ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

জামিন পাননি সন্দেহভাজন খুনি হাসপিল

ফাহিম হত্যা মামলার প্রমাণগুলো অপ্রতিরোধ্য

ফাহিম হত্যা মামলার প্রমাণগুলো অপ্রতিরোধ্য
×

খুনের ঘটনায় গ্রেফতার টাইরিস হাসপিলকে আদালতে নেওয়া হয়

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২০ | ২১:২৬

নিউইয়র্কের টেক সিইও ও বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী টাইরিস হাসপিলকে জামিন দেয়নি ম্যানহাটানের আদালত। শনিবার বিচারক জোনাথন সভেটকি তাকে হাজতে রাখা এবং ১৭ আগস্ট পুনরায় আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

১৪ জুলাই মঙ্গলবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটন একটি অভিজাত এলাকার নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ফাহিম সালেহ’র ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী হাসপিলকে। একইদিনে তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ দায়ের করা হয়।

নিউইয়র্ক সময় শুক্রবার মধ্যরাতে ম্যানহাটনের ক্রিমিনাল কোর্টে হাসপিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সময় ম্যানহাটনের অ্যাসিসট্যান্ট ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি লিন্ডা ফোর্ড জানান, টাইরিস হাসপিলকে দোষী প্রমাণের জন্য ‘পর্যাপ্ত আলামত’ পাওয়া গেছে। সার্ভিলেন্স ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ দেখে এসব আলামত শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে হত্যার দিন এলিভেটরে সার্ভিলেন্স ক্যামেরায় যে পোশাকে হাসপিলকে দেখা গিয়েছেল তা উদ্ধার করেছে পুলিশ। অ্যাসিসট্যান্ট ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি লিন্ডা ফোর্ড বলেন, 'এই মামলায় প্রমাণগুলো অপ্রতিরোধ্য।'

এক সংবাদ সম্মেলনে নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রধান ডিটেকটিভ রডনি হ্যারিসন সাংবাদিকদের বলেন, ফাহিমের অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিষয়গুলো তদারকি করতো সন্দেহভাজন হাসপিল। এখন পর্যন্ত পাওয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য থেকে জানা গেছে, ২১ বছর বয়সী হাসপিল ফাহিমের ১ লাখ ডলার চুরি করেছিল। এর বাইরেও ফাহিম তার কাছে আরও অনেক ডলার পেতেন।

শুক্রবার দুপুরে এনওয়াইপিডি'র গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান রডনি হ্যারিসন জানান, ‘চুরি করা অর্থের পাশাপাশি হাসপিল আরও বড় অঙ্কের অর্থ ভুক্তভোগীর থেকে ধার নিয়েছিল বলে আমরা ধারণা করছি।’

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপিল লং আইসল্যান্ড হাইস্কুল থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন। তবে ডেইলি নিউজ বলছে, সেই গ্রাজুয়েশন শেষ করতে পারেনি হাসপিল। ফাহিমের সঙ্গে তিনি কাজ করার সুযোগ পান একটি প্রতিযোগিতা থেকে।

প্রতিবেদনে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, হাসপিল হত্যাকাণ্ডকে এমনভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন যাতে মনে হয় এটি কোনো পেশাদার খুনির কাজ এবং আন্তর্জাতিক যোগসূত্র রয়েছে। 

গোয়েন্দাদের ধারণা, ১৬ বছর থেকে ফাহিমের সঙ্গে কাজ শুরু করেন হাসপিল। ধীরে ধীরে ফাহিমের কিছু আর্থিক ও ব্যক্তিগত বিষয় দেখাশোনা শুরু করেন। ব্যক্তিগত বিষয়ের মধ্যে নিহতের কুকুরের দেখাশোনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফাহিম তাকে যথেষ্ট পরিমাণ মজুরি দিতেন। ফলে হাসপিল তার পরিবারের অনেকের ঋণ শোধ করতে পেরেছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনা সম্পর্কে অবগত ৩ জন কর্মকর্তা তাদের জানিয়েছেন, ফাহিমের কাছ থেকে আগে ৯০ হাজার ডলার চুরি করেছিলেন হাসপিল। ফাহিম তখন তাকে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। বরং হাসপিল যেন কিস্তিতে টাকাটা ফেরত দিতে পারেন, তার পথ বাতলে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে পুলিশকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, গোয়েন্দারা ফাহিমের ফোনে পাওয়া একটা টেক্সট মেসেজে এই টাকা চুরির ব্যাপারটি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর হাসপিলের ওপর নজরদারি শুরু করে।

আরও পড়ুন

×