ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বৈশাখের ফ্যাশনে বিবর্তন

সংস্কৃতির প্রতীক

সংস্কৃতির প্রতীক
×

বিপ্লব সাহা

বিপ্লব সাহা , স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার, বিশ্বরঙ

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

পহেলা বৈশাখ বাঙালির আত্মপরিচয়, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচায়ক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উৎসব সর্বজনীন রূপ পেয়েছে। দেশীয় তাঁত, লোকজ মোটিফ, চারুকলার প্রভাব থেকে শুরু করে আধুনিক কাট ও আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড–সব মিলিয়ে বৈশাখী ফ্যাশনে এখন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট। গ্রন্থনা রিক্তা রিচি

বৈশাখের প্রথম দিনটি ছোট থেকেই আমাদের কাছে অন্যরকম। বাবা ব্যবসায়ী ছিলেন, তিনি হালখাতা করতেন, গণেশ পূজা করতেন। আমরা ছোটবেলা থেকে নতুন কাপড় পরতাম, মানে দুর্গাপূজার পরে পহেলা বৈশাখে নতুন কাপড় পরতাম। তখন এটি নিছক বাঙালির সর্বজনীন উৎসব হিসেবে নয়, বরং আংশিক ধর্মীয় আচার হিসেবেই বেশি দেখা হতো। ’৯১-৯২ সালে যখন চারুকলায় ভর্তি হই, তার পরের বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার র‌্যালির জন্য নানা কাজ করতে হলো। ১৯৮৯ সালে শুরু হয় শোভাযাত্রার। আর আমি অংশ নিই তার দু-তিন বছর পর। শুরুর দিকে বৈশাখের পোশাক মানেই ছিল সাদা-লাল শাড়ি ও পাঞ্জাবি। এই রঙের উৎস নিয়ে বিভিন্ন ধারণা থাকলেও এটি বাঙালির সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে ওঠে। পরে চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং মুখোশের ব্যবহার বৈশাখকে নতুন মাত্রা দেয়। বৈশাখকে সর্বজনীন করার পেছনে এ শোভাযাত্রার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।  

হ্যান্ডপেইন্টের মাধ্যমে শাড়িতে মুখোশ এঁকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলাম তখন। টেপা পুতুল, পটচিত্র, পিঠা, নকশি পাখা, শখের হাঁড়িসহ বৈশাখী আলপনা–এমন কোনো লোকজ মোটিফ নেই, যা নিয়ে কাজ করা হয়নি। বৈশাখের পোশাকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নানান বিষয়ও তুলে আনার চেষ্টা করেছি। ফুটপাত থেকে বড় ফ্যাশন হাউস–সবখানেই বৈশাখী পোশাকের সমাহার দেখা যায়। আগে যারা ভারতীয়, পাকিস্তানি, চায়না পোশাক বিক্রি করত, তারাও বৈশাখ নিয়ে ভাবতে শুরু করল। বৈশাখ এখন শুধু সাংস্কৃতিক নয়, একটি বড় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রও। দেশ-বিদেশে বাঙালিরা এই উৎসব উদযাপন করে এবং বৈশাখী পোশাকের চাহিদা বাড়ছে বিশ্বজুড়ে।  বাণিজ্যিকতার ভিড়ে অনেকেই বৈশাখের মূল চেতনা ভুলে যাচ্ছে। শুধু রং পরিবর্তন করে বা বাহ্যিক সাজসজ্জা দিয়ে বৈশাখকে উপস্থাপন করা যথেষ্ট নয়; এর পেছনের ঐতিহ্য, টেক্সটাইল, নকশা ও সাংস্কৃতিক ভাবনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। 

আরও পড়ুন

×