ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অন্যদৃষ্টি

প্রান্তিক মানুষের সুরক্ষা

প্রান্তিক মানুষের সুরক্ষা
×

মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৭:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমানে দেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে একটি পাইলটিং কর্মসূচির বাস্তবায়ন চলছে, যা বর্তমান সরকার প্রবর্তিত অন্যতম সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা প্রদান। ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’– এই মৌলিক দর্শনের আলোকে সরকারি উদ্যোগে এ কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন। এটি বর্তমান সরকারের নারীকল্যাণমূলক একটি উদ্যোগ, যা একটি সামাজিক জরিপের মাধ্যমে নিম্ন-মধ্যবিত্ত প্রান্তিক নারীদের চিহ্নিত করা এবং ডিজিটাল ডেটাবেজ-ভিত্তিক বিশেষ পরিচয়পত্র প্রদানের ব্যবস্থা।

এ কর্মসূচি একটি রাজনৈতিক দলের দর্শন ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ। নারীকেন্দ্রিক এ কর্মসূচি দেশের চিহ্নিত ও যাচাইকৃত প্রান্তিক পরিবারগুলোকে সুরক্ষা প্রদানের বিশেষ উদ্যোগ। বর্তমান সরকার একজন নারীকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করেছে। তাই নারীর ক্ষমতায়নের কৌশল হিসেবেই এ কর্মসূচির প্রবর্তন।
সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলটিং কর্মসূচি হিসেবে এর বাস্তবায়ন শুরু করছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ কর্মসূচির বাস্তবায়ন চলছে। কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগী নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। 

পরিবার নির্বাচনে সম্পদের মানদণ্ড– গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম হতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী সরকারের অন্য কোনো মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। বিদ্যমান সুবিধা সারেন্ডার করতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অযোগ্যতা আছে। যথা– পিএমটি স্কোর ৮১৪-এর ওপরে থাকলে; পরিবারের কেউ সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন/ভাতা/পেনশন/অনুদান পেয়ে থাকলে; এমপিওভুক্ত শিক্ষক/কর্মচারী হলে; পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে; বিলাসবহুল সম্পদ (গাড়ি, এসি) থাকলে এবং ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে। পাইলটিং পর্যায়ে প্রতিটি নির্বাচিত পরিবার মাসিক ন্যূনতম ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা প্রাপ্য হবেন, যা নির্বাচিত উপকারভোগীদের ইচ্ছামাফিক মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে।

নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রদত্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রদত্ত অঙ্গীকার পূরণে সরকার ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার, যা দেশের বঞ্চিত নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক নিরাপত্তা বলয়কে সুদৃঢ় করবে।

অসহায়, অক্ষম ও অভাবগ্রস্ত নাগরিকের সামাজিক নিরাপত্তা বিধান রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অঙ্গীকার। সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রত্যেক নাগরিকের সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানে রাষ্ট্র দায়বদ্ধ। এ রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা অনুসারে দেশের চার কোটি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। চলমান পাইলটিং প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৬ সালে ৪০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক নারী সদস্যের নামে। সরকার মনে করে, নারীরাই পরিবার পরিচালনায় সবচেয়ে দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপক। নারীর হাতে সহায়তা দিলে তার সুফল শুধু নারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তা পৌঁছে যায় সন্তানের শিক্ষা, পরিবারের পুষ্টি ও সামগ্রিক উৎপাদনশীলতায়। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির আওতায় নারীকে সহায়তা প্রদান কোনো ধরনের অপচয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের অংশ। সুতরাং সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন হোক সংশ্লিষ্ট সবার অঙ্গীকার।

মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ: সমাজসেবী 

আরও পড়ুন

×