করোনা-দুর্যোগ
শ্রমজীবী মানুষের কথা ভাবুন
×
--
প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২০ | ১২:০৭
করোনাভাইরাসের বিস্তার ও সংক্রমণ রোধে ঘরবন্দি বা সংগনিরোধ প্রভৃতি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা প্রয়োগের তাগিদ এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই আমরা একাধিকবার দিয়েছি বটে; কিন্তু এই প্রশ্নও আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে- যারা দিন এনে দিন খায়, তাদের কী হবে? বস্তুত সোমবার সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রাজধানীর এক ঠেলাগাড়ি চালকের কণ্ঠে বিষয়টি আরও স্পষ্ট- 'কাম না করলে খামু কী।' আমরা জানি, দেশের শ্রমজীবী মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশের আপৎকালীন মজুদ থাকে না। অতি কষ্টে জীবন ঠেলে নিয়ে যেতে হয় তাদের। অতিবৃষ্টি, বন্যা কিংবা ঝড়ের দিনগুলোতে এসব মানুষের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে যায়। গত কয়েক সপ্তাহ করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে গিয়ে জনসমাগম যখন ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছিল, তখনই তাদের জীবিকার চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্ট হচ্ছিল। আলোচ্য প্রতিবেদনের সঙ্গেই প্রকাশিত ডালি-কোদাল নিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকা মানুষগুলোর মুখচ্ছবিই অনেক কথা বলে। সোমবারই দেশে টানা দশ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা উদ্বিগ্ন যে, এই দশটি দিন তাদের কীভাবে চলবে? সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পরও ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক হতে আরও কতদিন লাগবে, আমরা জানি না। দীর্ঘ সময়ের এই ধাক্কা শ্রমজীবী মানুষ সামলাবে কীভাবে? সমকালেই প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে আমরা দেখছি, করোনাভাইরাসের প্রভাবে কমবেশি সাড়ে তিনশ' পোশাক কারখানার রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। এর ধাক্কা নিশ্চয়ই সেখানে কর্মরত লাখ লাখ পোশাক শ্রমিকের জীবন ও জীবিকার ওপর পড়বে। সংক্রমণ এড়াতে পোশাক কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার দাবিও নাগরিকদের পক্ষ থেকে উঠছে। তারাই-বা কীভাবে চলবে? আমরা মনে করি, করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগে শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়েও ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংগঠিত কর্মক্ষেত্রগুলোর কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য সবেতন ছুটি ঘোষণা করতে পারে। অসংগঠিত শ্রম খাতেও নিতে বলি একই ব্যবস্থা। আর দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থার বিকল্প নেই। ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচ্ছল পরিবারগুলোতে যেসব কর্মী রয়েছে, তাদের দায়িত্ব সংশ্নিষ্টরা এড়াতে পারেন না। এই সময়ে সামান্য সহযোগিতা কিংবা আগাম বেতন-ভাতা হতে পারে অসামান্য উপকার। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের রেশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। আমরা দেখেছি, প্রতিবেশী ভারতে শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্তদের জন্য সরকারের পক্ষে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে করে কায়ক্লেশে হলেও তারা জীবনধারণ করতে পারবে। মনে রাখতে হবে, ঘরে যদি নূ্যনতম খাবারের সংস্থান না থাকে, তাহলে ঘরবন্দি, স্বেচ্ছা অবরোধ বা সংগনিরোধ ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব হবে না। জাতীয় পর্যায়ে করোনা মোকাবিলার স্বার্থেই কেবল নয়, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া এসব জনগোষ্ঠীর প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থেকেই আপৎকালে তাদের খাবার ও ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে।
- বিষয় :
- করোনা-দুর্যোগ
