ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কিছু কিছু রাজনৈতিক দল নিজেরাই দেশের মালিক হতে চাইছে: আমীর খসরু

কিছু কিছু রাজনৈতিক দল নিজেরাই দেশের মালিক হতে চাইছে: আমীর খসরু
×

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় কথা বলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ | ১৮:২৮ | আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ | ১৮:৩০

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কিছু কিছু রাজনৈতিক দল নিজেরাই দেশের মালিক হতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করার জন্য গত ১৭ বছর এ দেশের মানুষ ত্যাগ স্বীকার করেছে। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে; কিছু কিছু রাজনৈতিক দল নিজেরাই মালিক হয়ে যেতে চাইছে। আপনারা মালিক হবেন কেন। মালিক তো জনগণ। দলগুলো ঐকমত্যের বাইরে গিয়েও নিজেদের দাবি জোর করে আদায় করার চেষ্টা করছে। অন্য কোনো দাবি থাকলে তা জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে সংসদে আসেন। 

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জনতার ইশতেহার’ ও ‘অনলাইন প্রমিজ ট্র্যাকার’ নামক ওয়েবসাইট ও অ্যাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। পরামর্শক সংস্থা ‘ট্রেস কনসালটেন্সি’ এর আয়োজন করে। 

আমীর খসরু বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর আমরা একটা ঐকমত্যে আসতে পেরেছি, সনদ স্বাক্ষর করেছি। যেহেতু সবার ঐকমত্যে একটা সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেই সনদকে আমাদের সম্মান করতে হবে। তবে এর বাইরেও আমাদের অনেক চিন্তা থাকতে পারে। এই চিন্তাকেও সম্মান করতে হবে। আমরা যেটা ভাবছি না, অন্য রাজনৈতিক ভাবলে তার প্রতি সহনশীল হতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর এটা ভাবতে হবে যে, যতটুকু ঐকমত্য হয়েছে, এর বাইরে গিয়ে নতুন ইস্যু সৃষ্টি করলে তা ঐকমত্যের প্রতি সম্মান জানানো হয় না। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আবার একটা আলোচনা আসছে। হতেই পারে। তবে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ঐকমত্য থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে আমাদের মধ্যে যেন একটা স্বৈরাচারী মনোভাব চলে এসেছে। আমরা মনে করা শুরু করি যে, সনদে আমাদের  দাবি না থাকলে, তা গ্রহণ করা যাবে না। দীর্ঘ আলোচনার পর জুলাই সনদে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নও ঐকমত্যের ভিত্তিতে হবে। সুতরাং ঐকমত্যের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে ঐকমত্যের বাইরে আপনি তখনই যেতে পারবেন, যখন আপনি আপনার যখন আপনি আপনার দাবিগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যেতে পারবেন, তাদের ম্যান্ডেট নিয়ে আসবেন। জুলাই সনদের মধ্যে বিএনপির ৩১ দফার অনেক কিছুই আসেনি। আগামী নির্বাচনে আমরা সেগুলো নিয়ে মানুষের কাছে যাবো। জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিলে তা আমরা বাস্তবায়ন করবো। 

গণভোট নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধানের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। এই সংবিধানকে মাথায় রেখেই এই সরকার শপথ নিয়েছে। এই সংবিধানে গণভোটের বিষয়টি নেই। গণভোট করতে হলে আগামীতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে গিয়ে তা পাস করাতে হবে। 

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল প্রমুখ। এই সেশনের মডারেটর ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাহাব এনাম খান। 

এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘জনতার ইশতেহার’ ও ‘অনলাইন প্রমিজ ট্র্যাকার’র ওয়েবসাইট ও অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘পিপল-ওরিয়েন্টেড অ্যান্ড টেকনোলজি-ড্রিভেন ম্যানিফেস্টো’ শীর্ষক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ট্রেস কনসালটেন্সি সিইও ফুয়াদ মুহাম্মদ খালিদ হোসেন।

আরও পড়ুন

×