বৈশাখের ফ্যাশনে বিবর্তন
আত্মপরিচয়
চন্দ্রশেখর সাহা
চন্দ্রশেখর সাহা, শিল্পী ও ডিজাইনার
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
পহেলা বৈশাখ বাঙালির আত্মপরিচয়, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচায়ক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উৎসব সর্বজনীন রূপ পেয়েছে। দেশীয় তাঁত, লোকজ মোটিফ, চারুকলার প্রভাব থেকে শুরু করে আধুনিক কাট ও আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড–সব মিলিয়ে বৈশাখী ফ্যাশনে এখন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট। গ্রন্থনা রিক্তা রিচি
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশীয় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা একটু একটু করে শুরু হলো। পহেলা বৈশাখের প্রচলন আগে থেকেই ছিল। পহেলা বৈশাখের কনসেপচুয়াল ফ্যাশন–মানে একটা লোকজ মোটিফ অথবা লোক-সাবজেক্টকে নিয়ে কীভাবে পহেলা বৈশাখের কাজ করা যায়, সেখানে আমার সংযোগ একদম গোড়া থেকে ছিল। ক্রেতাদের যথেষ্ট সাড়াও পেয়েছি তখন থেকেই। ছায়ানট পহেলা বৈশাখে রমনা বটমূলে অনুষ্ঠান শুরু করে ১৯৬৪ (বাংলা ১৩৭১) সাল থেকে। এরপর থেকে নগরভিত্তিক এবং সর্বজনীন অংশগ্রহণের মাধ্যমে পুরো বিষয়টা উৎসবে পরিণত হয়। এরপর মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয় ১৯৮৯ সাল থেকে। পহেলা বৈশাখ সর্বজনীন হতে মঙ্গল শোভাযাত্রার ভূমিকা আছে। তার চেয়ে বেশি ভূমিকা আছে ছায়ানটের। মঙ্গল শোভাযাত্রা যখন ইউনেস্কো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেল, সেটিও আমাদের জন্য গৌরবের ছিল। এর মাধ্যমেই ধীরে ধীরে শহর-গ্রাম সব জায়গায় বৈশাখের উদযাপন ছড়িয়ে পড়ল।
আমি আশির দশক থেকে কাজ করছি। তার আগে থেকেই তাঁতিরা ভাবতেন। তখন মূলত তাঁতের শাড়ি ছিল। নানা এমবেলিশমেন্ট, স্ক্রিন, মোটিফ নিয়ে কাজ করা ইত্যাদি ব্যাপকভাবে ছিল না। আমরা শুরু করার পর সবাই বিষয়টাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করল এবং ডিজাইনাররাও এগিয়ে এলো; এবং চারুকলা থেকে পড়াশোনা করে যারা বের হলো তারাও শুরু করল। বৈশাখের পোশাকে লাল ও সাদা রঙের প্রাধান্য কেন, তার সঠিক ইতিহাস কোথাও লেখা নেই; তবে ছায়ানটের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই লাল পাড়ে সাদা শাড়ির প্রচলন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে থাকে, যেখানে শান্তিনিকেতনের প্রভাব আছে কিনা হলফ করে বলা যায় না। বৈশাখের প্রধান রং লাল-সাদা হলেও আমরা পোড়া মাটির রং, সবুজ, নীল বা হলুদের বিভিন্ন উজ্জ্বল শেডও ব্যবহার করি। আমি অনেক ধরনের কাজই করেছি এবং মানুষ পছন্দ করেছে।
- বিষয় :
- পহেলা বৈশাখ
