সাক্ষাৎকার : অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন
ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া জনবল নিয়োগ সম্ভব নয়
অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন
অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), চবি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৭:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
সমকাল: মেডিকেল সেন্টার থেকে ২০২৫ সালে জনবল, চিকিৎসক, ড্রাইভার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছিল। এক বছরেও সেসব সমস্যার সমাধান হলো না কেন?
অধ্যাপক কামাল উদ্দিন: বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন। মেডিকেল সেন্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জনবল সংকট নিরসনে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) লিখেছি। আমাদের মাস্টারপ্ল্যান ও অর্গানোগ্রামে প্রয়োজনীয় বাজেটের প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। ইউজিসির অনুমোদন পেলেই নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে জনবল নিয়োগের সুযোগ নেই। সরঞ্জামের ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন মেরামত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত কাজের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। নতুন মেশিনের চাহিদা এসেছে, সেটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রতিটি কাজের নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে, সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগোতে হচ্ছে।
সমকাল: জরুরি বিভাগে মাত্র একজন ড্রেসার রয়েছেন, চিকিৎসক নেই। অ্যাম্বুলেন্স চালকদেরও সংকট রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা বিপদে পড়লে দায় কে নেবে?
অধ্যাপক কামাল উদ্দিন: এটি শুধু মেডিকেল সেন্টারের নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা। সম্প্রতি একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়েছে। কিন্তু যানবাহন বাড়লেই সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালক নিয়োগ দেয় না। ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া অস্থায়ী নিয়োগও দেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে বিদ্যমান চালকদের রোটেশন ও ওভারটাইমের মাধ্যমে সেবা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক সংকট নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনজন নতুন চিকিৎসক নিয়োগ পেয়েছেন। মিনি অপারেশন থিয়েটার ও ফিজিওথেরাপি সেবাও চালু হয়েছে। অনুমোদিত শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে।
সমকাল: চিফ মেডিকেল অফিসার বলছেন, শুধু চিঠি চালাচালিতে সমাধান হবে না; প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
অধ্যাপক কামাল উদ্দিন: চিফ মেডিকেল অফিসারও একজন প্রশাসনিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি। মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দায়িত্ব শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নয়, তাঁরও রয়েছে। তিনি চাইলে ইউজিসি কিংবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত চিকিৎসক আনার উদ্যোগ নিতে পারেন। আমরা তাঁকে সে দায়িত্ব দিয়েছি। আগে চিফ মেডিকেল অফিসারের পদটি স্থায়ী ছিল না, আমাদের উদ্যোগে সেটি স্থায়ী করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। উপাচার্যের পরিদর্শনে অনুপস্থিতদের শোকজ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ক্যাম্পাসে অবস্থান নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সময়মতো পদোন্নতির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় সেবার মান ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে।
সমকাল: প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য এই প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা কতটা যথেষ্ট? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
অধ্যাপক কামাল উদ্দিন: বাস্তবতা হলো, বর্তমান সেবা একেবারেই যথেষ্ট নয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শহর থেকে অনেকটা দূরে অবস্থিত। এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা যথেষ্ট হতে পারে না। জরুরি পরিস্থিতিতে এখনও নগরীর হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা কাম্য নয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মেডিকেল সেন্টারকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একার পক্ষে এ ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এজন্য সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
- বিষয় :
- সাক্ষাৎকার
