রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
চরমোনাই পীরের দলের বর্জনেও বিএনপিকে ভোট দিলেন এমপি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ২২:২০
চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিলেও, দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য (এমপি) মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোট দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা ৫১ মিনিটে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বিবৃতিতে জানান, জুলাই সনদ অনুযায়ী না হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদান থেকে বিরত থাকবে তাদের দল। তবে এর আগেই দলটির এমপি অলিউল্লাহ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ভোট দেন। এরপর ইসলামী আন্দোলনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বিবৃতিটি মুছে ফেলা হয়।
যদিও দলের নেতাদের দাবি, দলীয় আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সিদ্ধান্তে অলিউল্লাহ ভোট দিতে যান। দলটির প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ সমকালকে বলেন, ইসলামী আন্দোলনের এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
দলটির বিবৃতি এবং ভোট দেওয়ার বিষয়ে গাজী আতাউর রহমান ও অলিউল্লাহর বক্তব্য জানতে পারেনি সমকাল। কয়েকবার ফোন করা হলেও সাড়া দেননি। তবে একাধিক নেতা সমকালকে বলেছেন, বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলছেন না।
বৃহস্পতিবার ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত ভোটগ্রহণ করা হয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের। বিএনপির প্রার্থী ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) ওলি আহমদ বীর বিক্রম পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। ভোট দেন ৩৪৩ জন। ভোট দেননি বিএনপির তিন এমপি, জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের গাজী নজরুল ইসলামসহ ৬ জন। বিএনপির এমপির সংখ্যা ২৪৭। দলের বাইরে ইসলামীর আন্দোলনের এমপিসহ ১১ জনের ভোট পেয়েছেন মির্জা ফখরুল।
তিনটা ৫১ মিনিটে বিবৃতিতে গাজী আতাউর রহমান বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
গাজী আতাউর বলেন, ‘বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। সেই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএনপিরও নোট অব ডিসেন্ট ছিল না। এরপরও জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচন না হওয়ায় ভোট দেওয়া সমীচীন মনে করছেন না ইসলামী আন্দোলন।
সনদ না মেনে প্রকাশ্য ব্যালটে নির্বাচনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারী বলে আখ্যা দিয়েছিলেন গাজী আতাউর। মুছে ফেলা বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, ‘৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন তা নিশ্চিত হয়েই আছে। তাহলে এতসব নাটক মঞ্চস্থ করার কি অর্থ আছে? বিএনপি চেয়ারম্যান যার নাম ঘোষণা করবেন তাকেই বঙ্গভবনে নিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দিলেই হতো।’ সনদ অনুযায়ী নির্বাচন নতুনভাবে আয়োজন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
কী কারণে বিবৃতিতে মুছে ফেলা হয়েছে, এ বিষয়ে মুখ খোলেননি ইসলামী আন্দোলনের নেতারা। একাধিক নেতা সমকালকে বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোট দিয়েছেন অলিউল্লাহ। যা স্বীকার করলে আরও বেশি বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে। তাই বলা হচ্ছে, দলীয় আমিরের সিদ্ধান্তে তিনি ভোট দিয়েছেন।
- বিষয় :
- ইসলামী আন্দোলন
- রাষ্ট্রপতি