শিশুর ক্যান্সার
ছোট প্রাণ বড় ব্যথা
--
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৪:১৩
বড়দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শিশুদের মধ্যে ক্যান্সার রোগী বাড়ছে; দেশে মোট ক্যান্সার রোগীর মধ্যে ৪ শতাংশই শিশু- বিশ্ব শিশু ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে শনিবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের এমন ভাষ্য নিছক পরিসংখ্যানের বিষয় হতে পারে না। ক্যান্সার রোগীর ব্যথা ও বেদনা কতটা ভয়াবহ, আমরা জানি। শক্ত-সামর্থ্য, পরিণত মানুষকেও নির্জীব করে ফেলে। একই রোগে আক্রান্ত শিশুর বেদনা যদিও সমান কিংবা বেশি, প্রকাশের ক্ষমতা নেহাতই কম। ক্যান্সার রোগী শিশুদের বিষণ্ণ মুখ, যন্ত্রণাক্লিষ্ট অবয়ব আর অসহায় চোখে না বলা কত যে বেদনার কথা গুমরে গুমরে ফেরে! সমকালের আলোচ্য প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, এমন শিশুদের চিকিৎসার হারও বড়দের তুলনায় কম। দেশে প্রতি বছর কমবেশি যে ১৩ হাজার শিশুর ক্যান্সার ধরা পড়ে, তার মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ চিকিৎসাসেবার আওতায় আসে। ভাবতেও আমরা মরমে মরে যাই যে, ৯০ শতাংশই বিনা চিকিৎসায় ধুঁকতে থাকে। এও মনে রাখতে হবে, ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। অনেকের হয়তো রোগটি ধরাই পড়ে না। অন্য কোনো রোগ ভেবে অন্য কোনো চিকিৎসা চালানো হয়।
সাধারণভাবে আমরা দেখি, পরিণত মানুষ যখন ক্যান্সার আক্রান্ত হন, তখন সর্বস্ব দিয়ে চিকিৎসা চালানোর চেষ্টা করেন নিজে। কেবল পরিবারের ওপর প্রভাবের কারণে নয়, নিজের উপার্জন ও সঞ্চয়ও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। কিন্তু একটি শিশুর থাকে কেবল বাবা-মা বা স্বজনের ভালোবাসা ও সদিচ্ছা। বলা বাহুল্য, সদিচ্ছা থাকলেও সামর্থ্য থাকে না অনেক পরিবারের। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে। ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর দায়িত্ব নিতে হবে সরকার ও সমাজকে। দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যেসব ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে উঠেছে, সেখানে শিশু রোগীর চিকিৎসা, ওষুধ ও পথ্য বিনামূল্যে জোগানের ব্যবস্থা করতেই হবে। অস্বীকার করা যাবে না, ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
চলতি মাসের গোড়ার দিকে বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে সমকালেই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আমরা দেখেছিলাম, প্রতি বছর প্রায় দেড় লাখ নতুন ক্যান্সার রোগীর এই দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা মাত্র পাঁচশ'। সরকারি হাসপাতালের একটি শয্যার বিপরীতে তিন হাজার ক্যান্সার রোগী। তারপরও শিশুদের অগ্রাধিকার দিতেই হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যদি এভাবে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়, তাহলে জাতি গঠনের আশা দুরাশাই হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে ক্যান্সারের দ্রুত বিস্তৃতির কারণ নিরূপণ ও নিবারণেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাও নিতে হবে আমাদের। বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সময়ে বলে এসেছেন যে, খাদ্যে নির্বিচার ভেজাল ও পরিবেশ দূষণ ক্যান্সার বিস্তৃতির অন্যতম প্রধান কারণ। এখন সময় এসেছে এ ব্যাপারে শূন্য সহিষুষ্ণতা প্রদর্শনের।
- বিষয় :
- শিশুর ক্যান্সার
