ত্রাণ ও ওএমএস জমায়েত
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে
×
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউওইচও) প্রধান টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস-ফাইল ছবি
--
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:৫৮ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি আমাদের দেশে যে মাত্রা লাভ করেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিদ্যমান বাস্তবতা বলছে, সামনের দিনগুলোর জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া বিকল্প নেই। আমরা মনে করি, এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের আরও ব্যবস্থা নেওয়া খুব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা জানি, এই ভয়াবহ সংক্রমণ ঠেকাতে সর্বাগ্রে দরকার সচেতনতা, অধিকতর সতর্কতা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে ইতোমধ্যে সরকার সেনাবাহিনীসহ প্রত্যেকটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাঠে নামিয়েছে। কিন্তু তারপরও এ ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হচ্ছে উদ্বেগজনক চিত্র। বৃহস্পতিবার সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরিকল্পিত ত্রাণ কার্যক্রম বাড়াচ্ছে করোনা ঝুঁকি। একই দিন অন্য সংবাদমাধ্যমে আরও বলা হয়েছে, ওএমএস জমায়েতও একইভাবে ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। আমরা এর আগে সম্পাদকীয় স্তম্ভে লিখেছিলাম, এলাকাভিত্তিক ওএমএস ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য কোনো মাঠ কিংবা বড় পরিসরে এ ব্যবস্থা করা হোক; যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মানুষ ত্রাণ নিতে ও ওএমএসের চাল ক্রয় করতে পারে। কিন্তু ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কিছুতেই প্রয়োজনীয় সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা যাচ্ছে না। অনেকেরই এখনও স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে যে উদাসীনতা কিংবা অসচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে ক্রমেই ঝুঁকির মাত্রা প্রকট হচ্ছে। আমাদের দেশে করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই সজাগ ও সতর্ক থেকে সেই মোতাবেক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন সময়ে সময়ে। কিন্তু জনসমাজে এরপরও সচেতনতার যথেষ্ট অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। আমাদের সবকিছুই সীমিত। কিন্তু এর মধ্যেও সরকার করোনাভাইরাস সংক্রমণের থাবা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে ও এর বিরূপ প্রভাব ঠেকাতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে যদি সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও নিয়ম-কানুন মেনে না চলে, তাহলে বিপদ থেকে পরিত্রাণের পথ সুগম করা যাবে না। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাড়াতে হবে সহযোগিতার হাত। যথাযথভাবে ত্রাণ বিতরণ ও ওএমএস কার্যক্রম চালানো এ মুহূর্তে জরুরি কাজ বটে। কিন্তু মানুষ যদি এখনও অসচেতনতার বৃত্তমুক্ত হতে না পারে, তাহলে আমাদের বড় মাশুল গুনতে হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ইতোমধ্যে আমরা করোনার এক মাস অতিক্রম করেছি। এই সংক্রমণ ব্যাধির নানা রকম বিরূপ প্রভাব এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখন পর্যন্ত যেহেতু এ সংক্রমণ ব্যাধি ঠেকানোর প্রতিষেধক আবিস্কৃত হয়নি, সেহেতু সচেতনতা-সতর্কতা-সামাজিক প্রতিরোধ কার্যক্রমের প্রতি গুরুত্ব আরোপ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে প্রতিরোধে মনোযোগ বাড়াতেই হবে। সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধেই নির্ণয় করতে হবে সংক্রমণ ঠেকানোর পথ। আক্রান্ত হওয়ার আগে প্রতিরোধই উত্তম পন্থা।
