ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এবার পাকিস্তানি পোশাকের দাপট

এবার পাকিস্তানি পোশাকের দাপট
×

নগরীর অভিজাত মার্কেট কোহিনুর সিটির একটি দোকানে পোশাকের পসরা সমকাল

 তৌফিকুল ইসলাম বাবর

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

কয়েক বছর আগেও ঈদ পোশাকের বাজারে ছিল ভারতের দাপট। ভারতীয় টেলিভিশনের বিভিন্ন জনপ্রিয় সিরিয়ালে অভিনেত্রীদের পরা নানা নামের পোশাক নজর কাড়তো ঈদের বাজারে। কিন্তু এবার   সেই একচ্ছত্র আধিপত্য নেই বললেই চলে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের পরবর্তিত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ের পর দেশের পোশাকের বাজারেও তার বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। চট্টগ্রামের শপিংমলগুলোতে ভারতীয় পোশাককে পেছনে ফেলে পাকিস্তানি পোশাক তরুণ-তরুণীদের নজর কাড়ছে। আগানূর, বিন সাঈদ, ফার্সি, মারিয়া, সাতরাহা, কারিজমা ও হোসনেআরার মতো ব্র্যান্ডগুলোর অর্গানজা ত্রি-পিস, লেহেঙ্গা, গাউন ও সুতি কাজের পোশাকের চাহিদা তুঙ্গে।

এনবিআরের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে দেশে ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৯ পিস মেয়েদের পোশাক আমদানি হয়েছে। আমদানি করা হয়েছে- ভারত, পাকিস্তান, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ ১১টি দেশ থেকে। পাকিস্তান থেকে এসেছে মোট পোশাকের প্রায় ৬৭ শতাংশ। ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২৮ শতাংশ। ভিসা জটিলতাসহ নানা কারণে ব্যবসায়ীরা পাকিস্তানের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে। 
চলতি গত বছরের জুলাই থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১১টি দেশ থেকে নারীদের পোশাক আমদানি হয়েছে। এরমধ্যে পাকিস্তান থেকে এসেছে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৯৫৩ পিস। যা মোট অমদানির প্রায় ৬৭ শতাংশ। আর ভারত থেকে এসেছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২২৬ পিস। যা মোট আমদানির ২৮ শতাংশ।
এদিকে জনপ্রিয়তার সুযোগে পাকিস্তানের পোশাকের নকল হচ্ছে। এতে অনেকেই প্রতারিতও হচ্ছেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে এ ধরনের প্রতারণার দায়ে জরিমানা করছে।

নগরীর কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ভারতীয় পোশাকের দাপট কিছুটা কমে আসলেও জনপ্রিয়তা একেবারে কমে গেছে- এমনটা বলা যাবে না। নতুনত্বের কারণে পাকিস্তানের পোশাকে আগ্রহ বেশি থাকলেও ভারতীয় কারচুপি, জারদোসি ও হাতের কাজ করা পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের বেশ আগ্রহ রয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরীতে এবার নতুন সংযোজন দামপাড়ার কোহিনুর সিটি। এছাড়াও স্যানমার ওশান সিটি, ফিনলে স্কয়ার, বালি-আর্কেড, নিউ মার্কেটসহ ছোট-বড় সব শপিংমলে নারীদের পোশাকের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে পাকিস্তানি ও ভারতীয় পোশাক। স্যানমারওসান সিটি মার্কেটে সুপার নুর ফ্যাশনের একজন বিক্রেতা জানিয়েছেন, আগের বছরগুলোতে ভারতের পোশাকের জনপ্রিয়তা ও চাহিদা- দুটোই ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও এবার তাতে ভাগ বসিয়েছে পাকিস্তানি পোশাক। ফারসি, মারিয়া, সাতরাহা, কারিজমা ও হোসনেআরাসহ হরেক নামের নামের পোশাক বেশ চলছে। এসব পোশাক ভারি চুমকি ও এমব্রয়ডারির কাজ করা। এছাড়া ভারতীয় পোশাকের মধ্যে কারচুপি, জারদোসি ও হাতের কাজ করা পোশাকেওক্রেতাদের আগ্রহ রয়েছে। তিন হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা দামের পোশাক বেশি বেচাকেনা হচ্ছে। 
সারমারে পোশাক কিনতে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আলমাস কানিজ সমকালকে বলেন, ‘অনেক বছর ঈদে আমরা ভারতীয় পোশাক কিনেছি। এবার পাকিস্তানের পোশাকের সম্ভার বেশ ভালো। ডিজাইনেও নতুনত্ব রয়েছে। তাই এবার পাকিস্তানের পোশাকই কিনেছি। তবে দাম কিছুটা বেশি।’

নগরীর বহদ্দারহাট মোড়ে ফিনলে শপিং মলের তিন তলায় রয়েছে নারীদের পোশাকের বড় সমাহার। এই মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা গৃহবধু আরিয়ান জাহান বলেন, ‘এবার দুটি পোশাক কিনেছি। একটি ভারী কাজের। অন্যটি সুতির। ভারী কাজ করা পোশাকটি পাকিস্তানের। সুতির কাপড়টি দেশী। পাকিস্তানের ত্রি-পিচগুলোর রঙ ও ডিজাইন বেশ সুন্দর। পাকিস্তানের পোশাকে ভারী কাজ করা থাকলেও দাম অনেকটা ভারতীয় পোশাকের মতোই।’
কোহিনুর সিটি সেন্টারের আঁচল ফ্যাশনের বিক্রয়কর্মী রায়হান আহমেদ জানান, জারারা, ফারসি, সারারা, অর্গানজা ত্রি-পিস এবারের ঈদে মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। তবে এবার অনেকটাই পাকিস্তানের পোশাকে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন নারীরা। 

আরও পড়ুন

×