ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বৈশাখের ফ্যাশনে বিবর্তন

বহুরঙা উৎসব

বহুরঙা উৎসব
×

মুন্নুজান নার্গিস

মুন্নুজান নার্গিস, সিইও, লা রিভ

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

পহেলা বৈশাখ বাঙালির আত্মপরিচয়, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচায়ক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উৎসব সর্বজনীন রূপ পেয়েছে। দেশীয় তাঁত, লোকজ মোটিফ, চারুকলার প্রভাব থেকে শুরু করে আধুনিক কাট ও আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড–সব মিলিয়ে বৈশাখী ফ্যাশনে এখন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট। গ্রন্থনা রিক্তা রিচি

পোশাকের দিক থেকে বৈশাখের ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য দীর্ঘদিন ধরে বেশ স্পষ্ট: আরামদায়ক দেশীয় কাপড়, নারীদের লাল পাড় সাদা শাড়ি, খোঁপায় ফুল, হাতে চুড়ি; পুরুষদের পাঞ্জাবি-পাজামা বা ফতুয়া। তবে গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে, ‘একটি নির্দিষ্ট বৈশাখী ইউনিফর্ম’ থেকে বহুরঙা ও বহু ধারার বৈশাখ ফ্যাশনে রূপলাভ করেছে। গত ১০ বছরে চিরায়ত বাংলার আবহের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন প্যাটার্নের মিশ্রণ বেড়েছে, লাল-সাদার পাশাপাশি কমলা, হলুদ, নীল, সবুজ, খয়েরির মতো উজ্জ্বল রং দেখা যাচ্ছে বৈশাখ পোশাকে। বৈশাখ মানে শুধু লাল-সাদা আর এখন নেই; বরং কাট, মোটিফ, ডিজিটাল প্রিন্ট, ফিউশন স্টাইল, কেপ, কোটি, টপ, স্কার্ট–সব মিলিয়ে বৈশাখের পোশাক আরও পরীক্ষামূলক হয়েছে। লাল-সাদা এখনও প্রধান হলেও কিমোনো কাট, এ-লাইন, আনারকলি, রঙিন শার্ট এবং শাড়ির পাশাপাশি সালোয়ার-কামিজ, টপ ও স্কার্টও এখন বৈশাখের স্বাভাবিক অংশ।  এখনও বৈশাখের পোশাকে আরামদায়ক ও দীর্ঘ সময় পরার উপযোগী দেশীয় কাপড় যেমন নরম তাঁত বা সুতি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এটাও সত্য, বৈশাখী ফ্যাশনে টেকসই ধারা এখনও মূল স্রোত হয়ে ওঠেনি; বরং এটি রাইজিং কনসার্ন। পুরোপুরি পাশ্চাত্য পোশাকের চেয়ে, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ফিউশনটাই বেশি মানানসই ও জনপ্রিয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বৈশাখী ফ্যাশনের উপস্থিতি বাড়ছে। প্রবাসী বাঙালিরা বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বৈশাখ উদযাপন করেন এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করেন। লন্ডন, নিউইয়র্ক, টরন্টো বা সিডনির মতো শহরে বৈশাখী মেলা ও প্রদর্শনী এই সংস্কৃতিকে বিশ্বে তুলে ধরছে। যথাযথ উদ্যোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকলে বৈশাখী ফ্যাশনকে ‘বাংলাদেশের হেরিটেজ ফ্যাশন’ হিসেবে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বৈশাখ একটি সর্বজনীন উৎসব, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একত্র করে। তাই পোশাকের ডিজাইনে বৈচিত্র্য রাখা জরুরি, যাতে সব বয়স, পছন্দ ও প্রয়োজনের মানুষের জন্য উপযোগী পোশাক তৈরি করা যায়। 

আরও পড়ুন

×