সাধ্যের মধ্যে স্বস্তির কেনাকাটা
কম দামে ঈদের কেনাকাটা করা যায় ফুটপাতে, তাই ক্রেতার ভিড়। নিউমার্কেট মোড় থেকে তোলা ছবি মো. রাশেদ
শৈবাল আচার্য্য
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
কেনাকাটায় নিম্নবিত্তের মানুষের ভরসা ফুটপাত, মধ্যবিত্তের জন্য জহুর হকার্স মার্কেট ও। সাধ্যের মধ্যে স্বস্তির ঈদের কেনাকাটা করতে সেখানে ছুটছেন মানুষ। ফুটপাতের ক্রেতাদের কথা, ফুটপাতারে ৪০০ টাকার একটি পোশাক অভিজাত মার্কেটে বিক্রি হয় কয়েকগুণ দামে। বিক্রেতাদের কথা–‘যারা চিনেন তারাই আমাদের পণ্য কিনেন’। ভাসমান ‘ফুটপাত না থাকলে আমরা ঈদও করতে পারতাম না’- এমনও বলছেন অনেকেই। নগরের দুই নম্বর গেট, নিউমার্কেট, রেয়াজউদ্দিন বাজার, তামাকুমন্ডি লেন, আগ্রাবাদ, চকবাজার, জিইসি মোড়, ষোলশহর, বহদ্দারহাট, অলংকার, স্টেশন রোড, হালিশহর, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ভাসমান ফুটপাতে জমজমাট চলছে ঈদের কেনাকাটা।
গত শুক্রবার জহুর হকার্স মার্কেটের প্রবেশ মুখে দেখা গেল জনস্রোত। ভেতরে একটি দোকানে পরিবার নিয়ে কেনাোটা করছিলেন চাকরিজীবী আকমল হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিপণি বিতান কিংবা শপিং সেন্টারে যাওয়া আমাদের মতো মধ্যবিত্তের পক্ষে অসম্ভব। তাই জহুর হকার্স মার্কেট থেকেই কেনাকাটা সারছি। এখানে কম দামে পছন্দের পোশাক কেনার সুযোগ রয়েছে। চার হাজার টাকায় পুরো পরিবারের ঈদের কেনাকাটা করতে পেরেছি।’
নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতে কথা হয় আকলিমা জান্নাতের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় এক পা ভেঙ্গে তিনবছর ধরে ঘরবন্দী স্বামী। অন্যের বাসায় কাজ করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে হয় আমাকে। তাই ফুটপাতই আমার ভরসা।’ দিনমজুর মো. আবু হোসেন বলেন, ‘সাহস করে জহুর হকার্স মার্কেটের পাশে থাকা নিউ মার্কেটে পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে একেকটি পোশাকের দাম চাইছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। তাই হকার্স মার্কেটে ছুটে এসেছি। কম টাকায় দুই ছেলের জন্য কেনাকাটা করেছি। এখন মেয়ের জন্য পছন্দের পোশাকটি খুঁজছি।’
দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে আগ্রাবাদের ফুটপাতে কেনাকাটা করছিলেন চাকরিজীবী পপি বেগম। তিনি বলেন, ‘ফুটপাত আমার মতো অনেক নিম্ন-মধ্যবিত্তদের স্বস্তির ঠিকানা। কেননা এখানে কম টাকায় খুব ভালো ও পছন্দের পোশাকটি কেনা যায়। যে পোশাকটির দাম এখানে ৪০০ টাকা, সেটি অভিজাত মার্কেটে হাঁকানো হয় প্রায় দিগুণ। কয়েক বছর ধরে পুরো পরিবারের ঈদের কেনাকাটা করছি এই ফুটপাত থেকেই।’
জহুর হকার্স মার্কেটের মধ্যভাগে যেতেই হঠাৎ কানে আসে-চাই লো বাছি লো একদাম ১০০ টাকা। টি-শার্ট ও গেঞ্জি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ টাকায়। চারপাশে ভিড় করেছেন ক্রেতারা। একটি
বেসরকারি কলেজে অধ্যয়রত শিক্ষার্থী আকবর হোসেন বলেন, ‘দাম ১০০ টাকা বলে পণ্যটি যে খারাপ তা কিন্তু নয়। দোকান থেকে দুটি গেঞ্জি কিনেছি ৪০০ টাকায়। একই গেঞ্জি মার্কেট থেকে নিতে গুণতে হতো ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা।’ বিক্রেতা মামুন হোসেন বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে প্রচুর ক্রেতার সমাগম হচ্ছে এখানে। কম টাকায় পছন্দের পোশাকটি যাতে কিনতে পারে সেজন্য সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দাম কম হলেও মান কিন্তু খুব ভালো। যারা চিনেন তারাই আমাদের পণ্য কিনেন। আর এ কারণেই অনেকেই কম দামে ভালো জিনিসটি কিনতে অনেক দূর থেকেও এখানে ছুটে আসেন।’
মার্কেটের শেষভাগের বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘চলতি সপ্তাহ থেকে প্রতিদিনই মার্কেটে অতিরিক্ত ক্রেতার সমাগম ঘটছে। সামান্য লাভে এখানকার ব্যবসায়ীরা ঈদের পোশাক বিক্রি করেন। সাধ্যের মধ্যে দাম হওয়ায় পছন্দের কেনাকাটা করে মার্কেট ত্যাগ করতে পারছেন ক্রেতারা।’
জহুর হকার্স ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. জালাল উদ্দিন, ‘‘বাজারটি পুরনো হলেও এখানে কম টাকায় ভালো পোশাক কেনা সম্ভব। ঈদকে কেন্দ্র করে এবার নানান রঙের ও ডিজাইনের পোশাক তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে মধ্যরাত পর্যন্ত সরগরম থাকছে পুরো মার্কেট ও আশপাশের ভাসমান ফুটপাত বাজার। বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি বিক্রেতারাও।’
ব্যবসায়ী সমিতির আরেক নেতা মো. মোজাম্মেল বলেন, ‘দিন ও রাতের বেশিরভাগ সময় এখন ক্রেতার ভিড়ে সরগরম থাকছে। সামান্য লাভের আশায় এবার অনেকেই নতুন করে বিনিয়োগ করেছে। নিম্ন-মধ্যবিত্তরাই হকার্স ও ফুটপাতের প্রধান ক্রেতা।’
- বিষয় :
- কেনাকাটা
