নাগরিক নিরাপত্তা
অসতর্কতার আগুনে অনেক শিক্ষা
×
--
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:৫২
নারায়ণগঞ্জের সাহেবপাড়ায় গ্যাসের আগুনে মঙ্গলবার বৃদ্ধ মা ও বুধবার গৃহকর্তা পুত্রের মৃত্যু এবং পরিবারের অন্তত আরও ছয়জনের দগ্ধ হওয়া মর্মান্তিক, সন্দেহ নেই। কিন্তু কেবলই বেদনার নয়, একই সঙ্গে আক্ষেপেরও। একটু সতর্ক থাকলেই হয়তো এভাবে একই পরিবারের আটজনকে আগুনে পুড়তে হতো না। বুধবার সমকালসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, অসাবধানতাবশত রান্নার চুলা খোলা ছিল। 'গ্যাসের চাপ' কম থাকায় দিনের বেলা সেটা বোঝাও যায়নি। কিন্তু রাতে সেখান থেকে গোটা ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। ভোরে নুরজাহান বেগম পানি গরম করার জন্য চুলায় আগুন ধরালে মুহূর্তেই তা গোটা বাসায় ছড়িয়ে পড়ে। আমরা জানি, এভাবে গ্যাসলাইন খুলে রাখার ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও কেউ কেউ সতর্ক হন না। মাঝেমধ্যেই যে কারণে প্রাণহানির খবর মেলে। ছোটখাটো আরও দুর্ঘটনা নিশ্চয় সংবাদমাধ্যমের নজরের বাইরেই থেকে যায়। আমাদের প্রশ্ন, আর কত প্রাণ গেলে তবে নাগরিকরা সতর্ক হবে? এ ধরনের মৃত্যু গ্যাস সরবরাহের অমসৃণ ব্যবস্থাকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। এই ভাবনা অমূলক হতে পারে না যে, যদি 'গ্যাসের চাপ' স্বাভাবিক থাকত, তাহলে হয়তো বড় দুর্ঘটনার আগেই চুলা খোলা থাকার বিষয়টি নজরে আসত। আমরা এখন প্রত্যাশা করতে পারি, নারায়ণগঞ্জের এই দুর্ঘটনা থেকে সব নাগরিকই শিক্ষা নেবেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আরও সতর্ক হবেন। গ্যাস সরবরাহ কর্তৃপক্ষকেও আমরা বলব চুলাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে গ্যাস ব্যবহারে গ্রাহকদের আরও ঘন ঘন সতর্কতা ও সচেতনতামূলক বার্তা দিতে। এমন দুর্ঘটনা আমরা আর দেখতে চাই না। একই সঙ্গে অগ্নিদগ্ধ পরিবারটি যাতে উপযুক্ত চিকিৎসা পায়, সে ব্যাপারে নজর দিতে হবে সবার আগে। গৃহকর্তার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পরিবারটির পুনর্বাসন নিয়েও ভাবতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে পারে।
- বিষয় :
- নাগরিক নিরাপত্তা
