সংসদ নির্বাচনে উল্টোচিত্রে হতাশ চাকসু নেতারা
বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ৪টি কেন্দ্রেই মীর হেলালের বিজয়
মেহেদী হাসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:৫১
| প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের ভূমিধস বিজয়ের পর জাতীয় নির্বাচনেও জামায়াতে ইসলামী চমক দেওয়া ফলাফল করবে– এমন একটা ধারণা ছিল নেতাকর্মীদের মধ্যে। তবে জাতীয় নির্বাচনের ময়দানে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি দৃশ্যমান হলেও জনপদের লড়াইয়ে তা পেরে উঠেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের চারটি কেন্দ্রে জামায়াত জোটের প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে নিরঙ্কুশ আধিপত্য দেখিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
চার কেন্দ্রে ধানের শীষের দাপট বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ৪টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার ৫০০। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এর মধ্যে প্রায় ৪০০ জন ভোটার সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিটি কেন্দ্রেই জামায়াত জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দিনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভোট পেয়েছেন মীর হেলাল।
সবচেয়ে বড় ব্যবধান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন জোবরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে বিএনপি। এই কেন্দ্রে ৫ হাজার ৭২১ জন ভোটারের বিপরীতে বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩১ ভোট। বিপরীতে জামায়াত জোটের ঝুলিতে পড়েছে মাত্র ৪৫৫ ভোট। একইভাবে ১ নম্বর গেট এলাকার ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ছিল বিএনপির জয়জয়কার। সেখানে ৪ হাজার ৭৮৭ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৪৯৩ জন মীর হেলালকে ভোট দিয়েছেন, যেখানে জামায়াত জোট পেয়েছে মাত্র ৩২০ ভোট।
ক্যাম্পাসে ভেতরের কেন্দ্র গুলোতেও দেখা যায় একই চিত্র, নীপবন শিশু বিদ্যালয়ে ২ হাজার ১১৬ ভোটারের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ৪৮২ ভোট এবং জামায়াত জোট ৩০৫ ভোট। চবি ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজে ১ হাজার ৯৩৮ ভোটারের মধ্যে ধানের শীষের বাক্সে পড়েছে ৪৭৪ ভোট, আর জামায়াত জোট পেয়েছে ২৬৫ ভোট।
ক্যাম্পাসে শিবিরের সাংগঠনিক ভিত থাকলেও জাতীয় নির্বাচনে কেন এমন বিপর্যয় তা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। চবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জাবেদ বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে এলাকায় বড় হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও স্থানীয় রাজনীতির পেক্ষাপট আমার কাছে স্পষ্ট। শিবির মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক রাজনীতি করে। কিন্তু বিএনপি অনেক বড় সংগঠন। তারা এলাকা কেন্দ্রিক রাজনীতিতে জামায়াত-শিবির থেকে বহুগুণ এগিয়ে। তাদের এমন পরাজয় হবে এটা নির্বাচনের আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল।’
স্থানীয় ভোটার ও ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নয়ন হোসেন বলেন, ‘ক্যাম্পাসের রাজনীতি আর জাতীয় রাজনীতি এক নয়। সাধারণ মানুষ শিবিরের ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি পছন্দ করলেও ব্যালট বক্সে তারা একটি বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম খুঁজছিল। জামায়াত মূলত স্বজনপ্রীতি করে কিন্তু এই জায়গা বিএনপি সাধারণ জনগণের পক্ষে কাজ করে এজন্য তারা বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে। বিগত ১ বছরে যারা এলাকার সাধারণ মানুষ পাশে দাড়িয়েছিল, জনগণ তাদেরকে ভোট দিয়েছে।’
স্থানীয় ভোটার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাটহাজারী সদরের সাবেক সভাপতি ও একাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী শরীফ সাদমান শাহরিয়ার সমকালকে বলেন, ‘আমাদের হয়তো মাথ পর্যায়ে পরিকল্পনা আরও ভালো হতে পারতো। সেটা আমাদের হয়নি। তারপরে জোটের জন্য অনেকগুলো আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যেগুলোতে জামায়াতের প্রার্থী হলে আরও ভালো ফলাফল আসতে পারতো।’
- বিষয় :
- চাকসু
