ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ফটিকছড়ি উপজেলা হাসপাতাল

স্বাভাবিক প্রসবে অনন্য সাফল্য

স্বাভাবিক প্রসবে অনন্য সাফল্য
×

উপজেলা হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবে সন্তান জন্ম দেওয়া মায়েরা সমকাল

 ইকবাল হোসেন মঞ্জু, ফটিকছড়ি  

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৭:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৮২৮ জন নবজাতকের। ২০২৫ সালে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৩ হাজার ৯৩১টি। গত পাঁচ বছরে এ হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবে জন্ম হয়েছে প্রায় ১৯ হাজার শিশুর।
স্বাভাবিক প্রসবের এই সাফল্য ফটিকছড়ি উপজেলা হাসপাতালের। প্রসূতি সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য এই হাসপাতাল জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। অস্ত্রোপচার ছাড়াই স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সুস্থ সন্তান জন্মদান করতে পেরে দারুণ খুশি প্রসূতি মা ও তার স্বজনরা। এতে সন্তান জন্মদানে সরকারি হাসপাতালের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে স্থানীয়দের।
চিকিৎসরা জানান, গত সপ্তাহে একদিনে (২৪ ঘণ্টা) স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম হয়েছে ১৭টি শিশু। মা ও নবজাতক সুস্থ থাকায় ইতোমধ্যে তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম জানান, গত ১০ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত ১০ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে ৮৭টি নবজাতক। 
বৃহস্পতিবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া মা ও তাদের স্বজনরা নবজাতকদের নিয়ে একে একে বাড়ি ফিরছেন। এ সময় তারা হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিকতা, দক্ষতা এবং নিরাপদ মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। চিকিৎসাসেবার মান নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। 
নাজিরহাট পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘স্ত্রীকে নিয়ে গত রাতে হাসপাতালে এসেছিলাম। শুরুতে খুব ভয়ে ছিলাম। তবে চিকিৎসকদের সার্বিক সহযোগিতায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে আমাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম হয়েছে। মা ও সন্তান দুজনেই সুস্থ আছে। হাসপাতালের ভালো সেবায় আমরা খুবই সন্তুষ্ট।’
প্রসূতি বিভাগের নার্সিং সুপারভাইজার কৃষ্ণা প্রভাত দেবী বলেন, ‘হাসপাতালে আমরা প্রসূতি সেবা, অ্যান্টেনাটাল কেয়ার (প্রসব-পূর্ব সেবা হলো গর্ভাবস্থায় মা ও গর্ভস্থ শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার চিকিৎসা সেবা), পোস্টনাটাল কেয়ার (সন্তান জন্মের পর থেকে পরবর্তী ছয় সপ্তাহ বা ৪২ দিন পর্যন্ত মা ও নবজাতকের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যবেক্ষণ) এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সিজারিয়ান সেবাও প্রদান করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘একদিনে ২১টি শিশুর জন্ম হওয়ার মতো ঘটনাও রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের সময় মোমবাতির আলোয়ও প্রসূতি মায়েদের সেবা দিতে হয়েছে। নবজাতকদের কোনো সমস্যা দেখা দিলে শিশু বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। নিরাপদ মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।’
হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য কনসালট্যান্ট ডা. মো. জয়নাল আবেদীন মুহুরী বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় জন্ম নেওয়া ১৭টি নবজাতককেই আমি পর্যবেক্ষণ করেছি। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, সবগুলো শিশুই সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে গেছে। সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ায় এই সফলতা এসেছে। আমরা সেবার মান বজায় রাখলে ভবিষ্যতে স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম বলেন, ‘উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসক, সেবিকাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিক প্রসবে উন্নত সেবা দিয়ে আসছেন। প্রসূতি সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় এ হাসপাতাল জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারও অর্জন করেছে। আমরা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন

×