আন্তর্জাতিক
উপসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের প্রভাব
খালিদ আল-জাবের
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
চলতি বছরে চীনের কূটনৈতিক খতিয়ান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বেরই প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান, জর্ডানসহ প্রভাবশালী দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা একের পর এক বেইজিং সফর করেছেন। সম্প্রতি কাতারের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চীন সফর নিশ্চিত করে– গালফ বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে।
ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকে থাকা এই অঞ্চলে এখন দুই পরাশক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েই চলেছে। তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার অর্থ এই নয় যে, চীন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিজে সেই জায়গা দখল করতে চায়। চীন বাণিজ্য ও প্রযুক্তির ওপর ভর করে এই অঞ্চলে এগোচ্ছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর নিজস্ব অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক স্বার্থের সঙ্গে বেশ মানানসই।
উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এখনও সবচেয়ে বেশি। প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অস্ত্র ব্যবস্থা, নৌশক্তি এবং সামরিক উপস্থিতি– সব মিলিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ওয়াশিংটন কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বছরের পর বছর ওয়াশিংটন নিজের সামরিক শক্তির সঙ্গে তুলনা করে চীনের প্রভাব নজরে রেখেছে। সেই বিচারে সামরিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দেওয়ার ধারেকাছেও নেই চীন। কিন্তু কৌশলগত সাফল্য মাপার ক্ষেত্রে এটি মোটেও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়।
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক শক্তিতে পাল্লা দেওয়ার ব্যাপারে চীনের আগ্রহ একেবারে সামান্য। কারণ ওয়াশিংটন এ অঞ্চলে যে নিরাপত্তা দিয়ে আসছে, চীন এতদিন বিনামূল্যে তার প্রত্যক্ষ সুবিধা পেয়ে এসেছে। কয়েক দশক ধরে মার্কিন নৌবাহিনী সামুদ্রিক রুটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। যার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি এশিয়ার বাজারে পৌঁছাতে পেরেছে। এই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যে রাজনৈতিক স্থায়িত্ব তৈরি করেছিল, তার ওপর ভর করে চীনা কোম্পানিগুলো ব্যবসা ও বিনিয়োগ করেছে; অবকাঠামো গড়ে তুলেছে এবং জ্বালানি কিনেছে।
আজকে গালফ অঞ্চলের প্রধান প্রধান অবকাঠামো, বিশেষ করে বন্দরে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বড় শেয়ার রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কসকো শিপিং পোর্টস আমিরাতের খলিফা বন্দরের সিএসপি আবুধাবি টার্মিনাল পরিচালনাকারী যৌথ উদ্যোগে সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারের অংশীদার। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি, টেলিযোগাযোগ, ম্যানুফ্যাকচারিং, লজিস্টিকস, ইলেকট্রিক যানবাহন এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো যে খাতগুলো এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ তৈরি করবে, সেগুলোতেও চীনা কোম্পানিগুলোর অন্তর্ভুক্তি বাড়ছে।
অতএব, ওয়াশিংটনের উচিত কৌশলগত শক্তি পরিমাপের পুরোনো চশমা বদলে ফেলা। কোনো অঞ্চলে একটি দেশের কতগুলো সামরিক ঘাঁটি আছে– ভবিষ্যতে ক্ষমতার হিসাব তা দিয়ে নাও হতে পারে।
খালিদ আল-জাবের: নির্বাহী পরিচালক, মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স; আলজাজিরা থেকে ভাষান্তর ইফতেখারুল ইসলাম
- বিষয় :
- আন্তর্জাতিক