ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

করোনা-সংকট

বিশ্বও থাকুক বাংলাদেশের পাশে

বিশ্বও থাকুক বাংলাদেশের পাশে
×

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী উপকরণ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবিটি শুক্রবার তোলা -সমকাল

--

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২০ | ১১:১৭

আমরা জানি, গোটা বিশ্বই এক অভিন্ন সংকটের মুখে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে যে লড়াই এখন মানব জাতি করছে, তা উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্ব নির্বিশেষে প্রায় সমান। আমরা দেখছি, সর্বব্যাপ্ত এই ভাইরাস মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলোও কীভাবে হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর করোনা লড়াই আরও কঠিন। আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে দুই দিকে। একদিকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে কাজ করতে হচ্ছে; অন্যদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জোগাতে হচ্ছে ত্রাণ সহায়তা। আবার বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান দুই স্তম্ভ পোশাক পণ্য রপ্তানি ও প্রবাসী আয়- দুটিই সংকটের মুখে পড়েছে। 'লকডাউন' পরিস্থিতির কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও অসংগঠিত শ্রম খাত কতটা ঝুঁকির মুখে, তাও স্পষ্ট। ত্রিমুখী এই সংকট মোকাবিলায় কেবল অভ্যন্তরীণ প্রচেষ্টা যথেষ্ট হতে পারে না। আমরা চাই, উন্নত বিশ্ব এই সময়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়াক। অস্বীকার করা যাবে না, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অর্থনৈতিকভাবে নিম্নআয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তকমাও আমরা ঝেড়ে ফেলতে যাচ্ছি। কিন্তু এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার বিকল্প নেই। আমরা জানি, ইতোমধ্যে চীনের পক্ষে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত এক খোলা চিঠিতে এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। করোনা মোকাবিলায় তহবিল সংগ্রহে জাতিসংঘ সহযোগিতার প্রস্তাব করেছে। কয়েকদিন আগে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে করোনা মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা মনে করি- কেবল করোনা মোকাবিলা নয়, এর কারণে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন হবে, তার প্রতিশ্রুতি ও প্রস্তুতিও থাকতে হবে। বিশেষত ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পোশাক শিল্পের রপ্তানি খাতে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে এবং কর্মহীনতার শিকার না হয়, নজর রাখতে হবে সেদিকে। মনে রাখা জরুরি, এই দুই খাতে আঘাত এলে তার অভিঘাত সৃষ্টি হবে লাখ লাখ পরিবারে। তা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক হবে না। এও ভুলে যাওয়া চলবে না, কমবেশি ১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বোঝা রয়েছে বাংলাদেশের কাঁধে। তাদের জন্য প্রতিশ্রুত সহায়তাও অব্যাহত থাকতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের সামনের সারিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য এ সংক্রান্ত সহায়তায় স্থবিরতার অবকাশ নেই। একই সঙ্গে অব্যাহত রাখতে হবে উন্নয়ন সহযোগিতা ও ঋণপ্রবাহ। ইতোমধ্যে বেশ কিছু অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া মাঝপথে রয়েছে। সময়মতো অর্থছাড়ের অভাবে এসব প্রকল্প যাতে গতি না হারায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ নিশ্চয়ই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে। সেই উদ্যম ও মনোবল আমাদের রয়েছে; কিন্তু পাশে পেতে হবে বিশ্বকে।

আরও পড়ুন

×