ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অন্যদৃষ্টি

জনসংখ্যার রূপান্তর ঘটুক জনসম্পদে

জনসংখ্যার রূপান্তর ঘটুক জনসম্পদে
×

মোজাহিদ হোসেন 

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৭:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ, কিন্তু সম্পদ সীমিত। বিশাল জনসংখ্যা ও সীমিত সম্পদ দিয়ে কখনও দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকরী উদ্যোগ, যার মাধ্যমে এই বিশাল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা যাবে। বর্তমান সময়ে এটি সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা, দেশে দারিদ্র্য, বেকারত্ব বেড়েই চলেছে। প্রতিনিয়ত মানুষ বাড়ছে। সেই সঙ্গে জনগণের বহুমাত্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৫৭ লাখে দাঁড়িয়েছে, যার অর্ধেক সংখ্যক নারী এবং দুই-তৃতীয়াংশ (১১৫ মিলিয়ন) মানুষ কর্মক্ষম। এটি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল অর্জনের একটি সুযোগ। জনসংখ্যার ৭ শতাংশ, প্রায় ১.২ কোটি মানুষ ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, যা বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১৯ শতাংশ (প্রায় ৩৩ মিলিয়ন) কিশোর-কিশোরী এবং ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণের সংখ্যা প্রায় ৫০ মিলিয়ন, যা জনসংখ্যার ২৮ শতাংশ।
বাংলাদেশের আরেক বড় সমস্যা বেকারত্ব। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে ৪.৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সেই তথ্য অনুযায়ী, বেকারের সংখ্যা ২০২৩ সালে ২৫ লাখ ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ২৭ লাখে পৌঁছেছে। এ ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন ও সুনাগরিক গঠনে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা অপরিহার্য। 

একটি দেশের সম্পদ কম হলে সেই দেশের বিশাল জনসংখ্যা অনেক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তবে সেই জনসংখ্যাকে যদি জনসম্পদে রূপান্তর করা যায়, তাহলে দেশের জন্য অনেক বড় সফলতা। এ জন্য প্রয়োজন যথাযথ উদ্যোগ ও পরিকল্পনা। এ ক্ষেত্রে চীন, ভারত বা শ্রীলঙ্কার কথা বলা যেতে পারে, যেখানে সরকার জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করার মাধ্যমে সফলতা দেখিয়েছে। বাংলাদেশেও বিশাল জনসংখ্যা।

উপযুক্ত পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করে দেশের জনগণকে দক্ষ জনশক্তি ও জনসম্পদে রূপান্তর করা যায়। এ ক্ষেত্রে সরকারের নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। যেমন– বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। তাই কৃষিকে পরিপূর্ণভাবে আধুনিকায়ন করতে হবে। কেননা, এ দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে, যার সবাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। এভাবেই দেশের বেকারত্ব দূর এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব। 

দ্বিতীয়ত, কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার করা। কর্মমুখী শিক্ষা বলতে সেই শিক্ষাকে বোঝানো হয়, যার মাধ্যমে সহজেই একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে বেকার না থেকে কোনো না কোনো কাজে যুক্ত থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। 
তৃতীয়ত, আধুনিক যুগের সঙ্গে সমন্বয় করে চলার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ইত্যাদি বিষয়ে জনগণের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করা জরুরি। 

চতুর্থত, নারীশিক্ষার প্রসার; নারীদের শিক্ষা ও অর্থনীতিতে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা প্রদান করা অপরিহার্য। 
পঞ্চমত, শিশুশ্রম বন্ধ করা। শিশুদের সাধারণভাবেই বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে। শিশু শ্রমিক দিয়ে কখনও দেশের উন্নয়ন হবে না বা দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে না। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মমুখী শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। 
এ ছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ ও সামাজিক বৈষম্য দূর করে সবার জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। দেশকে এগিয়ে নিতে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা জরুরি।

মোজাহিদ হোসেন: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া 
[email protected]

আরও পড়ুন

×