ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নদী-প্রকৃতি এবং কোরবানি পশুর চামড়া

নদী-প্রকৃতি এবং কোরবানি পশুর চামড়া
×

ফাইল ছবি

শামীম আহমেদ 

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ | ২০:৫৭ | আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ | ২১:১৭

সরকার নির্ধারিত মূল্যে কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সড়কের পাশে ফেলে গেছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। আবার কোথাও কোথাও কুরবানির পশুর চামড়া বা এর বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলতে দেখা গেছে। এতে নদী এবং আমাদের চারপাশের পরিবেশের ওপর এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। পচনশীল চামড়া বা বর্জ্য কেবল নদীর পানিই নষ্ট করবে না, বরং পুরো জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

পশুর চামড়া একটি পচনশীল জৈব পদার্থ। এটি যখন পানিতে দীর্ঘ সময় ধরে পচে, তখন পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। অক্সিজেন কমে গেলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায়। এমনিতেই নদীতে দেশীয় প্রজাতির মাছ অস্তিত্ব সংকটে। এই দূষণের ফলে আমাদের মৎস্য সম্পদের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

চামড়া পানিতে পচতে শুরু করলে তা থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়। এর ফলে নদীর আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র ও অসহ্য দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যা মারাত্মক বায়ু দূষণ ঘটায়। নদীর তীরবর্তী মানুষের জন্য নদীর পানি ব্যবহার তো দূরের কথা, সেখানে বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়ে।
তাছাড়া পচনশীল চামড়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবীর প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে নদীর আশেপাশের মানুষের মধ্যে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড এবং বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা থাকে। 

সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নদী দূষণ নিয়ে সারাবছর এতো এতো কথা হচ্ছে, অথচ একদিনেই যে পরিমাণ নদী দূষণ হয়েছে, তার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে বহুদিন লেগে যাবে। নদী ও প্রকৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। তাই কুরবানির পর পশুর চামড়া কোনোভাবেই নদী, খাল বা উন্মুক্ত জলাশয়ে ফেলতে দেওয়া যাবে না। চামড়া দ্রুত বিক্রি বা দান করে দেওয়া উচিত। আর যদি কোনো কারণে তা নষ্ট হয়েই যায়, তবে লোকালয় ও জলাশয় থেকে দূরে মাটির নিচে গভীর গর্ত করে তা পুঁতে ফেলা সবচেয়ে নিরাপদ।

আমরা আশা করি, নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, পুকুর-জলাশয় সর্বোপরি পরিবেশ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে সরকার। পাশাপাশি দেশের চামড়া শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে, সিন্ডিকেট ভেঙে এই মূল্যবান চামড়া সঠিক ব্যবস্থাপনা, নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কাজ করবে সরকার।

শামীম আহমেদ: প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক, তরী বাংলাদেশ (নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন)।

আরও পড়ুন

×