ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

প্রতিবেশী

সব ‘তেলাপোকা’ একজোট হলে কী ঘটতে পারে

সব ‘তেলাপোকা’ একজোট হলে কী ঘটতে পারে
×

ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপি’র প্রথম প্রকাশ্য বিক্ষোভ

হ্যানা এলিস-পিটারসেন

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১৬:২১

ভারতের তরুণদের প্রতি সহজ একটি আহ্বান ছিল– ‘শান্তিপূর্ণ ও আন্তরিকতার সঙ্গে প্রতিবাদমুখর হয়ে দিল্লির রাস্তায় নেমে পড়ার জন্য প্রস্তুতি নিন।’ এই ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার তরুণ একসঙ্গে নেমে পড়েছিলেন। সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপি’র প্রথম প্রকাশ্য বিক্ষোভ। আন্দোলনটি শুরু হয়েছিল একটি অনলাইন রসিকতা হিসেবে, কিন্তু লাখ লাখ অসন্তুষ্ট ও মোহভঙ্গ হওয়া তরুণ সংগঠিত হন এবং তারা দ্রুত ডানপন্থি নরেন্দ্র মোদি সরকারের অদম্য ক্ষমতার প্রতি সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছেন।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘এই দেশের যুবসমাজ আর ভয় পাবে না, তারা লড়াই করবে।’ অভিজিৎই এই প্রাণবন্ত প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিক্ষোভের দিন সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে এসেছিলেন। বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আমরা হয়তো নিছক কীটপতঙ্গ, কিন্তু আমরা জীবিত এবং নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করতে সক্ষম।’

কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যে সমবেত হওয়া জেনজি ও মিলেনিয়াল প্রজন্মের অনেকের প্রত্যাশা, প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় সরকার পতনকারী আন্দোলনের মতো একটি যুবনেতৃত্বাধীন আন্দোলন ভারতেও গতি পেতে পারে। দিল্লির ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী কৃতি বলেন, ‘এখানকার তরুণরাও যথেষ্ট ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।’

প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ঘিরে যে জোয়ার এসেছে, তা অনেককেই অবাক করেছে। সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছেন দীপকে, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ভালোই জীবন যাপন করছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি দেশটির বেকার যুবকদের ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েই দীপকে হঠাৎ করে সামাজিক মাধ্যমে মজা করে একটি আহ্বান জানিয়েছিলেন যে ‘সব তেলাপোকা একসঙ্গে এলে কেমন হয়?’

এ বছরের মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার তথ্য আবারও সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষাটি বাতিল করতে বাধ্য হয়। এতে শিক্ষার্থীদের এই কষ্টসাধ্য পরীক্ষাটি পুনরায় দিতে হয়। এই পরীক্ষায় ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী মাত্র এক লাখ ৩০ হাজার আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফলে পরীক্ষার বিশৃঙ্খলা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে এবং ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনের একটি বড় অংশ সংগঠিত হয়।

শনিবারের বিক্ষোভের একটি প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, যাঁকে অনেকেই একের পর এক কেলেঙ্কারির জন্য দায়ী করেন। এই তথ্য ফাঁসের ঘটনাগুলোকে মোদি সরকারের অধীনে একটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভেঙে পড়া’ শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষণ হিসেবে ব্যাপকভাবে দেখা হচ্ছিল।

৩০ বছর বয়সী রত্না সিং বলেন, ‘আমরা এখানে জবাবদিহির দাবি জানাতে এসেছি।’ এ সময় তিনি একটি গোলাপ এবং সংবিধানের একটি অনুলিপি আঁকড়ে ধরেছিলেন। বিক্ষোভকারীদের অনুলিপিটি সঙ্গে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে এ বার্তাই দেওয়া হচ্ছিল যে তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে জড়ো হয়েছেন। রত্না আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো করতে দিনরাত খেটে মরছে, অন্যদিকে সেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। তা ছাড়া শেষ পর্যন্ত আমাদের জন্য কোনো চাকরিই থাকছে না। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন।’

যারা গর্বের সঙ্গে নিজেদের ‘তেলাপোকা’ বলে ঘোষণা করতে রাস্তায় নেমে পড়েছিলেন, তাদের অনেকেই স্বীকার করেছেন, এ আন্দোলন ছিল ডেভিড ও গোলিয়াথের লড়াই। মোদির শাসনামলে বিজেপি সরকার, সংবাদমাধ্যম এবং বিচার বিভাগজুড়ে অভাবনীয়ভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের দমন করে আসছে।

শনিবার জনতার উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে দীপকে বলেন, তিনি এই আন্দোলনের জন্য নিজের স্বাধীনতা উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা এই তামাশাকে বিপ্লবে পরিণত করেছি।’

হ্যানা এলিস-পিটারসেন: দ্য গার্ডিয়ানের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি; দ্য গার্ডিয়ান থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর ইফতেখারুল ইসলাম

আরও পড়ুন

×