ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দাবি হান্নানের

জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি  উদ্ভাবনের দাবি হান্নানের
×

হান্নানের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে প্রায় ৩০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় হতে পারে সমকাল

 ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৬:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

১৫ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় জ্বালানি সাশ্রয়ী এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন ফেনীর তরুণ আব্দুল হান্নান। তার দাবি, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে দেশে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব, যা বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখতে পারে।

সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের ধোনসাদ্দাহ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান নিজ উদ্যোগে দীর্ঘদিন গবেষণা চালিয়ে এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। তিনি জানান, তার উদ্ভাবিত পদ্ধতি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগে পরীক্ষিত হয়েছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক মূল্যায়ন পেয়েছে। পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয় থেকেও স্বীকৃতি মিলেছে। বর্তমানে তিনি পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছেন।

উদ্ভাবকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেখানে ০.৪৮৩ গ্রাম জ্বালানি খরচ হয়, সেখানে তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে খরচ হয় মাত্র ০.৩৫৭ গ্রাম। অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে প্রায় ০.১২৬ গ্রাম জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ২৬ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ের ইঙ্গিত দেয়। এই হিসাব অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োগ করা গেলে বছরে প্রায় ২৬ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয় হতে পারে বলে দাবি তার।
তবে সম্ভাবনাময় এই উদ্ভাবন বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হিসেবে সামনে এসেছে আর্থিক ও কারিগরি সীমাবদ্ধতা। আব্দুল হান্নান জানান, উচ্চতর গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, গবেষণাগার, আধুনিক যন্ত্রপাতি কিংবা দক্ষ প্রযুক্তিবিদের সহায়তা– কোনোটিই তার নাগালের মধ্যে নেই। তিনি বলেন, ‘২০০০ সালে এইচএসসি পরীক্ষার পর থেকেই জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা শুরু করি। এরপর ধীরে ধীরে গবেষণা চালিয়ে এই প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করি। সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে এই প্রযুক্তি দেশ-বিদেশে কাজে লাগানো সম্ভব।’
১৯৮৪ সালে জন্ম নেওয়া আব্দুল হান্নান আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারেননি। ২০০১ সালে স্থানীয় ধোনসাদ্দাহ বাজারে ‘মিল্লাত কম্পিউটার অ্যান্ড ফটোকপি’ নামে একটি ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেই দোকানে কাজ করার পাশাপাশি নিজের চিন্তা ও উদ্ভাবন নিয়ে কাজ চালিয়ে যান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন একটি উদ্ভাবনের খবর তাদের জন্য গর্বের। সরকার উদ্যোগ নিলে দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘এক তরুণের জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের বিষয়টি শুনেছি। উদ্ভাবনী যে কোনো উদ্যোগকে আমরা উৎসাহ দিতে চাই। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে এর কার্যকারিতা ও সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয়ভাবে এটি কাজে লাগানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।’
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এহসান বলেন, এটা জ্বালানি সাশ্রয় কিছু না। জ্বালানি সাশ্রয় হবে এটা উনি দাবি করেন। আব্দুল হান্নান দুটি জিনিস কম্পেয়ার করেছেন। একটা জিনিসের কোয়লিটি ভালো, অন্যটির খারাপ। ভালো কোয়লিটিরটা ভালো ফল দেয়। খারাপ কোয়ালিটির যন্ত্রে জ্বালানি বেশি অনেক বেশি লাগে। এখানে নতুন আবিষ্কারের কিছু নেই। তবুও তার চেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই।'
 

আরও পড়ুন

×