ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ভোটের হাওয়া : বারবাকিয়া ইউনিয়ন

বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের কৌশলী প্রচার

বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য  প্রার্থীদের কৌশলী প্রচার
×

বারবাকিয়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি নেতা ইকবাল হোসাইনের গণসংযোগ (বামে), সদস্য প্রার্থী ফরহাদ হোছাইনের কুশল বিনিময় সমকাল

 হিরু আলম, পেকুয়া (কক্সবাজার)

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৭:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু না হলেও গ্রামেগঞ্জে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আলোচনায় সরব বিভিন্ন বাজার ও স্টেশনের দোকানগুলো। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার দুই মাস পর থেকেই চায়ের টেবিলে ঝড় তুলছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আলোচনা। কেউ কেউ স্থানীয় জনগণের ‘দোয়া প্রত্যাশী’ বলে পোস্টারও সাঁটিয়েছেন। সরাসরি প্রচারণায় না থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিয়ে, মেজবানসহ কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বাদ দিচ্ছেন না। সবখানে তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে এবং সেখানে কৌশলে তারা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। 
পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের অন্তত ১১টি গ্রাম ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। পেকুয়ার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন ছিল বারবাকিয়া। ১৯৯১ সালে বারবাকিয়া থেকে আলাদা হয়ে দক্ষিণের জনপদ নিয়ে টৈটং ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়।  ২০০২ সালে পূর্বের পাহাড়ি জনপদ নিয়ে গঠিত হয় শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদ। বর্তমানে বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আয়তন ১৪.৭০ বর্গকিলোমিটার।
এখানে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জামায়াত, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাদের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও এনসিপির তেমন কোনো তৎপরতা নেই বারবাকিয়ায়। ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী থাকবে না হিসাব করেই আগাচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ভোট টানার আগাম চেষ্টা করছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা মাওলানা এএইচএম বদিউল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম আবুল কাশেম, উপজেলা  বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল সিকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জেডএম হাসান দ্দৌলা মিনার, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফরহাদ হোছাইন, বিএনপি সমর্থক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলমগীর, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট তামিম প্রমুখ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পেকুয়ার সাত ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটির নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। যাদের অপসারণ করা হয় তারা সবাই আওয়ামী সমর্থিত চেয়ারম্যান ছিলেন। বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএইচএম বদিউল আলম জামায়াত সমর্থিত হওয়ায় তিনি বহাল থাকেন। তিনি তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। সৎ হিসেবে তাঁর পরিচিতি আছে। তবে বিচার-সালিশে তাঁর অদক্ষতার কথা বলেন মানুষ। জানতে চাইলে বদিউল আলম বলেন, ‘এবারের ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণের প্রচুর চাপ রয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে হয়তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও করতে পারি।’
সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন। এলাকায় প্রকাশ্যে গণসংযোগও করছেন তিনি। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ইকবাল হোছাইন দুই দশক ধরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি একাধিকবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গেছেন। তবে সামনে তার জয় নিশ্চিত বলে ধারণা করছেন তার সমর্থকেরা। কারণ এবার তার মাথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছায়া রয়েছে। 
ইকবাল হোছাইন বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমদ এখানকার আপামর জনগণের নেতা। ইউপি নির্বাচন নির্দলীয় হলেও তার (সালাহ উদ্দিন আহমদ) সমর্থন একটা বড় ফ্যাক্টর। উন্নয়নের স্বার্থে এবার মানুষ আমাকেই বেছে নেবেন।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম আবুল কাশেম প্রকাশ্যে গণসংযোগে নেই। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে এলাকায় দেখা যায়নি। তবে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে তিনবার নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। জিএম আবুল কাশেম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময়ই নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ কখনও বিরোধিতা করেছে– এ প্রশ্ন কেউ তুলতে পারবে না। আমি নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনবার নির্বাচন করেছি। এর মধ্যে দুবার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিতও হয়েছিলাম। কিন্তু নিয়তি আমার পক্ষে ছিল না; ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দুবার আমার ফলাফল হাইজ্যাক করা হয়েছে। এখন বয়স হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতাও দিন দিন বাড়ছে। এ কারণে নির্বাচন করব কিনা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে দলের হাইকমান্ড থেকে যদি কোনো নির্দেশনা পাই, তাহলে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

ছাত্র ও যুব সমাজে জনপ্রিয়তা রয়েছে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফরহাদ হোছাইনের। তিনি বলেন, ‘অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা নির্বাচন করবেন বলে শুনছি। আমিও দীর্ঘদিন ধরে নেতা-কর্মী ও জনগণের সাথে থেকে মাঠে-ময়দানে কাজ করছি। নির্বাচন করতে এলাকাবাসীর তীব্র চাপ রয়েছে। আমাদের নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি তা মাথা পেতে নিব। তাঁর বাইরে আমার কোনো সিদ্ধান্ত নেই।’
সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু জাফরের ছেলে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলমগীর তিন বছর ধরে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। গরিব ঘরের মেয়ের বিয়ে ও সামাজিক নানা সমস্যায় মানুষের পাশে আছেন তিনি। মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘আমি অবশ্যই নির্বাচন করব। এ লক্ষ্যে গত তিন বছর ধরে মাঠে ময়দানে কাজ করছি। এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে আমার পা পড়েনি। বাকিটা আল্লাহর ওপর ভরসা।’
তরুণ ভোটার শাহাদাত কবির বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে রাখতে চান। তিনি বলেন, ‘যিনি জনগণের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন, আধুনিক ও কার্যকর চিন্তাধারা নিয়ে কাজ করবেন এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবের-এমন একজন চেয়ারম্যান চাই।’
ইউনিয়নের ভারুয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা সঠিক, যোগ্য ও কর্মঠ ব্যক্তিই হবে চেয়ারম্যান। যিনি প্রত্যেকটা কাজকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন। এক্ষেত্রে আমি তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেব। তারা বর্তমান যুগের পালস বুঝেন।’


 

আরও পড়ুন

×