ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এসএসসি ও সমমানের ফল

শিক্ষার্থীরা নয়, অকৃতকার্য হয়েছি আমরা!

শিক্ষার্থীরা নয়, অকৃতকার্য হয়েছি আমরা!
×

পরীক্ষা শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা ঘোষণা করার যন্ত্র নয়; শেখার কোথায় ঘাটতি আছে, সেটি শনাক্ত করার মাধ্যম হওয়া উচিত।

শারীফ অনির্বাণ

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৪১

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর চারদিকে অকৃতকার্য হওয়া কিংবা পাসের হার কমে যাওয়া নিয়ে যে তোলপাড় চলছে, তা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার এক চিরচেনা দৃশ্যপট। নিউজ স্ক্রল, পত্রিকার পাতা কিংবা সামাজিক মাধ্যম সবখানেই আজ হিসাব মেলানো হচ্ছে কতজন ফেল করল, কোন বোর্ড পিছিয়ে পড়ল কিংবা কোন স্কুলের সার্বিক ফল খারাপ হলো। কিন্তু এই হাহাকারের ভিড়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে: আমরা আসলে শিক্ষাঙ্গন থেকে কেমন সন্তান বা নাগরিক পেতে চাই? কেবল জিপিএ ৫ কিংবা প্রশংসাপত্র হাতে পাওয়া একজন মুখস্থনির্ভর পরীক্ষার্থী, নাকি নীতি-নৈতিকতা, সামাজিক বোধ ও দক্ষতাসম্পন্ন একজন প্রকৃত মানুষ?

যদি শিক্ষা কেবল পরীক্ষা নামক গাণিতিক দৌড়ে জিপিএ উৎপাদনের কলকারখানা হয়, তবে ফলের এই পতন অবশ্যই একটি বড় ধস। কিন্তু শিক্ষা যদি হয় জ্ঞান, বোধ, বিবেক, দায়িত্ববোধ ও সমাজ কাঙ্ক্ষিত আচরণের সমন্বয়ে গঠিত চরিত্র গঠনের প্রক্রিয়া– তবে স্বীকার করতে হবে, আমাদের সংকটটি শুধু একটি পরীক্ষার ফলে সীমাবদ্ধ নয়। সংকটটি আরও গভীরে; এটি আমাদের জাতীয় শিক্ষার দর্শন, সামাজিক পরিবেশ এবং শিক্ষা ইকোসিস্টেমের সামগ্রিক পতনের সংকট।

একসময় ছিল যখন অভিভাবকেরা সন্তানের হাত ধরে স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সামনে দাঁড়িয়ে নিঃসংকোচে বলতেন, ‘গাধাটাকে আপনার হাতে দিয়ে গেলাম, মানুষ বানিয়ে তবেই ছাড়বেন!’ আধুনিক শিশু অধিকার বা পেডাগোজির ভাষায় ‘গাধা’ শব্দটি হয়তো আর গ্রহণযোগ্য নয়, কিন্তু এই একটি বাক্যের ভেতরে অভিভাবক ও শিক্ষকের সম্পর্কের যে গভীর বিশ্বাস এবং সামাজিক চুক্তিটি লুকিয়ে ছিল, তা অমূল্য। সেকালের ‘মানুষ বানানো’র অর্থ ছিল কেবল পাঠ্যবইয়ের অঙ্ক মেলানো নয়; বরং আদব-কায়দা, সামাজিক সচেতনতা, সত্যবাদিতা এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা শেখানো। সন্তান যদি স্কুলে বা পাড়ায় কোনো অন্যায় কিংবা বেয়াদবি করত, তবে অভিভাবক নিজে এসে শিক্ষকের কাছে জবাবদিহি চাইতেন–
‘মাস্টার মশাই, এই শেখাচ্ছেন আপনার ছাত্রকে?’

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজকের প্রেক্ষাপট ঠিক তার ১৮০ ডিগ্রি বিপরীত। এখনকার অনেক অভিভাবক স্কুলে আসেন বিচারকের ভূমিকায়– ‘আমার ছেলে অমুকের চেয়ে দুই নম্বর কম পেল কেন?’, ‘আপনি আমার ছেলেকে শাসন করার সাহস পেলেন কোথায়?’ শিক্ষক আজ সমাজ গড়ার কারিগর থেকে বাধ্যগত এক পরিষেবা প্রদানে রূপ নিয়েছেন। ফলে শিক্ষক যদি কেবল সিলেবাস শেষ করে নিজের দায় সারেন, তবে তা নিরাপদ; কিন্তু তিনি যদি শিক্ষার্থীকে মানুষ করার নৈতিক দায়িত্ব হাতে নিতে যান, তবেই মুখোমুখি হন অপমানের।

শিশুরা কি কেবল চার দেয়ালের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের দেওয়া উপদেশ শুনে শেখে? বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী আলবার্ট বান্দুরার সামাজিক শিখন তত্ত্ব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়– শিশুরা মূলত চোখ দিয়ে দেখে শেখে। তারা চারপাশের সমাজ, পরিবার ও বড়দের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে, অনুকরণ করে এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলে।

আজকের শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে পড়ছে ‘সততাই সর্বোত্তম পন্থা’, কিন্তু শ্রেণিকক্ষের বাইরে বাস্তব সমাজে সে দেখছে অন্য ছবি। সে দেখছে কঠিন পরিশ্রমের চেয়ে অনৈতিক শর্টকাট, ক্ষমতার প্রভাব ও অসততার মাধ্যমে দ্রুত বিত্ত-বৈভব এবং সামাজিক মর্যাদা হাসিল করা সহজ। বই তাকে শেখায় দক্ষতার কথা, অথচ সমাজ তাকে দেখায় স্বজনপ্রীতি আর সম্পর্কের জোরের দৃশ্য। এমনকি কয়েক মিনিটের টিকটক ভিডিও বা ফেসবুক রিলস বানিয়ে যখন রাতারাতি অর্থ ও খ্যাতির বন্যা বয়ে যায়, তখন বছরের পর বছর পড়াশোনা করে সৎ উপায়ে টিকে থাকার লড়াইটি তার কাছে অর্থহীন মনে হতেই পারে।

ফলাফল? শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষা কেন্দ্রে তার স্পষ্ট প্রতিফলন। পড়াশোনায় গভীর মনোযোগ দেওয়ার চেয়ে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন কেনার হাহাকার, আর কেন্দ্রে নকল করার অনৈতিক প্রবণতা আজ মহামারী রূপ নিয়েছে। এমনকি সিসিটিভি ক্যামেরা বা সরকারের কঠোর আইনি পদক্ষেপ সত্ত্বেও কেন্দ্রগুলোতে অনিয়ম পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না; অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় নড়াইল, সাভার কিংবা গাজীপুরে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হতে হয়েছে।

সরকার হয়তো সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে বা আইন কঠোর করে পরীক্ষা হলের সার্বিক শৃঙ্খলা সাময়িক নিশ্চিত করতে পারে, কিন্তু আইন দিয়ে কি মানুষের বিবেক ও নীতি তৈরি করা সম্ভব? ক্যামেরা দেখে যে শিক্ষার্থী নকল থেকে বিরত থাকে, ক্যামেরা সরিয়ে নিলে সে যদি সুযোগ পেলেই অনীতিতে জড়ায়– তবে আমরা কি সচেতন নাগরিক তৈরি করছি, নাকি কেবল নজরদারিনির্ভর ভীতি প্রদর্শন করছি?

শিক্ষা সংকটের দ্বিতীয় বড় জায়গাটি হলো শিক্ষকের পেশাদারিত্ব এবং শিক্ষাবিজ্ঞানের সঠিক প্রয়োগের চরম অভাব।
আমাদের সমাজে একজন আইনজীবী হতে হলে বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় পাস করতে হয়; একজন চিকিৎসক হতে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও বিএমডিসি সনদ লাগে; এমনকি রাস্তায় একটি চার চাকার গাড়ি চালাতে গেলেও লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। অথচ জাতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা, অর্থাৎ একটি শিশুর মন ও মস্তিষ্ক নিয়ে যিনি কাজ করবেন, সেই শিক্ষকের পেশাগত দক্ষতা বা শিক্ষাবিজ্ঞানবিষয়ক প্রস্তুতি নিয়ে আমাদের সমাজে কোনো জোরালো মাথাব্যথা নেই! একখানা নিয়োগপত্র হাতে পেলেই কেউ হয়ে যাচ্ছেন মাস্টার, আর দুই কামরার বাসা ভাড়া নিয়ে সাইনবোর্ড ঝোলালেই বনে যাচ্ছেন কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ।

শিক্ষাবিদ লি শুলম্যান তাঁর ‘পেডাগোজিক্যাল্প কনটেন্ট নলেজ’ ধারণায় স্পষ্ট দেখিয়েছেন– কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজের জ্ঞান থাকা আর সেই বিষয়টিকে শিক্ষার্থীর বয়স, মেধা ও মনস্তত্ত্ব অনুযায়ী সহজ করে শেখাতে পারার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। লেভ ভাইগটস্কির ‘সামাজিক গঠনবাদ’ অনুসরণে একজন শিক্ষককে জানতে হয় শিক্ষার্থী কীভাবে পূর্বজ্ঞানের ওপর নতুন জ্ঞান তৈরি করে। শিক্ষাবিজ্ঞান ও শিশু মনোবিজ্ঞান না জেনে শ্রেণিকক্ষে পড়াতে যাওয়া ঠিক তেমনই, যেমন কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া চালককে দূরপাল্লার বাসের স্টিয়ারিংয়ে বসিয়ে দেওয়া। দুটোরই পরিণতি অনিবার্য দুর্ঘটনা।

এর দায় কেবল শিক্ষকের ওপর চাপানো অন্যায্য। কম বেতন, সামাজিক মর্যাদাহীনতা এবং জীবনধারণের বাস্তব চাপে পড়ে শিক্ষক যখন প্রাইভেট-কোচিং কিংবা বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে বাধ্য হন, তখন তাঁর প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা ধুলোয় মেশে। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুই বছর দেশের ১৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি! আবার ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, মাধ্যমিকের পর দুই বছরের ব্যবধানে সাত লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিকের ধারাবাহিকতা হারিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ঝরে গেছে। এটি কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা নয়; এটি আমাদের শিক্ষক প্রস্তুতি এবং শিক্ষা ইকোসিস্টেম ভেঙে পড়ার জ্বলন্ত দলিল।

শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের স্ব-নির্ধারণ তত্ত্ব বলে, শিক্ষার্থীর শিখনকে টেকসই করতে হলে তার তিনটি মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি জাগ্রত করতে হয়: এক. স্বায়ত্তশাসন– নিজের শেখার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার স্বাধীনতা; দুই. সক্ষমতা– ‘আমিও পারি’ বা সফল হওয়ার আত্মবিশ্বাস এবং তিন. সম্পর্ক ও অন্তর্ভুক্তি– শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে অর্থবহ মানবিক যোগাযোগ।

আমাদের বিদ্যমান শিক্ষা যদি কেবল জিপিএ ৫ পাওয়ার অন্ধ দৌড়ে শিক্ষার্থীকে আটকে রাখে, তবে সেখান থেকে নীতিবান মানুষ তৈরি হবে না। এই ধ্বংসাত্মক সংকট থেকে উত্তরণে বাংলাদেশকে এখন সুনির্দিষ্ট ও যুগান্তকারী পদক্ষেপে যেতে হবে:

প্রথমত, মূল্যবোধ শিক্ষা বা নৈতিকতা একটি আলাদা বইয়ের মধ্যে বন্দি না রেখে হোল স্কুল অ্যাপ্রোচ গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষক এক কথা বলবেন, প্রধান শিক্ষক আরেক কাজ করবেন, অভিভাবক তৃতীয় আচরণ করবেন– এভাবে চরিত্র গঠন সম্ভব নয়। স্কুলের মূল্যায়ন ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং অভিভাবক অংশগ্রহণ– সবখানেই ন্যায়, সততা ও সম্মানের চর্চা থাকতে হবে। নৈতিকতা বক্তৃতায় শেখে না; এটি সামাজিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষা দর্শনের স্বচ্ছতা আনতে হবে। জন ডিউইর সঙ্গে মিলিয়ে বলতে হবে– আমাদের স্থির করতে হবে, আমরা কি কেবল প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারের কর্মী বানাব, নাকি গণতান্ত্রিক ও বিবেকবান মানুষ তৈরি করব? স্কুলকে পুরো সমাজের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ হতে হবে, যেখানে সততা বইয়ের পৃষ্ঠা থেকে বেরিয়ে দৈনন্দিন চর্চায় পরিণত হবে।

তৃতীয়ত, শিক্ষক নিয়োগ ও পেশাগত উন্নয়নকে সত্যিকার অর্থে পেশাভিত্তিক করতে হবে। শুধু সনদ থাকলেই শিক্ষকতার জন্য প্রস্তুত– এই ধারণা থেকে বের হতে হবে। প্রাক-সেবাকালীন শিক্ষকশিক্ষা, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক অনুশীলন, মেন্টরিং এবং কর্মজীবনজুড়ে পেশাগত উন্নয়ন– এই চারটি স্তম্ভ ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়। ভালো শিক্ষককে শুধু নিয়োগ দিলেই হবে না; তাঁকে ভালো শিক্ষক হয়ে ওঠার পরিবেশও দিতে হবে।

সেই সঙ্গে শিক্ষকতায় লাইসেন্সিং ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার সমস্যা সমাধানে শিক্ষা কমিশন গঠন করে ডেটা ড্রিভেন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এনটিআরসিএর ক্ষমতা না কমিয়ে বরং তাকে আরও কার্যকর ভূমিকায় প্রস্তুত করতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তার বা আইনজীবীদের মতো শিক্ষকদের জন্যও ‘ন্যাশনাল টিচার্স লাইসেন্সিং বোর্ড’ গঠন করতে হবে। পেডাগোজি, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা ও শিশু মনস্তত্ত্বে সুনির্দিষ্ট সনদ ছাড়া কাউকে শ্রেণিকক্ষে ঢোকার অনুমতি দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ইউনেস্কোর বাজেট নির্দেশিকা অনুযায়ী শিক্ষকদের স্বতন্ত্র ও সম্মানজনক বেতন স্কেল দিতে হবে, যাতে দেশের সেরা মেধাবীরা এই পেশায় আসতে আগ্রহী হন।

চতুর্থত, মূল্যায়নের উদ্দেশ্য পরিবর্তন করতে হবে। পরীক্ষা শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা ঘোষণা করার যন্ত্র নয়; শেখার কোথায় ঘাটতি আছে, সেটি শনাক্ত করার মাধ্যম হওয়া উচিত। ব্লুমের শিক্ষালক্ষ্য অনুযায়ী শিক্ষাকে শুধু স্মরণ ও পুনরুৎপাদনের স্তরে আটকে রাখলে চলবে না; প্রয়োগ, বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সৃষ্টির সুযোগ বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থী পরীক্ষায় কম নম্বর পেলে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত, ‘সে কোথায় শিখতে পারেনি এবং তাকে কীভাবে আবার শেখানো যায়?’, ‘সে ফেল করেছে’ বলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যেতে পারে না।

সর্বোপরি, অভিভাবককে শিক্ষার প্রকৃত অংশীদার বানাতে হবে। অভিভাবক যেন শুধু ফলের দিন স্কুলে না আসেন; সন্তানের আচরণ, মানসিক বিকাশ, ডিজিটাল অভ্যাস, নৈতিকতা ও শেখার পরিবেশ নিয়েও বিদ্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। তবে এটিও সত্য, শিক্ষককে অপমান করে, হুমকি দিয়ে বা প্রতিটি পেশাগত সিদ্ধান্তে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ করে কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত হয় না। শিশুর মর্যাদা রক্ষা যেমন জরুরি, তেমনি শিক্ষকের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তাও জরুরি।
এসএসসি পরীক্ষায় কে পাস করল বা কে ফেল করল– সেটি নিয়ে হাহাকার করার চেয়ে এখন সময় এসেছে গভীরভাবে ভাবার: আমরা কি এমন এক সমাজ গড়ে তুলতে পারছি, যেখানে একটি সন্তান সত্যি সত্যি সৎ, দক্ষ ও বিবেকবান ‘মানুষ’ হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা পায়? সমাধানের শুরুটা এখান থেকেই হতে হবে– শতকরা ফলের হিসাব ছেড়ে শিক্ষার প্রকৃত দর্শনকে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে।
শারীফ অনির্বাণ: শিক্ষক, গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা
[email protected] 
 

আরও পড়ুন

×