'লকডাউন'
সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করুন
×
--
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২০ | ১২:৫০
করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও বিস্তার থেকে নাগরিক সুরক্ষার জন্য যে 'লকডাউন' বা সব পর্যায়ে যাতায়াত নিষেধাজ্ঞা আরও আগেই জরুরি ছিল, বিলম্বে হলেও সরকার তা কার্যকর করছে দেখে আমরা শঙ্কার মধ্যেও খানিকটা স্বস্তি বোধ করছি। বস্তুত চীনে করোনাভাইরাস চিহ্নিত হওয়ার পর থেকেই আমরা এই সম্পাদকীয় স্তম্ভে বিমান, নৌ, ও স্থলবন্দরসহ দেশের প্রবেশপথগুলোতে সতর্কতা ও নজরদারির তাগিদ দিয়ে এসেছি। আমরা দেখেছি, এই ক্ষেত্রে অসতর্কতা থাকায় ইতোমধ্যে প্রবাসফেরত বাংলাদেশিরা কীভাবে দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে এবং নানা এলাকায় জনসমাগমস্থলে গিয়ে করোনাভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই তথ্যও কম মর্মান্তিক নয় যে, করোনা আক্রান্তদের একটি বড় অংশই সংক্রমিত হয়েছিল প্রবাসফেরত স্বজনদের মাধ্যমে। মার্চের গোড়ার দিকে দেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সফল দেশগুলোর পদাঙ্ক অনুসরণ করে 'লকডাউন' করার পরামর্শও দিয়েছি আমরা। দুর্ভাগ্যবশত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়েছে। এমনকি গণপরিবহনগুলো সচল রেখেই সোমবার যেভাবে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, তার দূরদর্শিতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখেছি, ছুটি ঘোষিত হওয়ার পরপরই ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস ও ট্রেন স্টেশনে টিকিটপ্রার্থীদের ভিড় তৈরি হয়েছিল। দেশের প্রধান নদীবন্দর সদরঘাটেও ছিল একই চিত্র। অথচ আগেই দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে তারপর ছুটি ঘোষণা করলে এই পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে এড়ানো যেত। এই আশঙ্কা অমূলক হতে পারে না যে, এমন ভিড় থেকেই হয়তো আরও সংক্রমণ ছড়িয়েছে। অথচ সামান্য দূরদর্শিতার মাধ্যমে এর সুফল পাওয়া যেত। আমরা দেখতে চাই, বিলম্বে হলেও আগামী অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য 'লকডাউন' ব্যবস্থা সম্পূর্ণ কার্যকর হবে। আমরা জানি, ইতোমধ্যে বিমানবন্দরগুলো থেকে প্রায় সব আন্তর্জাতিক উড়ান এবং সব অভ্যন্তরীণ উড়ান বন্ধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বন্ধ হয়েছে দূরপাল্লার বাস, ট্রেন ও নৌযান। আমরা মনে করি, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই বিচ্ছিন্নতা অব্যাহত রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, করোনাভাইরাস বিস্তার ও সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্বই একমাত্র কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রমাণ হয়েছে। বাংলাদেশে আমরা এখনও যদি তা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে হয়তো অনেক প্রাণ বেঁচে যাবে। দুর্বিষহ জীবন থেকে রক্ষা পাবে অনেক নাগরিক। ইতিমধ্যে জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা আশা করি, তাদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন যোগ দিয়ে সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় শূন্য সহিষ্ণুতা প্রয়োগে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের সচেতনতার প্রতিও আমরা জোর দিতে চাই। যেখানে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বারবার জনসমাগম এড়িয়ে চলার কথা বলা হচ্ছে; সেখানে এখনও যত্রতত্র ভিড় করে কীভাবে? সবার প্রতি আমাদের আহ্বান, সামষ্টিক স্বার্থেই সবাই সামান্য অসুবিধা মেনে নিন এবং সামাজিক দূরত্ব রক্ষার মাধ্যমে সর্বব্যাপ্ত এই ভাইরাসকে মোকাবিলা করুন। সাময়িক এই সচেতনতা আমাদের দীর্ঘমেয়াদের লড়াইয়ে শক্তি জোগাবে।
- বিষয় :
- 'লকডাউন'
