ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

দুবাই থেকে বিশেষ ফ্লাইট ফিরছে শনিবার, উৎকণ্ঠায় আটকে পড়া প্রবাসীরা

দুবাই থেকে বিশেষ ফ্লাইট ফিরছে শনিবার, উৎকণ্ঠায় আটকে পড়া প্রবাসীরা
×

ফাইল ছবি

কামরুল হাসান জনি, ইউএই

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২০ | ০৯:৩০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে শেষবারের জন্য দেখতে ব্যাকুল ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দুবাই প্রবাসী ফরহাদ মাহমুদ। দিকবিদিক ঘুরে অবশেষে দেশে ফেরার জন্য একটি বিমান টিকেটও পেলেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার দেশে ফেরার কথা তার।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশ বিমানের ৭৮৭ বিশেষ ফ্লাইটটি শনিবার দুপুর একটায় দুবাই থেকে দেশে ফেরার কথা ফরহাদের। তবে বৃহস্পতিবার রাতেই তার কাছে খবর এলো বৃদ্ধ বাবা আর বেঁচে নেই। বাবার মৃত্যুর খবরে তার দেশে ফেরার শত চেষ্টা আর তোড়জোড় মলিন হয়ে গেল।

ফরহাদের মত দেশে ফেরার আকুতি অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশির। করোনাভাইসারের প্রভাবে আটকে গেছে তাদের আকাশ পথে স্বাভাবিক চলাচল। কর্মহীন দিন কাটছে কারো কারো। কেউ আটকে পড়েছেন মাস তিনেকের ভ্রমণে গিয়ে। কোনো কোনো প্রবাসী পরিবারে রয়েছে গর্ভবতী নারী, শিশু ও অসুস্থ বাবা-মা। আবার কেউ কেউ দেশটিতে দেয়া কারোনাকালীন সময়ে জরিমানা বিহীন দেশে ফেরার বিশেষ সুযোগ নিতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। কেউবা আত্মীয় পরিবারে সান্নিধ্য পেতে দেশে ফিরতে চান।

আবুধাবি প্রবাসী চট্টগ্রামের দীল মোহাম্মদ সমকালকে জানান, তার স্ত্রী শারীরিক অসুস্থ। আমিরাতে সন্তান জন্মের আগে বা গর্ভকালীন নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে পরবর্তীতে ব্যয়বহুল চিকিৎসা ভার নিতে অক্ষম তিনি। দ্রুত স্ত্রীকে দেশে পাঠাতে পারলে কিছুটা চাপ মুক্ত হতে পারবেন। শুধু স্ত্রী নয় বিপাকে পড়েছেন ছোট ভাইকে নিয়েও। ভ্রমণ ভিসা নিয়ে দেশটিতে যাবার পর তিন মাসের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তার। দ্বিতীয়বার ভিসার মেয়াদ বাড়ালেও করোনা প্রার্দুভাবে কর্মহীন এখন সে। নিজের বেসিক বেতন দিয়ে স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের বাসা ভাড়া, খাবার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিমাসেই বাড়ছে ঋণের বোঝা।

আজমান প্রবাসী কেরানীগঞ্জের শেখ রবিন আনোয়ার সমকালকে জানান, করোনার কারণে তার কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ। ২১জন শ্রমিকের কাজ নেই। তাদের বেতন দেওয়া নিয়ে তিনি চিন্তিত। লকডাউনের পূর্বে কিছু শ্রমিকের টিকেট করা হলেও আকাশ পথে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তাদের থাকা খাওয়ার জিম্মা নিতে হয়েছে। তার ওপর স্ত্রী গর্ভবর্তী। জুন মাসের মধ্যেই স্ত্রীকে দেশে পাঠাতে হবে। অন্যথায় দেশটিতে সন্তান জন্ম দিতে গেলে লম্বা ঝামেলায় পড়তে হবে তাদের।
এদিকে কভিড-১৯ এর প্রার্দুভাব শুরু হলে ১৯ মার্চ থেকে যাত্রীবাহী সকল ফ্লাইট স্থগিত করে দেয়া দেশটি। তবে করোনারকালীন পরিস্থিতিতেও অনুমতি নিয়ে ৭টি বিশেষ ফ্লাইটে প্রায় দেড় হাজার যাত্রী দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন। সর্বশেষ শনিবার বাংলাদেশ বিমানের ৭৮৭ ফ্লাইটটি ২৬০জন যাত্রী নিয়ে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানের সকল ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুবাইয়ের রিজিওনাল ম্যানেজার দিলীপ কুমার চৌধুরী। 
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুবাইয়ের রিজিওনাল ম্যানেজার দিলীপ কুমার চৌধুরী বলেন, ‘আপাতত ৩০ জুন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশ বিমানের কোনো ফ্লাইট পরিচালিত হবে না। তবুও ফ্লাইট দেয়ার জন্য ঢাকার আছে আবেদন করেছি। বিষয়টি সরকারি সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। সরকারিভাবে চাইলে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব।’

আবুধাবি দূতাবাসের দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেড়াতে এসে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিক, পরিবারের সদস্য (নারী-শিশু) অসুস্থ ব্যক্তি এবং অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশি যারা করোনাকালীন বিশেষ ক্ষমার সুযোগ নিয়ে দেশে ফিরতে চান তারা পাসপোর্ট-ভিসার কপি এবং ফোন নম্বর সহ দূতাবাসের ই-মেইল এ আবেদন করতে পারবেন।

আরও পড়ুন

×