ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সুরে ভরা শ্রাবণসন্ধ্যা

সুরে ভরা শ্রাবণসন্ধ্যা
×

প্রত্যয় একাডেমির অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীরা সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৫ | ০০:৩৯

‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ ও ‘দাও শৌর্য, দাও ধৈর্য, হে উদারনাথ’– এই দুই গান একত্রে মিলে গেয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন শিল্পীরা। এই গানের সুর রবীন্দ্র-নজরুল বাঙালির দুই প্রাণের কবিকে একতানে বেঁধেছে। এই সম্মিলিত সংগীত যেন এক আত্মিক আহ্বান, সাংস্কৃতিক অভিপ্রায়। এই পরিবেশনার মধ্য দিয়েই পর্দা উঠে এক আবেশ জাগানো সংগীত সন্ধ্যার। এরপর পঙ্কজ দেব অপুর লেখা ও সুব্রত দাশ অনুজের সুরে তৈরি থিম সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা; যা শ্রোতাদের ভেতরে ছড়িয়ে দেয় অনুষ্ঠানের মূল সুরধারা।
গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১ মিনিটে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে হয় সুকণ্ঠ সংগীত বিদ্যার্থী পরিষদের সংগীতানুষ্ঠান। এতে ছিল বিদ্যাপীঠের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত গান। ‘শুদ্ধ সংগীতে চিত্ত হোক বিকশিত’– এই অঙ্গীকার সামনে রেখে আত্মপ্রকাশ করে এই সাংস্কৃতিক সংগঠনটি। 
শুরুতে মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক সুব্রত দাশ অনুজ। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক অরুণ নাথ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সচিব রাতুল বৈদ্য। পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত করে রাখেন আবৃত্তিশিল্পী প্রবীর পাল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক রীতা দত্ত। সম্মানিত অতিথি ছিলেন  বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রামের সংগীত প্রযোজক পাপিয়া আহমেদ ও অধ্যাপক পঙ্কজ দেব অপু। কথামালায় অতিথিরা বলেন, ‘সংগীত কেবল আনন্দের মাধ্যম নয়, এটি আত্মার পরিশুদ্ধি। যারা সংগীতচর্চায় নিবেদিত, তারা কখনও অসুরের সঙ্গে আপস করে না। সংগীত জীবনের সুখ-দুঃখের সঙ্গী। এটি মনকে করে পবিত্র, জীবনকে করে সুরভিত। নৃত্য, সুর বা যন্ত্রের মাধ্যমে সংগীত জীবনে এনে দেয় সৌন্দর্য ও গভীরতা।’ আলোচনা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। যেখানে রবীন্দ্র, নজরুল, লালন, আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গানের একক, দ্বৈত ও ত্রয়ী পরিবেশনা ছিল। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় মহিমা দেব, স্নেহাশ্রী চৌধুরী ও সেঁজুতি দাশের কণ্ঠে দেশের গান ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’ দিয়ে। অতুল প্রসাদের ‘শ্রাবণ ঝুলাতে বাদল রাতে’ গেয়ে শোনান শ্যামলী পাল। নজরুলের ‘চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে’ পরিবেশন করেন জয়শ্রী ধর, অদিতি বিশ্বাস ও অনন্যা চৌধুরী; যা মঞ্চে এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করেন। 
ঊর্বশী চক্রবর্তীর ‘যদি ত্বরিতে বাসনা থাকে’, নিবেচিতা সাহার ‘হেলায় হেলায় দিন বয়ে যায়’ এবং প্রণয় ধরের ‘কে বা জাগে কেবা ঘুমায়’– এই তিনটি আধ্যাত্মিক গান পরিবেশনার সময় শ্রোতারা ভাবনার গভীরে ডুবে যান। আধুনিক ধারার গানে অনিন্দিতা ভট্টাচার্য্য গেয়েছেন ‘ও বারে বারে পোড়া বাঁশি’। নজরুলের ‘শাওন রাতে যদি’ গেয়ে দর্শকদের মনজয় করেন তন্দ্রা সিংহ ও নীলাদ্রি সেনগুপ্ত। প্রিয়ম বিশ্বাস ও ঋতু সাহা ‘তুমি আমার প্রথম সকাল’, কৌশিক দত্ত ও শ্রাবন্তী ধর ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’– গানগুলোয় দারুণ মুগ্ধতা ছড়ান। 
এ ছাড়া প্রমা অবন্তির কণ্ঠে ‘ভুলিতে পারি না তারে’, দীপান্ত ভট্টাচার্য্যের ‘আমার বাংলাদেশের একতারা সুর’, সমাপ্তি বড়ুয়ার ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’, রিন্টু দাশের ‘এমনও তো প্রেম হয়’ এবং রীতিশা চৌধুরীর ‘মেঘ তুমি বৃষ্টিকে বল’ গানগুলো ছিল সুর-বৈচিত্র্যে ভরা। আবৃত্তি  করেন লিটন কান্তি সরকার। সংগীতে যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন, নিখিলেশ বড়ুয়া (কিবোর্ড), রণী চৌধুরী (অক্টপ্যাড), প্রীতম আচার্য্য (তবলা), পলাশ আচার্য্য (ঢোলক), প্রাণেশ্বর ভট্টাচার্য্য (বাঁশি), তন্ময় বড়ুয়া (বেইজ গিটার) এবং বিজয় দাশ (লিড গিটার)।

আরও পড়ুন

×