আন্তর্জাতিক
ইরানের ব্যাপারে ট্রাম্পের ভাষণ যে বার্তা দিচ্ছে
ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার তার ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধে তার পদক্ষেপের বিষয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন
ম্যাট স্পেটালনিক ও হুমায়রা পামুক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:২৯ | আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:৩২
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার তার ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধে তার পদক্ষেপের বিষয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন এখনও চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের অভিযান প্রায় সমাপ্তির পথে; একইসাথে তিনি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে বোমা মেরে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশ্বজুড়ে তেলের উচ্চমূল্য এবং তার পক্ষে জনসমর্থন কমে আসার প্রেক্ষাপটে তিনি ১৯ মিনিটের এই ভাষণটি দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ধ্বংস করেছে এবং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি অচল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে তাদের ওপর ‘অত্যন্ত কঠোর’ আঘাত হানতে থাকবে। কিন্তু এর বাইরেও মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের লক্ষ্য ‘অচিরেই’ সম্পন্ন করার পথে। একথা বললেও তিনি সংঘাত অবসানের কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে বিরত থেকেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আলোচনা চলাকালে ইরানি নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে না নিলে যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে এবং ইরানের জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোতে হামলাও হতে পারে।
ইরানের পরিবর্তে তিনি উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে নেতৃত্ব দিতে এবং জলপথটি পুনরায় চালু করার জন্য তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। এসময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দায়িত্ব ছাড়ার কথা বলছি না, কারণ তার মতে এই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে, পশ্চিমা মিত্ররা এমন একটি যুদ্ধে যোগ দিতে প্রতিরোধ করেছে, যা তিনি এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাদের সাথে পরামর্শ না করেই শুরু করেছেন।
তবে, তার ভাষণে ট্রাম্প সরাসরি বলেননি যে, ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিতে ব্যর্থতার কারণে তিনি ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন, যেমনটা তিনি সাম্প্রতিক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকারে বলে এসেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ঝুঁকি হলো, এর ফলে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের হাতে কার্যত একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব চলে আসবে, যা দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।
ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় মিত্ররাও যুক্তরাষ্ট্রের এই তড়িঘড়ি প্রস্থানে অসন্তুষ্ট হতে পারে। কারণ, এর ফলে তারা একটি আহত ও বৈরী প্রতিবেশীর সম্মুখীন হতে পারে। ট্রাম্প এই সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাফল্যের কথা ফলাও করে প্রচার করছেন। কিন্তু যুদ্ধের শুরুতে তিনি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন। এ লক্ষ্য তিনি সত্যিই অর্জন করতে পেরেছেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এক মাসেরও বেশি সময় পরেও ইরানের কাছে এখনও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ রয়েছে, যা প্রক্রিয়াজাত করে বোমা তৈরির উপযোগী করা যেতে পারে। কিন্তু ধারণা করা হয় যে, জুনে মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে এর বেশিরভাগই মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে।
প্রথমদিকে ট্রাম্প ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি তুলেছিলেন, কিন্তু হঠাৎ তিনি এ দাবি থেকে সরে দাঁড়ালেন। তারপর ট্রাম্প বুধবার রয়টার্সকে বলেন, তিনি এই বিষয়টি নিয়ে আর মাথা ঘামান না। কারণ এটি ‘মাটির অনেক গভীরে’ রয়েছে এবং মার্কিন উপগ্রহ ওই এলাকার ওপর নজর রাখতে পারে, যদিও ইরান বরাবরই পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টার কথা অস্বীকার করে এসেছে।
বুধবারের ভাষণটি ট্রাম্পকে দর্শকপ্রিয়তা এবং ভোটারদের কাছে নিজের অবস্থান নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছিল। তিনি হোয়াইট হাউসের বাসভবনের জোড়া দরজা দিয়ে হেঁটে পোডিয়ামের দিকে এগিয়ে গিয়ে এক নাটকীয় উপস্থিতি সামনে আনেন।
কিন্তু পরবর্তী ১৯ মিনিট ধরে তিনি একটি আবছা আলোবেষ্টিত একটি কক্ষে মূলত সংযত স্বরে কথা বলেন। এসময় তিনি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট করার পরিবর্তে গতানুগতিক কিছু কথা বলেন। সাবেক এই রিয়ালিটি টিভি তারকা জনসমক্ষে উপস্থিতির চেয়ে এটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র, যিনি সম্ভবত ফেব্রুয়ারির ‘স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণের পর এবার সবচেয়ে বেশি দর্শকের সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন।
ম্যাট স্পেটালনিক ও হুমায়রা পামুক: রয়টার্সের প্রতিবেদক; ভাষান্তর ইফতেখারুল ইসলাম
- বিষয় :
- ডোনাল্ড ট্রাম্প
- ভাষণ
- ইরান
- যুক্তরাষ্ট্র
- যুদ্ধ
