীকার করি, প্রথম সারির খাদ্যশস্য না হলেও রসুনের চাহিদা বাংলাদেশে কম নয়। তরকারিতে মসলা হিসেবে ব্যবহার হওয়া ছাড়াও এর ওষুধি ব্যবহার রয়েছে। সীমিত পরিসরে রয়েছে সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও। কিন্তু ভুলে যাওয়া চলবে না যে, রসুন উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের দেশে রসুনের বার্ষিক চাহিদা কমবেশি ছয় লাখ টন। আর দেশজ উৎপাদন তার বেশি। কিন্তু সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে যে পরিমাণ রসুন পচে যায়, সেটাই মূলত আমদানি করতে হয়। উৎপাদন ও চাহিদার পরিমাণ নিয়ে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে তারতম্যও যদি আমরা বিবেচনা করি, চাহিদার সঙ্গে দেশীয় উৎপাদনের ঘাটতি কোনোভাবেই ১৫-২০ শতাংশের বেশি নয়। উৎপাদন ও চাহিদার এই ঘাটতি নিয়ে রসুনের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেবে কেন? আর রান্নায় রসুনের ব্যবহারও পেঁয়াজের মতো ব্যাপক নয়। এও মনে রাখতে হবে, ইতিমধ্যে দেশীয় রসুন মাঠ থেকে উঠতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় যখন আমদানি করা রসুনের ওপর নির্ভরতা কমার কথা, তখন দেশের প্রধান আমদানি বাজারে এমন অস্থিরতা স্বাভাবিক হতে পারে না।
আমরা অস্বীকার করছি না যে, দেশের রসুন আমদানি প্রায় সম্পূর্ণভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে করোনাভাইরাস দেখা দেওয়ায় দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি স্থগিত রয়েছে। কিন্তু এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ এখনও দুই সপ্তাহ পার হয়নি। এর মধ্যেই রসুনের বাজারে অস্থিরতা কারসাজি ছাড়া আর কী হতে পারে? সাম্প্রতিক পেঁয়াজ সংকটের সময়ও আমরা একই চিত্র দেখেছি। রসুনের ক্ষেত্রে এর পুনরাবৃত্তি প্রত্যাশিত নয়। পেঁয়াজের বাজারের ক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপ বিলম্বে নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। আমরা দেখতে চাই রসুনের ক্ষেত্রে সময়ে এক ফোঁড় দেওয়া হয়েছে। রসুনের বাজারে হানা দিতে চাওয়া নব্য বর্গি কারা, এখনই শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকেও সময় থাকতে সক্রিয় হতে হবে। লবণের কৃত্রিম সংকটের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা দেখা গিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে দ্রুততম সময়ে তা নিয়ন্ত্রণেও এসেছিল। রসুনের ক্ষেত্রে আমরা সংশ্নিষ্টদের সতর্ক থাকতে এবং লবণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে বলি।
দীর্ঘমেয়াদে আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে উৎস দেশের সংখ্যা বাড়াতে বলি। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে বিপুলভাবে ভারত নির্ভরশীলতা এবং রসুনের ক্ষেত্রে চীন নির্ভরশীলতা যে সামান্যতেই নাজুক হয়ে পড়তে পারে, পরপর দুটি সংকটে প্রমাণিত হলো। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে যেমন ভারতের বাইরে, তেমনই রসুনের ক্ষেত্রে চীনের বাইরে আরও দেশ রয়েছে, যেখান থেকে আমদানি করা যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় দেশজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিলে।
- বিষয় :
- রসুন
