হাওরে ধান কাটার যন্ত্র
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক পদক্ষেপ
×
--
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:৫৭ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ সময়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে হাওরের সাত জেলার কৃষকদের জন্য ধান কাটার যন্ত্র বরাদ্দের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী। এই দুর্যোগকালে বোরো ধান কাটার শ্রমিক নিয়ে যখন সবাই দুশ্চিন্তায়, ঠিক এমন সময়ে সরকারের এ সিদ্ধান্তে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে বলে শুক্রবারের সমকালে প্রকাশ। বস্তুত এসব যন্ত্রে কেবল দ্রুত ধান মাড়াই, গুদামজাত সহজ ও আগাম বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল থেকে বোরো ধান রক্ষা করাই সম্ভব হবে না; একই সঙ্গে চলমান করোনা দুর্যোগে কৃষি খাতে যে ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন, তাতেও এক ধাপ এগিয়ে যাব বলে আমরা মনে করি। করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে বলে এ দুর্যোগ-পরবর্তীকালে বিশ্বব্যাপীই খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে, তা অনেকের ধারণা। তার প্রস্তুতি হিসেবে খাদ্য সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করতে কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া, কৃষকের পাশে দাঁড়ানোও জরুরি। আমরা জানি, দেশের চালের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ হাওরে কৃষকরাই পূরণ করেন। সর্বাগ্রে তাদের কথা চিন্তা করে ধান কাটার জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন যে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার বরাদ্দ করা হয়েছে, সে জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়কে আমরা ধন্যবাদ জানাই। সমকালের আলোচ্য প্রতিবেদনে আমরা দেখেছি, হাওরের বাইরেও কৃষি মন্ত্রণালয় ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে জুনের মধ্যে সারাদেশে তিন ক্যাটাগরিতে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করবে। আমরা মনে করি, এসব আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার বাড়লে কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমবে, ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং ফসলের অপচয় রোধ হবে। তাতে কৃষি-কৃষকই লাভবান হবে না; একই সঙ্গে খাদ্য নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তাও কমবে। আমরা চাই, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যেন এসব সামগ্রী কৃষকের কাছে পৌঁছতে বিলম্ব না হয়। এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করা চাই। করোনা দুর্যোগ-পরবর্তী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি খাত ও কৃষককে রক্ষায় আরও কী করা যায়, তা ভেবে কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেই আমরা আশা করি। আমরা দেখেছি, অতীতের সব দুর্যোগ বন্যা, খরা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কৃষকরাই আমাদের সাহস জুগিয়েছেন। করোনা দুর্যোগেও তারা সে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের প্রতি সরকারের সহযোগিতার হাত আরও প্রসারিত হোক।
