বন্ধ হয়ে গেল দুর্গম কালাপানির বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি
মিরসরাইয়ের সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকা কালাপানির একমাত্র বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসংখ্য শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে সমকাল
বিপুল দাশ, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৭:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
বই ও অর্থ সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কালাপানি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের ১৩০ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, কালাপানির পাহাড়ি এলাকায় সরকারি কোনো বিদ্যালয় না থাকায় সেখানে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে ছিল। এই পরিস্থিতিতে ২০১৯ সালে নিজ অর্থায়নে ‘কালাপানি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন। তিনি শিক্ষার্থীদের বই সরবরাহ ও শিক্ষকদের বেতনসহ যাবতীয় খরচও বহন করতেন।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রতিষ্ঠাতা এনায়েত হোসেন নয়ন এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা কোনোভাবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু রাখেন। চলতি বছর সরকারি বই না পাওয়া এবং অর্থ সংকটের কারণে অবশেষে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, কালাপানি এলাকায় প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৩০ শিক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৩০, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৬, তৃতীয় শ্রেণিতে ২৩, চতুর্থ শ্রেণিতে ২৪ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ২৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করত।
বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কেউ কেউ তিন কিলোমিটার দূরের বালুটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পক্ষে এত দূর যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বিজলী ত্রিপুরার বড় ভাই রিপন ত্রিপুরা বলেন, ‘পাড়ার মধ্যে একটি বিদ্যালয় থাকায় শিশুরা উপকৃত হয়েছিল। কিন্তু এখন মিরসরাইয়ের করেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বা ফটিকছড়ির বালুটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে যথাক্রমে প্রায় ৮ ও ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এত দূরে গিয়ে ছোট শিশুদের পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব।’
কালাপানি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় ত্রিপুরা বলেন, ‘বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষকরা অন্যত্র চাকরি নিয়েছেন। গত বছর পুরোনো বই দিয়ে কোনোভাবে পাঠদান চালানো হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর তা আর সম্ভব হয়নি। তাই বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হয়েছে। আমরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সহসভাপতি গোবিন্দ ত্রিপুরা বলেন, ‘অর্থ, শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণের সংকটের মধ্যেও বিদ্যালয়টি চালু ছিল। কিন্তু সরকারি বই না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুর হক বলেন, ‘কালাপানি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাদের কাছে যেসব বিদ্যালয় বইয়ের চাহিদা দিয়েছে, সেগুলোতে বই সরবরাহ করা হয়েছে। তারপরও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’
- বিষয় :
- বিদ্যালয়
