ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাহাড়ের সামাজিক উৎসবের সৌন্দর্য

পাহাড়ের সামাজিক উৎসবের সৌন্দর্য
×

পাহাড়ে ফুল বিজু উৎসব

ঞ্যোহ্লা মং

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:২৭

‘পাহাড়ের উৎসবগুলো শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে’ শিরোনামে আমার একটি লেখা প্রকাশ করেছিল সমকাল গত ২৩ এপ্রিল। সেই লেখায় পরবর্তী সময়ে আমার দেখা উৎসবের সুন্দর কিছু উদাহরণ উপস্থাপন করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছিলাম। সে কথা রাখতেই এ নিবন্ধের অবতারণা।

শুরু করা যাক চাকমাদের বিজু উৎসব দিয়ে। এ দিনটিতে নারী-পুরুষ দল বেঁধে পানির উৎসগুলোয় গিয়ে প্রকৃতির কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে থাকেন। ফুল বিজুর দিনটি প্রতিবছর মিডিয়ায় বেশ প্রচার পায়। সমতল থেকেও প্রচুর পর্যটক ফুল বিজুর উদযাপন দেখতে পাহাড়ে যান। পাহাড়ের উৎসবের দিনগুলো নানা শ্রেণিপেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। ঘরে ঘরে বছরের সেরা পাচন রান্না করে অতিথিদের জন্য অপেক্ষা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। চারদিকে পাচনের ম-ম গন্ধ আর তরুণদের কণ্ঠে জনপ্রিয় গানের সুর আকাশে বাতাসে ভাসতে থাকে। পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা হওয়া মানেই বেড়ানোর নিমন্ত্রণ। একই সময়ে গ্রামে গ্রামে নারীদের হাসিমাখা কর্মব্যস্ততা যে কাউকে আনন্দিত করতে বাধ্য। 

পাহাড়ের ফুল বিজু এখন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি জনপ্রিয় একটি উৎসব পর্ব। উৎসবের এই পর্বে প্রতিবছর তরুণদের বর্ধিত হারে অংশগ্রহণ এটিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তবে ফুল বিজুতে ছেলেদের তুলনায় নারীদের অংশগ্রহণই বেশি চোখে পড়ে।

আমাদের ছেলেবেলায় আমরাও ফুল তুলতাম। ফুল তুলে মা বা বড়দের জন্য রেখে দিতাম। মা, দিদিরা বিহারে, স্নান ঘাটে ফুলগুলো ব্যবহার করতেন। সে সময়েও ভোররাতে ফুল চুরি হতো। পাশের গ্রামের চাকমা ছেলেমেয়েরাও সংগ্রহ করতে আসতেন। বাজারের দিক থেকে পরিচিতদের কয়েকজন প্রতিদিনই হাতে বাঁশ নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে আসতেন আমাদের গ্রামে। যদিও ফুল চুরির বিষয়টি ছেলেবেলায়ও অদ্ভুত লাগত। ভাবতাম, ফুল যদি প্রতিদিনই লাগবে বা অত্যাবশ্যকীয় হবে, কয়েকটি বারোমাসি ফুলের চারা লাগিয়ে রাখলেও তো সমস্যা মিটে যায়। দাদা-দাদির বাড়ির পেছনে বারোমাসি ফুলের বাহার ছিল। শত মানুষের অত্যাচারেও ফুল ফুটতে কখনও কমতি হতে দেখিনি। তবে কেন ভোরবেলায় হাতে বাঁশ বা লাঠি নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ফুল ছিঁড়তে হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতাম না। প্রতিদিন নানান বাড়ি থেকে চুরি করে ফুল তুলে অদৃশ্যের সন্তুষ্টি লাভের চাইতে নিজেদের উঠোনে জায়গা না থাকলেও দু-তিনটি টবে ফুলের চাষ করলে, তাতেও তো চাহিদা পূরণ হওয়ার কথা! তবে এটা সত্য, ফুল নেওয়ার কারণে গ্রামবাসীরা কারও সঙ্গে কোনো দিন ঝগড়া করেননি, করতে দেখিনি।

ফুল বিজুতে ফুল নিয়ে দল বেঁধে কোনোদিন অংশগ্রহণ করার সুযোগ মেলেনি, এ বছর প্রথমবার সকালবেলায় উঠে স্বনির্ভর এলাকায় গিয়ে চেঙ্গী নদীতে ফুল দিয়েছি। সেদিন অনেক মারমা তরুণীকে চাকমা পিনন পরে অংশগ্রহণ করতে দেখে বেশ আনন্দ লেগেছে। কিছু ত্রিপুরা তরুণীকেও চাকমা পিননে পেয়েছি। পরিচিতজন অনেকে নিজ থেকে এগিয়ে এসে কুশল বিনিময় করাতেই, তাদের ধরতে পেরেছিলাম। যদিও প্রথমে হতবাক হয়েছি  চাকমা কাপড়ে মারমা ভাষায় কুশল বিনিময় করতে পারছেন দেখে। কোথাও কোনো দলাদলি নেই, যে যার মতো আসছেন, যাচ্ছেন।

আরও আনন্দের বিষয় হলো, কারও হাতে প্লাস্টিকের কোনো সামগ্রী নেই। দু-তিন বছর আগেও বেশির ভাগ মানুষ প্লাস্টিকের সামগ্রী দিয়ে ফুল তুলে নদীতে প্রার্থনা করতেন। কিন্তু এবার স্বনির্ভর এলাকায় যতক্ষণ ছিলাম ঘুরে ঘুরে দেখার চেষ্টা করেছি, কারও হাতে প্লাস্টিক সামগ্রী দেখিনি। সবাই কলাপাতা, গাছের বড় পাতা কিংবা বাঁশের তৈরি ফুলঝুড়ি ব্যবহার করেছেন। তরুণদের মাঝে এই বিশাল পরিবর্তন আমার দারুণ লেগেছে।

এক দশক আগের বিজুর দিনগুলোর ফটোগ্রাফি দেখলেও নদীতে ফুল দিয়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের পর্বে যে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক প্লেটের ব্যবহার চলত, তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। হরিকিশোর চাকমা, অমিয় কান্তি চাকমা, সাধন কুমার চাকমাদের হাতে তোলা প্রচুর ছবি পাওয়া যাবে, যেখানে দলে দলে প্লাস্টিকের ওয়ান টাইম প্লেট হাতে পানিতে ফুল দিয়ে প্রার্থনা করছেন। এ নিয়ে অনেক আলোচনা, লেখালেখি হয়েছে। ২০২৬ সালে এসে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে বলতে পারি। 
এ ছাড়া কার বা কাদের উদ্যোগ জানি না, চেঙ্গী ঘাটে কয়েকটি প্ল্যাকার্ডও দেখেছি, যেখানে প্লাস্টিক বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তরুণরা চাইলে আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর কিছু রেখে যেতে পারেন, তার একটি উদাহরণ হতে পারে এবারের ফুল বিজু পর্বটি। 

বিশেষত নব্বই দশকের শেষ দিক থেকে উৎসবের দিনগুলোতে কোমল পানীয় পরিবেশন একটি নিয়মিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছিল। যেখানে যেতাম, দামি কোমল পানীয়ের পরিবেশন দেখেছি। এ বছর আশ্চর্যজনক হারে কোমল পানীয় পরিবেশন কমেছে। কিছু কিছু বাড়িতে তা পরিবেশন করা হলেও অতিথিদের মাঝে অনাগ্রহ লক্ষ্য করেছি। ফলে এ বছর বাজারে রঙের পানির ব্যবহার ও বিক্রি কম হয়েছে বলতে পারি। কয়েক পরিবারকে জিজ্ঞেসও করেছিলাম, তারাও বলেছেন ‘আজকালকার অতিথিরা সেসব খেতে চান না।’ খাগড়াছড়ি জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান ওয়েন চাকমার মতে, ‘অনেক পরিবারে কোমল পানীয়ের পরিবেশন থাকলেও অতিথিদের থেকে গ্রহণের হার খুবই কম। এমনও দেখেছি, বোতলটি কেউ ধরেননি কিংবা খোলেননি।’ স্বাস্থ্য এবং খরচের দিক বিবেচনায় নিলে এটিও একটি দারুণ চর্চা বলে ধরে নিতে পারি।

ছেলেবেলায় আমরা নানা রকমের গ্রামীণ খেলা দেখে বড় হয়েছি। উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন খেলার আয়োজন চলত। খেলার হারজিতকে কেন্দ্র করে আলোচনা, হাসির গল্প তৈরি হতো। খেলা জেতা না-জেতার পেছনে গ্রামের কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির মন্ত্র, ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে বলেও এক ধরনের আলোচনা থাকত। গত কয়েক দশক গ্রামীণ খেলাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে মনে হলেও হঠাৎ সেই খেলাগুলো ফিরতে শুরু করেছে। ‘ঘিলা’ খেলা ফিরেছে। ‘দ’ খেলাও উৎসবমুখর পরিবেশে ফিরেছে। ‘খঞাং’ খেলাও ফিরেছে। আগামীতে নিশ্চয়ই ‘চিকুটকুট’ও ফিরবে তরুণীদের হাত ধরেই। দুই বছর ধরে ঢাকার বুকে পাহাড়ের চাকমা জাতিগোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী খেলা আয়োজন জনপ্রিয়তা পেয়েছে। দুই বছর আগে আয়োজকদের একজন নিকোলাস চাকমা মজা করে বলেছিলেন, ‘ঘিলা খেলা আমাদের জাতীয় খেলায় পরিণত করা সম্ভব।’ মাত্র দুই বছরে মানুষের সাড়া দেখে ঘিলা খেলা দেশের একটি অন্যতম জাতীয় খেলায় রূপ দেওয়া তেমন অসম্ভব নয় বলে আমিও বিশ্বাস করি। তিনি তাঁর সামাজিক মাধ্যমের একটি পোস্টে লিখেছেন, খেলার ধরনের বিচারে ঘিলা খেলা কয়েক রকমের হয়ে থাকে, যেমন– ‘চন্দি হারা’, ‘নুক্কুরুক হারা’ ও ‘সাইল্ল্যাঙ হারা’ ইত্যাদি। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে শুধু চন্দি হারা টুকটাক দেখা যায়। চন্দি হারার প্রায় ৪২টি ধাপ রয়েছে। ধাপগুলোর মধ্যে তিনি শুধু ১৬টি পর্বের কথা উল্লেখ করতে পেরেছেন। 

পাড়া-গ্রামগুলোতেও প্রকৃতিনির্ভর উপকরণ দিয়ে খেলাগুলো ফিরেছে। অনেকে নানান জায়গায় আয়োজন করছেন। তবে খাগড়াছড়ি সদরে একটি মারমা পাড়ায় খেলা আয়োজনের নামে দিনরাত উল্লাস এবং মদ্যপান অনেককে হতাশ করেছে। 

পানি খেলায় কি চাকমা কি মারমা কি ত্রিপুরা কি বাঙালি সবাই লুঙ্গি, থুবোয়িং পরে দলের মধ্যে মিশে যায়। কার উৎসব, কাদের উৎসব, এটা তারা ভুলে যায়। উৎসবকে একান্ত নিজেদের করে নেয় সব অংশগ্রহণকারী। এটিকে বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের একটি সুন্দর উদাহরণ হিসেবে দেখতে পারি। দুই দশক আগে এমন উৎসবে অপরিচিত কাউকে পানি ছিটিয়ে দিলে রাগ করতেন, রাগ দেখাতেন। এখন এমনটি আর দেখা যায় না। আচমকা কাউকে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া যেমন কমেছে, তেমনি যিনি হঠাৎ ভিজে গেলেন, তিনিও আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় রাগ দেখাচ্ছেন কম। পানি উৎসবে একজন চাকমা তরুণী এমনভাবে থুবোয়িং পরেন, আপনি না চিনলে ধরা কঠিন। চাকমা পরিবারের তরুণ-তরুণীরাও আজকাল তাদের বাবা-মাকে উৎসবের দিনে মারমাদের পোশাক কিনে দিতে আবদার করেন, এটা দারুণ সৌন্দর্যের ব্যাপার। অনেক অভিভাবকও তাঁর ছেলেমেয়েদের মারমা, ত্রিপুরা কিংবা চাকমা কাপড় কিনে দেন। ছোট ছোট সোনামণির মাঝে প্রতিবেশী জনগোষ্ঠীর কাপড় পরার আগ্রহ দেখেছি। এই সৌন্দর্যের মূল্য অনেক। 

গেল বছর, ২০২৫ সালে তরমুজ ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেয়ে এত দাম উঠিয়েছিলেন, যা এখনও লোকের মুখে মুখে শোনা যায়। একটি ছোট তরমুজ ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। এ বছর কিছুটা আগেই বৃষ্টি হওয়ায় দ্রুত সময়ে তরমুজ বাজারে আসতে থাকে। ফলে তরমুজ ব্যবসায়ীরা উৎসবকে ঘিরে ভালো ব্যবসা করলেও আগের বছরের মতো দাম ওঠাতে পারেননি। সর্বোচ্চ ২০০ টাকায় বিক্রি করেন। পাহাড়ে কত রকমের ফলমূল, তারপরও তরমুজ যেন একটি অত্যাবশ্যকীয় আইটেম; এ কারণেই ব্যবসায়ীরা পেয়ে বসেন। আমরা পেঁপে, কলা, পেয়ারা, জুস, লেবুর শরবত পরিবেশন করতে পারলে তরমুজ বিক্রেতাদের মানসিকতা পরিবর্তনে ভালো ভূমিকা রাখবে বলে অনেকের ধারণা। 

নতুন বছরে ত্রিপুরাদের গরিয়া নৃত্য পরিবেশনা একটি জনপ্রিয় পর্ব। গরিয়া নৃত্যে পারদর্শী দলগুলো নিজেদের গ্রাম ছাড়িয়ে নানান গ্রামে এ নৃত্য পরিবেশনের লক্ষ্যে একপ্রকার মানত করে বের হন। অনেক ভেতরের পাড়ায় এই পর্ব আজও বিদ্যমান। বড় দলে নাচ আর ছন্দ এখন গ্রাম ছাড়িয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রোগ্রামেও পরিবেশন করা হয়। খাগড়াছড়ি জেলায় ত্রিপুরাদের গরিয়া নৃত্য নতুন বছরের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের আয়োজনে একটি অত্যাবশ্যকীয় সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য পরির্বতন বলে বিশ্বাস করি। 

আমরা গরিয়া নৃত্য বলে থাকলেও সিনিয়র শিল্পী চামেলি ত্রিপুরার মতে, ‘গরয়া’ হলো দেবতার নাম আর দেবতার উদ্দেশে যে নৃত্য করা হয়, তার নাম হলো ‘খেরেবাই’। এই নৃত্য তিন দিনব্যাপী হয়ে থাকে। যেমন– প্রথম দিন হারি বৈসুক (ফুল বৈসু), দ্বিতীয় দিন বৈসুক মা (আতাদাক) আর বিসি কাতাল (নতুন বছর বা বছর কাতাল)। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, ‘য়ামুক কালচার গ্রুপের প্রচেষ্টায় ১৫টি দলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল, তাদের মধ্যে বর্তমানে সাত-আটটি দল চর্চাটি চালু রেখেছে। 

চামেলি ত্রিপুরা আরও বলেন, আগের দিনে ত্রিপুরা রমণীরা নিজ নিজ স্নানঘাটে ‘খুমভগনাই’ পালন করতেন। কালক্রমে হারিয়ে যেতে থাকা খুমভগনাই পর্বটি নতুন প্রজন্মকে দেখাতে বর্তমানে একসঙ্গে উৎসবের মতো করে পালন করা হয়। শুরুর দিকে খাগড়াছড়ি সদরে বড় পরিসরে খুমভগনাই পালন করা হলেও বর্তমানে প্রতিবছর সদর উপজেলার মধ্যে স্বনির্ভর এলাকায়, পল্টনজয়পাড়া, ঠাকুরছড়া, মাটিরাঙ্গা উপজেলায় বাইল্যাছড়ি ও দিঘীনালা উপজেলায় পালন করা শুরু হয়েছে। এদিন খুব সকালে নারীরা গঙ্গা মা’র উদ্দেশে নদীর উৎসে পুষ্প অর্পণ করে থাকেন। একই সঙ্গে কলাপাতায় বা কলাগাছের তৈরি ভেলা বানিয়ে ছোট নতুন রিনাই-রিসা বানিয়ে বিশ্বকর্মা দেবতার উদ্দেশে নদীর পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার প্রথার প্রচলন রয়েছে।

বড় সৌন্দর্য হলো, ত্রিপুরা তরুণ রমণীদের সঙ্গে মারমা, চাকমা বান্ধবীরাও অংশগ্রহণ করছেন। এ ছাড়াও একসময় হারিয়ে যাওয়া– বয়স্কদের স্নান করানো এবং বয়স্কদের স্নান করানোর পরে আশীর্বাদ গ্রহণের পর্বটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। খাগড়াছড়ি জেলায় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কিছু সামাজিক যুব সংগঠন আন্তরিকতা নিয়ে পর্বটি উদযাপন করে। ২০২৫ সালে নয় মাইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এমন একটি পর্বে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেদিনের পর্বে ৫০-৫৫ জন বয়স্ক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। 

মারমারাও নিজেদের বয়স্ক আত্মীয়ের পাশাপাশি গ্রামভিত্তিক বয়স্কদের স্নান করানোর পর্বটি কিছু জায়গায় চালু রেখেছেন। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে কিছুটা আয়োজন করে স্নান করানোর পর্বটি আরও দু-এক জায়গায় চালু হয়েছে বলে জেনেছি। ২০২৫ সালে খাগড়াছড়ি সদরে পানখাইয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুনু প্রু মারমার উদ্যোগে প্রথমবারের মতো চালু হওয়ার ছবি সামাজিক মাধ্যমে এসেছিল। শিক্ষিকা নুনু প্রু মারমার মতে, সে বছর প্রায় ২৫ জন প্রবীণকে স্নান করিয়েছিলেন তারা।
এ পর্বগুলো আগামীতে আরও বাড়বে, জনপ্রিয় হয়ে উঠবে– তা নিশ্চিত করে বলতে পারি। একটি সামাজিক উৎসবের সৌন্দর্য দেখতে একজন পর্যটক, গবেষক, সমাজকর্মী, উন্নয়নকর্মী, পরিকল্পনাবিদ চোখ বন্ধ করে পাহাড়ে ভ্রমণ করতে পারেন। নানান ভাষাভাষী, ধর্ম-বর্ণের মানুষ কীভাবে মিলেমিশে থাকতে পারেন, এর একটি সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে পাহাড়। এর সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারলে এই পাহাড় আগামীর পৃথিবীর জন্য একটি শেখার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
     
ঞ্যোহ্লা মং: পরিচালক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি।

আরও পড়ুন

×