ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

রাউজানের ফারিকুল সেতুর দুই প্রান্তে কাঠামো দৃশ্যমান, মাঝখানে ফাঁকা

রাউজানের ফারিকুল  সেতুর দুই প্রান্তে কাঠামো দৃশ্যমান, মাঝখানে ফাঁকা
×

রাউজানের হদের খালের ওপর ফারিকুল সেতুর মাঝখানের অংশ এখনো ফাঁকা সমকাল

 প্রদীপ শীল, রাউজান (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৭:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল রাউজানের কর্ণফুলী নদীর শাখা খালের ওপর নির্মিত ফারিকুল সেতু। সেটি প্রায় তিন দশক পর ২০২১ সালে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ৫ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। সেতুর দুই প্রান্তে কাঠামো দৃশ্যমান হলেও মাঝখানের অংশ ফাঁকা পড়ে আছে। ফলে চার ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০২১ সালে সেতু নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০২২ সালের শেষ দিকে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৭ টাকা ব্যয়ে যৌথভাবে কাজ পায় ‘এ দিদার আলী ও মাজেদা জেবি এন্টারপ্রাইজ’। ২০২৩ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেতুটি এখনও অসমাপ্ত।
রাউজানের পাহাড়তলী, পূর্বগুজরা, বাগোয়ান ও কদলপুর ইউনিয়নের সংযোগস্থলে হদের খালের ওপর অবস্থিত ফারিকুল সেতুটি চার ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা। স্থানীয়দের মতে, ১৮০ ফুটের বেশি দৈর্ঘ্যের সেতুটি চালু হলে অন্তত ৮ থেকে ১০টি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাশেম চৌধুরী ও মো. সাইফুদ্দিন বলেন, ‘একের পর এক সরকার বদলালেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কাজ শেষের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা অনিতা বড়ুয়া বলেন, ‘সেতুর মাঝখানের মাটি নরম হওয়ায় কাজ আটকে আছে বলে শুনছি। কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তির যুগে এমন অজুহাত মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হলে একটি আঞ্চলিক সেতুর কাজ কেন বছরের পর বছর ঝুলে থাকবে?’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম সমকালকে বলেন, ‘সেতুর মাঝখানের অংশে মাটির স্তর অত্যন্ত নরম হওয়ায় মূল নকশায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী মাটির গভীরে পাইপ পাইলিং করে অতিরিক্ত সাপোর্ট দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ইতোমধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।’ তিনি জানান, নকশা পরিবর্তনের কারণে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হবে। আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করবে।
তবে কবে নাগাদ সেতুর কাজ শেষ হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা আরও বাড়ছে।

আরও পড়ুন

×