ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আনোয়ারায় ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ ধসে গেছে ব্লক

আনোয়ারায় ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ ধসে গেছে ব্লক
×

পাহাড়ি ঢলে ধসে গেছে শঙ্খ নদীর সিসি ব্লক, হাইলধর এলাকা থেকে তোলা ছবি সমকাল

 নেজাম উদ্দিন, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) 

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ০৭:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়ন এলাকায় শঙ্খ নদীতে নতুন করে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পর নদীতীর রক্ষায় স্থাপন করা সিসি ব্লকের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ছে। এতে ভাঙন তীব্র হয়েছে; নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বেড়িবাঁধ ও নদীতীরবর্তী বসতবাড়িও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আনোয়ারা উপবিভাগের কার্যসহকারী রিপন দাশ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। চানখালী থেকে বারখাইন পর্যন্ত এলাকায় উন্নতমানের বালু থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হয়েছে। এর প্রভাবেই নদীতীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে।’
সম্প্রতি সরেজমিন হাইলধর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ইছাখালী ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়া সড়কের মাথা থেকে ফকিরহাট সড়কের মাথা পর্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীতীরের বিভিন্ন স্থানে সিসি ব্লক সরে গিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও নদীর তীব্র স্রোতে ব্লক ধসে পড়ছে। এতে তীরবর্তী কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে বেড়িবাঁধ ও আশপাশের বসতবাড়িও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে সিসি ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে নদীভাঙন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শঙ্খ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এর প্রভাবেই নদীতীরে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শেয়ার আলী বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙন বাড়ছে। নদীতীর রক্ষার জন্য বসানো ব্লক সরে যাওয়ায় পার ধসে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বেড়িবাঁধ ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ সাইদুর রহমান তানভীর বলেন, ‘ব্লক স্থাপনের পর দীর্ঘদিন এলাকাবাসী নদীভাঙনের শঙ্কামুক্ত ছিলেন। কিন্তু কিছু অসাধু চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।’
আনোয়ারা উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শনের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হবে।’
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা বলেন, ‘প্রশাসন নিয়মিতভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালুমহালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। শঙ্খ নদীর মোহনাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা এবং বালু জব্দ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে ।’

আরও পড়ুন

×