ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

উদ্বোধনের পর থেকে অচল তাঁত কারখানা

উদ্বোধনের পর থেকে অচল তাঁত কারখানা
×

 ইকবাল হোসেন মনজু, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) 

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৭:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রিপুরা পাড়া টিলার ওপর একটি টিনশেড ঘরের ভেতরে সারিবদ্ধভাবে পড়ে আছে আটটি তাঁত ও কাপড় তৈরির ভারী যন্ত্র। যন্ত্রে জমেছে ধুলো, ধরেছে মরিচা। একটি মেশিনে এখনও অর্ধেক তৈরি কাপড় আটকে রয়েছে। তবে বর্তমানে সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম বা শ্রমিকের কোনো উপস্থিতি নেই। স্থানীয়রা জানান, ২০২০ সালে উদ্বোধনের সময় তাঁতযন্ত্র চালানো হয়েছে মাত্র। এরপর আর কেউ তা ছুঁয়েও দেখেননি।
ফটিকছড়ির ভূজপুর ইউনিয়নের খৈয়াছড়া চা-বাগানসংলগ্ন বালিধন ত্রিপুরা পাড়ার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নে চালু করা তাঁত কারখানাটি উদ্বোধনের পর থেকে বন্ধ। কারখানায় রয়েছে আটটি তাঁত ও কাপড় তৈরির ভারী যন্ত্র। প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি ছয় বছর ধরে অচল। প্রশিক্ষণ ও সহায়তার অভাবে উপকারভোগীরা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের দায়সারা মনোভাব ও জবাবদিহির অভাবে প্রকল্পটি এখন সরকারি অর্থ অপচয়ের উদাহারণ হয়েছে। 
স্থানীয় বাসিন্দা হৃদয় ত্রিপুরা জানান, প্রকল্প চালুর সময় কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও স্বাবলম্বী জীবনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে প্রশিক্ষণ তো দূরের কথা, কোনো লোকজনই আসেনি। ফলে প্রথম দিন থেকেই প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ বরাদ্দ থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। উদ্বোধন করেন তৎকালীন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছিলেন মো. সায়েদুল আরেফিন।
জানা যায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। পরিচালনার জন্য স্থানীয়ভাবে একটি কমিটিও করা হয়েছিল। তবে করোনা মহামারির কারণে প্রকল্পটির কার্যক্রম থমকে যায়।
প্রায় দুই মাস চেষ্টা করেও উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক নাম, ব্যয় বিবরণী, প্রকল্প প্রস্তাব বা কোন সরকারি দপ্তরের অধীনে এটি বাস্তবায়িত হয়েছিল, তার কোনো নথি পাওয়া যায়নি। এমনকি বর্তমান উপজেলা প্রশাসনের কাছেও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দপ্তরের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। জানতে চাইলে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী শিপন প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ে ফুলকুমার নামের এক ব্যক্তির কথা বলেন। পরে ফুলকুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি শুরু থেকেই পরিকল্পনাহীন ছিল। এটি মূলত উদ্বোধন দেখানোর জন্যই করা হয়েছিল। বাস্তবায়নের আগে ছিল না কোনো চাহিদা যাচাই, দক্ষতা উন্নয়ন কিংবা বাজার সংযোগের পরিকল্পনা। ফলে যাঁদের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল, সেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ কোনো সুফল পাননি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে শুধু ফিতা কাটা হয়েছে। এরপর আর কেউ ফিরেও তাকাননি। এখন লাখ লাখ টাকার মেশিন নষ্ট হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পটি এখনো সচল করা সম্ভব। এতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘অতিরিক্ত বরাদ্দ এনে প্রকল্পটি সচল করা যায় কি না, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 

আরও পড়ুন

×